/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/26/noname-2025-12-26-22-10-50.png)
কেমন হল এই ছবি?
এই ধরাধামে তাঁর ইচ্ছে ব্যতীত কিছুই সম্ভব না। জগন্নাথ তিনি সর্বদা তাঁর ভক্তদের দিকেই চেয়ে থাকেন। তাঁকে দেখতে, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পৌঁছন পুরী ধামের প্রাঙ্গণে। আর তাঁর সবথেকে প্রিয় যে ভক্ত - যিনি তাঁকে এক পলক না দেখলেও মনের মণিকোঠায় তাঁকে স্থান দিয়েছেন প্রতিটি প্রহরের নানা মুহূর্তে, সেই শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাখেলা এবং বিশেষ করে তাঁর অন্তর্ধান নিয়েই সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন পরিবেশন ' লহ গৌরাঙ্গের নাম রে..'।
তবে, এই ছবি দেখলে একটা প্রশ্ন বেশ জাগে? কেন? তাঁর অন্তর্ধান রহস্যে নানা থিওরিতে ঠাসা। কেউ বলে, তিনি উড়িষ্যা রাজন বিদ্যাপতির নির্দেশে খুন হয়েছেন। কেউ বলেন, তিনি শ্রী জগন্নাথের মাঝেই বিলীন হয়েছেন। আবার কেউ বলেন, তিনি নাকি নিজেই হরে কৃষ্ণ নামে সমুদ্র মিলিয়ে গিয়েছেন। তবে, সেই থিওরির কোনটা ঠিক আর কোনটি মিথ্যে, তাঁর কুল কিনারা নেই। পরিচালক নিজেও তাঁর ছবিতে এই থিওরির বাইরে বেরোতে পারেননি। নদের নিমাই, নবদ্বীপ ধাম থেকে ঈশ্বরপ্রেমে মাতোয়ারা হয়ে ছুটে গিয়েছিলেন শ্রী ধাম পুরীতে। সেখানে দীর্ঘকালীন গম্ভীরা ভবনে ছিল তাঁর বাস। তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল, ভালবাসা এবং কৃষ্ণনাম এবং প্রেম ছড়িয়ে দেওয়া। যেন পুরীর আঙিনা রক্তপাত - যুদ্ধকে সরিয়ে জীবন বাঁচার আনন্দে মোহিত হতে পারে।
/indian-express-bangla/media/post_attachments/428d8c6c-f89.png)
ছবিকে তিনটি সাব প্লটে ভাগ করেছেন। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর সময়কালীন, দ্বিতীয় যখন গিরিশ ঘোষ এবং নটি বিনোদিনী একের পর এক তাঁর লীলাখেলা নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করছেন, এবং তৃতীয় বর্তমান সময়ে, যেখানে রাই ( ইশা ) এবং পার্থ ( ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত ) তাঁদের নতুন ছবি যা মহাপ্রভুকে নিয়েই, তাঁর শুটিং করছেন। এই তিনটি সাবপ্লটের প্রতিটা চরিত্রই কালের নিয়মে গিয়ে পৌঁছেছেন পুরী ধামে। শ্রী মহাপ্রভুর অন্তর্ধান রহস্য খুঁজতে সমুদ্রতটে হাজির। এবং সকলের উদ্দেশ্য একই তাঁর অন্তর্ধান নাকি তিরোধান সেই রহস্য খুঁজে বের করা। তবে, পরিচালক সাহেব একটি প্রশ্ন জিইয়ে রেখে দিলেন। এই ধরাধামে যে কৃষ্ণনাম ভজে, তাঁকেই কি নিজের কাজ ফেলে চলে যেতে হয়? এমনটাই বোঝাতে চাইলেন? বিনোদিনী দেবীর অপমানে স্টেজ ছেড়ে চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, তিনি মিলিয়ে দিলেন রাইয়ের অধরা এবং অপমানিত জীবনকে।
/indian-express-bangla/media/post_attachments/770ceb95-9c6.png)
কিন্তু, রহস্যের কুল কিনারা হল না। পরিচালক ঠিক করে সাজাতেই পারলেন না। শ্রী চৈতন্যর অন্তর্ধান নাকি তিরোধান - সেই রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে, দর্শক না খেই হারিয়ে ফেলেন। এমন এক স্কলারকে নিয়ে সিনেমা তৈরির ক্ষেত্রে আরও একটু রিসার্চ প্রয়োজন ছিল। কারণ, থিওরিতে কেবলই মিলায় না বস্তু, তর্কে বহুদূর। আশা যাক অভিনেতাদের প্রসঙ্গে।
দিব্যজ্যোতি, শ্রী মহাপ্রভুর ভূমিকায় নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টায় ভালভাবেই পাশ করেছেন। নটি বিনোদিনী হিসেবে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় বেশ ভাল। তাঁকে বাহবা দিতেই হয়। যীশু সেনগুপ্ত রয়েছেন নিত্যানন্দের ভূমিকায়, তিনি এবারেও মার্জিত। সুজন মুখোপাধ্যায় কিংবা উড়িষ্যার মহারাজের চরিত্রে দেবদূত ঘোষ - অভিনয়ে খামতি না থাকলেও দৃশ্যপট বেশ দুর্বল। কারণ, নিমাইকে নিয়ে যে সেভাবে কোনো গল্পই বলা হয়নি এই বাংলার চলচ্চিত্র বিভাগে। কিন্তু পরিচালক যে হচপচ বানিয়ে ফেলেছেন, কিংবা নতুনত্ব সেভাবে নেই বললেই চলে... সেই নিয়ে তর্ক চলবেই।
ছবির নাম: লহ গৌরাঙ্গের নাম রে
পরিচালক: সৃজিত মুখোপাধ্যায়
অভিনয়ে: দিব্যজ্যোতি দত্ত, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু, ইশা সাহা, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত ও অন্যান্য।
রেটিং: ২.৫/৫
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us