/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/18/mahua-debolina-2026-01-18-12-26-45.jpg)
দেবলীনা নন্দীর কণ্ঠে মহুয়ার ছায়া!
বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে কিছু তারার আলো খুব অল্প সময়ের জন্য জ্বলে ওঠে, আর সেই আলো এতটাই তীব্র হয় যে তা কখনও ম্লান হয়ে যায় না। মহুয়া রায়চৌধুরী (Mahua Roychowdhury) তেমনই এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। স্বল্প অভিনয় জীবন, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, সৌন্দর্য ও অভিনয়ের জন্য তিনি আজও দর্শকের মনে রয়ে গিয়েছেন। সময় তাঁকে খুব বেশি সুযোগ দেয়নি, কিন্তু যতটুকু সময় তিনি পেয়েছিলেন, তাতেই দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে যেতে পেরেছেন তিনি। তাই আজও তাঁকে নিয়ে আলোচনা থামে না, বরং সময় যত এগোয়, রহস্য আর কৌতূহল ততই গভীর হয়।
শোনা যায়, মৃত্যুর আগে তাঁর হাতে ছিল প্রায় ২২টি ছবির কাজ। তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে মাত্র চারটি ছবির শুটিং শেষ করতে পেরেছিলেন তিনি। সাতটি ছবি ছিল অর্ধসমাপ্ত, আর বাকি ১১টি ছবিতে শুধু সই করেছিলেন। এই পরিসংখ্যানই বোঝায়, তাঁর জনপ্রিয়তা এবং চাহিদা কতটা তুঙ্গে ছিল।
১৯৮৫ সালের ২২ জুলাই, মাত্র ২৭ বছর বয়সে মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবনপ্রদীপ নিভে যায়। আগুনে প্রায় ৮০ শতাংশ দগ্ধ শরীর নিয়ে তিনি চলে যান না-ফেরার দেশে। টলিউড যেন বিশ্বাসই করতে পারেনি, এত অল্প বয়সে, এত সম্ভাবনাময় এক শিল্পীর এমন করুণ পরিণতি হতে পারে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা চলচ্চিত্র জগৎ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছিল অসংখ্য প্রশ্ন, সন্দেহ আর জল্পনা।
মহুয়ার মৃত্যু আজও রহস্যে ঘেরা। এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে ছিল অন্য কোনো অজানা সত্য! এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর আজও মেলেনি। ৪০ বছর পেরিয়েও তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে ধোঁয়াশা কাটেনি। শুধু তাঁর অভিনয় জীবন নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও আজও ভক্তদের কৌতূহলের বিষয়। কে ছিলেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ, কীভাবে কাটত তাঁর দিন, কী স্বপ্ন দেখতেন তিনি এই সব প্রশ্ন যেন আজও বাতাসে ভাসে।
আরও পড়ুন: দুর্গা পুজোয় ম্যাজিক আনছে ‘দেশু ৭’, দিনক্ষণ জানালেন শুভশ্রী
এই প্রেক্ষিতেই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে প্রযোজক রানা সরকারের উদ্যোগ। মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবনকে বড়পর্দায় তুলে ধরার পরিকল্পনা করছেন তিনি। এটা শুধু বায়োপিক নয়, বরং তা এক যুগের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস। এই ছবিতে পরিচালক মহুয়ার জীবন, সংগ্রাম, সাফল্য ও রহস্যময় পরিণতিকে এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা করবে বলেই আশা করছেন দর্শকরা।
ছবিটির আরও একটি বড় আকর্ষণ হতে চলেছে দেবলীনা নন্দীর (Debolina Nandy) গলায় গাওয়া গান। সম্প্রতি আত্মহত্যার চেষ্টা করে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন দেবলীনা, তাঁর কণ্ঠে এই ছবির গান নতুন করে এক গভীর অর্থ বহন করবে। মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবন যেমন ছিল আলো ও অন্ধকারের মিশেলে গড়া, তেমনই দেবলীনা নন্দীর জীবনও সাম্প্রতিক সময়ে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তাই এই দুই জীবনের অদ্ভুত মিল ছবির আবহকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলছে।
ছবির পরিচালক রানা সরকারের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে ইঙ্গিত মিলেছে,
‘এ মন আমার হারিয়ে যায় কোনখানে,
কেউ জানে না শুধু আমার মন জানে...’
এই বিখ্যাত গানটি দেবলীনা নন্দীর কণ্ঠে নতুন করে শোনা যাবে।
আরও পড়ুন: বলিউডে সাম্প্রদায়িকতার ছায়া? এ আর রহমানের মন্তব্যে বিতর্কের ঝড়


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us