/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/04/sp-venkatesh-2026-02-04-10-17-53.jpg)
চলে গেলেন সুরকার
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ মঙ্গলবার এক বিশিষ্ট সঙ্গীত ব্যক্তিত্বকে হারাল। জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক এস পি ভেঙ্কটেশ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চেন্নাইয়ে নিজের বাসভবনে প্রয়াত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। চলচ্চিত্র জগতের একটি সূত্র এই দুঃখজনক খবর নিশ্চিত করেছে। তাঁর প্রয়াণে মালয়ালম-সহ দক্ষিণ ভারতের একাধিক ভাষার চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এস পি ভেঙ্কটেশ তাঁর প্রাণবন্ত সুর, আবেগঘন গান এবং শক্তিশালী ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের মাধ্যমে দর্শক ও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে এসেছেন। তাঁর সঙ্গীত ছিল গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ- যা দৃশ্যকে আরও গভীর ও স্মরণীয় করে তুলত। এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর কথায়, “ভেঙ্কটেশের সুর শুধু শোনা যেত না, অনুভব করা যেত।”
Arijit Singh-Aamir Khan: মেগাস্টার আমির খানের হঠাৎ সফর, জিয়াগঞ্জে বাড়ল কৌতূহল, ঘিরে ধরলেন ভক্তরা
১৯৫৫ সালের ৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন এস পি ভেঙ্কটেশ। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত ম্যান্ডোলিন বাদক পাঝানির পুত্র। সঙ্গীত তাঁর জীবনে উত্তরাধিকার সূত্রেই আসে। ১৯৭১ সালে তিনি সঙ্গীত পরিচালক বিজয় ভাস্করের সঙ্গে সিনেমায় গিটার বাদক হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু করেন। ধীরে ধীরে কন্নড়, তেলুগু, তামিল ও মালয়ালম- চারটি ভাষার চলচ্চিত্রেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন দক্ষ ও বহুমুখী সুরকার হিসেবে।
মালয়ালম চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৮৫ সালে ‘জনকিয়া কোডাথি’ ছবির মাধ্যমে। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে তিনি স্মরণীয় গান উপহার দেন। ‘ভূমিইল রাজাক্কানমার’, ‘ভাঝিয়োরা কাজচাকাল’, ‘ইন্দ্রজালাম’, ‘নাদোদি’, ‘মনথ্রিকম’, ‘কিলুক্কাম’, ‘মিন্নারাম’, ‘স্ফাদিকাম’ এবং ‘জনি ওয়াকার’- এই ছবিগুলির গান আজও শ্রোতাদের মনে গেঁথে রয়েছে।
Rajinikanth: সততার নজির গড়ে রজনীকান্তের কাছ থেকে বহুমুল্য উপহার পেলেন সাফাই কর্মী
তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৩ সালে ‘পৈত্রুকম’ ও ‘জনম’ ছবির জন্য তিনি কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা সঙ্গীত পরিচালকের সম্মান পান। যদিও তাঁর প্রধান কাজ মালয়ালম ছবিতেই, তামিল চলচ্চিত্রেও তিনি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালের ‘পুভুক্কুল বুকাম্বাম’ ছবির মাধ্যমে তামিলে আত্মপ্রকাশের পর ‘এঙ্গা ভেট্টু মাপ্পিল্লাই’-এর মতো ছবিতে জনপ্রিয় গান রচনা করেন।
এমনকি হিন্দি চলচ্চিত্রেও তাঁর অবদান কম নয়। ‘কিয়ো কি’, ‘হাঙ্গামা’, ‘বিরাসত’, ‘গড়দিশ’ ও ‘মেরা দিল তেরে লিয়ে’-এর মতো ছবিতে তাঁর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর প্রশংসিত হয়েছে।
এস পি ভেঙ্কটেশের প্রয়াণে এক যুগের অবসান ঘটল বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। তাঁর সুর, তাঁর কাজ—চিরকাল বেঁচে থাকবে ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতের ইতিহাসে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us