/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/01/madhu1-2025-08-01-13-58-07.jpg)
যা গল্প শোনালেন তিনি...
বাংলা সিরিয়ালের ক্ষেত্রে কিছু কিছু চরিত্র সারাজীবন মানুষের মনে থেকে যায়। এরপর সেই অভিনেতা যত ভুমিকায় অভিনয় করুন না কেন, আইকনিক সেই চরিত্র নিয়ে কথা হবেই। বহুদিন বাংলা সিরিয়ালে এমন সব অভিনেত্রী রাজ করেছেন, কিংবা তাদের চরিত্রগুলো জীবন্ত হয়ে উঠেছে, যে দর্শকদের অনেকসময় অভিনেত্রীদের নাম মনে থাকে না, কিন্তু চরিত্রটিকে মনে থাকে। ঠিক তেমন একটি চরিত্র পাখি সিংহ রায়। নামটা চেনা চেনা লাগছে তো? একেবারেই! বাংলায় এমন এক সিরিয়াল অর্থাৎ বোঝেনা সে বোঝেনা- তরুণ প্রজন্মকে আলাদারকমভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
এই ধারাবাহিকে পাখির ভুমিকায় অভিনয় করেছিলেন, মধুমিতা সরকার। আনারকলি সালোয়ার সঙ্গে লম্বা চুল- দুরন্ত পাখি সকলের মন জয় করেছিল। আর আজ এতবছর পর যখন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার তরফে তাঁর কাছে সেই আইকনিক চরিত্র নিয়ে জিজ্ঞেস করা হল, কী বললেন তিনি?
পাখির কোন বিষয়টা বেশি আকর্ষণ করেছিল?
ওর এনার্জিটা। আমায় দারুণভাবে টেনেছিল সেটা। ও খুবই দুষ্টু-দুরন্ত একটা চরিত্রটা। খুব অপ্টিমিস্টিক। ওর জীবনে যা হয়ে যাক, খুব পজেটিভ ও। আমি অনেককিছু শিখেছি ওই চরিত্রটা থেকে।
মধুমিতার সঙ্গে পাখির কোনও মিল?
হ্যাঁ আছে। আমি নিজের সঙ্গে যেটা মেলাতে পারতাম, সেটা হল ও সোজা ভাবে খুব জিনিস দেখে। সহজ সরল পথে জীবনে বাঁচতে ভালবাসত। আমিও তাই। আমি যেকোনও ক্ষেত্রে খুব আশাবাদী। এটা বিশ্বাস করি যে, কেউ যদি ভাল থাকে, সকলের ভাল চায় তবে তাঁর সঙ্গে ভাল হয়। আমি সবসময় এই বিষয়টা মাথায় রেখেছি।
বোঝেনা সে বোঝেনার শুটিং ফ্লোরের কোনও স্মৃতি যেটা আজও মনে আছে?
অসংখ্য! একটা না। অনেকগুলো আছে। আসলে সিরিয়ালের শুটিং তো অনেক বছর ধরে হয়। একটা ইন্সিডেন্ট না, এরকম অনেককিছুই আমরা মনে রেখে দি। আমার ক্ষেত্রে তো অনেক হয়েছে। দুটো বলি...
১) স্কুটি চালানোর সিন ছিল, আমি রাস্তায় শট দেওয়া ছাড়াও রীতিমতো স্কুটি চালাতে শিখেছি। সারা মালদা শহর জুড়ে ঘুরে বেড়িয়েছিলাম। ওই সময় যে লং রাইড, সেটা ভীষণ উপভোগ করেছিলাম।
২) আমার জন্মদিনের দিন শুটিং হচ্ছিল। খালি পায়ে শুট করছিলাম। রাতে হচ্ছিল শুটিং। মানে ১২টা বাজবে, তারপর আমার জন্মদিন। কারেন্টের তারে পা লেগে আমি শক খেলাম। ঠিক ১২টা নাগাদ খেলাম। যদিও প্যাকআপ হয়ে গেছিল পরে।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে পাখি চরিত্রে অভিনয় করতে বললে করবেন?
একটা কথা, পাখি চরিত্রটাকে আমি যতই ভালবাসি না কেন, যে সময় আমি ওই চরিত্রটা করেছিলাম তখন খুব উপভোগ করেছিলাম। তখন আমার জীবন ধারা অন্যরকম ছিল। এখন জীবন দেখার ধরণ অনেকটা পাল্টেছে। তাই, পাখি যদি অন্যরকমভাবে আমার কাছে ফিরে আসে, তাহলে হয়তো ফিরে আসবে।