/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/06/kiff-2025-kolkata-international-film-festival-losing-cinema-spirit-2025-11-06-14-58-16.jpg)
সিনেমার শহরেই সিনেমার অভাব! কী হচ্ছে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে?-পার্থ পাল
kolkata international film festival 2025: বাঙালির মাসে তেরো পার্বণ। এই পার্বণের অন্যতম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। শীতের আমেজ আসতেই কলকাতার আকাশে যেন সিনেমার গন্ধ মিশে যায় (Bengali Cinema)। রাসবিহারী থেকে নন্দন, সাউথ সিটি থেকে স্টার থিয়েটার , সর্বত্র একটাই সুর, “চলচ্চিত্র উৎসব এসেছে!” পোস্টার, ব্যানার, আর নন্দনের ভিড় দেখে বোঝা যায়, শহরটা তখন সিনেমাপ্রেমে এতটুকুও ঘাটতি নেই। কিন্তু এই সিনেমা প্রেম আর আনন্দ ভিড়ের মাঝেই ক্রমে একটা প্রশ্ন মাথা তোলে, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF) কি সত্যিই নতুন কিছু দিচ্ছে? নাকি প্রতি বছর ওই একই একই পুরোনো রুটিনে চলছে উৎসবের চাকচিক্য? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আজকের এই সহজ বিশ্লেষণ।
আরও পড়ুন- 'দিদিকে ধন্যবাদ', বলেই KIFF-এ না থাকার খবর দিলেন সৌমিতৃষা
ফিরে দেখা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথম দিন
১৯৯৫ সালে পথচলা শুরু কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (Kolkata Film Festival)। এর নেপথ্যে ছিলেন সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেনের মতো মহারথীদের অনুপ্রেরণা। যে উদ্দেশ্য নিয়ে চলচ্চিত্র উৎসবের সূচনা তা হল, বিশ্বমানের ভালো সিনেমা যেন এই শহরের দর্শকদের কাছে পৌঁছে যায়। প্রথম দিকে এই উৎসব ছিল একেবারে সিনেমাকেন্দ্রিক, তারকাদের গ্ল্যামার নয়, বরং সিনেমার শিল্পই ছিল মুখ্য। দর্শকরা নতুন ভাষা, নতুন দেশের গল্প দেখতে পেতেন, আর পরিচালকরা পেতেন নিজেদের সিনেমা নিয়ে সরাসরি কথা বলার সুযোগ।
বছরের পর বছর একঘেয়েমি
বছর কেটে গিয়েছে, উৎসব বড় হয়েছে, কিন্তু কাঠামোটা প্রায় একই রয়ে গিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, তারকাদের উপস্থিতি, কয়েকটি নির্বাচিত সিনেমা প্রদর্শন, তারপর পুরস্কার, একই নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা। যেন রুটিন মুখস্থ। এমনকি উদ্বোধনের চিত্রনাট্যও যেন প্রতি বছর এক। এক রাজনৈতিক নেতা বা মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চে উঠছেন, পাশে তারকা, সামনে ক্যামেরা। দর্শকরা ছবি তুলছেন, সংবাদমাধ্যমে আলোড়ন, বলিউডের নামজাদা তারকা। এসবের মাঝে সিনেমার আলোচনা কোথাও যেন হারিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন- জীতু হাসপাতালে ভর্তি হতেই নম্বর কমল 'চিরদিনই তুমি যে আমার'-এর, শীর্ষস্থানে কামাল কোন মেগার?
গ্ল্যামার বেশি সিনেমা কম
অনেকে মনে করেন বিশেষ করে বাম ঘরানার মানুষরা। এই উৎসব মানেই ছিল সিনেমার উৎসব। এখন সেটা অনেকটাই “তারকার উৎসব”-এ পরিণত হয়েছে।
লাল গালিচায় কারা এলেন, কে কী পোশাক পরলেন, কে কাকে জড়িয়ে ধরলেন, এসব নিয়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সিনেমার শিল্প, ভাষা, ভাবনা, এসব যেন আড়ালে চলে গিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এখন উৎসবের উদ্দেশ্য “দর্শকদের ভালো সিনেমা দেখানো”র চেয়ে “রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা”ই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সিনেমা নির্বাচনে কোথাও নতুন কিছুর অভাব আছে
চলচ্চিত্র উৎসবের প্রাণ হলো সিনেমা নির্বাচন। কিন্তু এখানেই দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বড় ঘাটতি। কলকাতা উৎসবে যে সিনেমাগুলো দেখানো হয়, তার বেশিরভাগই আগে কোনও আন্তর্জাতিক উৎসবে দেখানো হয়েছে। যা নিয়ে আগেই আলোচনা হয়েছে। বা হচ্ছে। ফলে কলকাতার দর্শকরা খুব কমই এমন কোনো সিনেমা দেখতে পান, যা বিশ্বে প্রথমবার এখানেই দেখানো হচ্ছে। এতে উৎসবের নিজস্বতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক মর্যাদা থাকলেও সৃষ্টিশীল দিক থেকে উৎসবটা পিছিয়ে পড়ছে।
প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের ছবি নেই
বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতির সম্পর্ক অতি গভীর। দুই বাংলার সিনেমা, সংগীত, সাহিত্য—সব কিছুতেই মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, টানা দু’ বছর অর্থাৎ ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের কোনো সিনেমা জায়গা পায়নি। এটা শুধু দুঃখজনক নয়, ভীষণ কষ্টেরও এক অর্থে সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতাও বটে। দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্র-সংযোগ যদি সত্যিই আন্তর্জাতিক উৎসবের অংশ হয়, তবে প্রতিবেশী দেশের অংশগ্রহণ তো জরুরি।
আরও পড়ুন- চেনেন এই পাখিকে? ঠোঁট নয়, পা দিয়ে মেরে ফেলে সাপকে!
রাজনীতি এবং স্বচ্ছতার অভাব রয়ে গিয়েছে
KIFF সরাসরি রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়, তাই রাজনীতির ছোঁয়া এখানে থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবুও অভিযোগ, সিনেমা নির্বাচনে ও পুরস্কার নির্ধারণে সবসময় নিরপেক্ষতা বজায় থাকে না।
অনেকেই মনে করেন, উৎসব কমিটি ঝুঁকি নিতে চায় না, বরং ‘নিরাপদ’, চেনা সিনেমাগুলোকেই প্রাধান্য দেয়। ফলে নতুন পরিচালকদের জন্য বা পরীক্ষামূলক সিনেমার জন্য দরজা প্রায় বন্ধ।
এত কিছুর পরেও চলচ্চিত্র উৎসব আবেগের উৎসব
সবকিছুই যে নেতিবাচক, তা নয়। এখনো এই উৎসবে এমন কিছু উদ্যোগ আছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ দেশ ফোকাস, প্রতি বছর একটি দেশকে কেন্দ্র করে সেই দেশের সিনেমা দেখানো হয়।
ওয়ার্কশপ ও আলোচনা সভা, নতুন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের জন্য পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা ছবি তৈরির কৌশল নিয়ে কর্মশালা। এটি ভবিষ্যতের সিনেমা পরিচালকদের অনুপ্রেরণা যোগায়।
উত্তম কুমারের “সপ্তপদী” বা “নায়ক” এর মতো ক্লাসিক ছবিগুলোর রিস্টোরেশন করে বড় পর্দায় দেখানো হয়। এটি সিনেমার ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক অসাধারণ উদ্যোগ।
আরও পড়ুন-ক্যানসার কেড়ে নিল প্রাণ, জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে হেরে গেলেন KGF খ্যাত অভিনেতা
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us