/indian-express-bangla/media/media_files/2025/04/08/MBpWrklGUm8C5PkmV7A3.jpg)
কেন এত তাঁকে নিয়ে আলোচনা... Photograph: (file)
বিবাহবিচ্ছেদকে ঘিরে সামাজিক ট্যাবু, ধীরে ধীরে শিথিল হলেও কয়েক বছর আগেও, পরিস্থিতি এতটা সহজ ছিল না। এ কথা অকপটে স্বীকার করেছেন অভিনেতা ও উদ্যোক্তা মালাইকা অরোরা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন স্বামী, অভিনেতা-প্রযোজক আরবাজ খানের সঙ্গে বিচ্ছেদের সময়কার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে মালাইকা জানান, শুধু সমাজের কাছ থেকেই নয়, বরং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের কাছ থেকেও তাঁকে কঠোর বিচারের মুখে পড়তে হয়েছিল।
২০১৬ সালে, আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মালাইকা ও আরবাজ। পরের বছর, ২০১৭-তেই চূড়ান্ত হয় তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে মালাইকা বলেন, “আমাকে আমার প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আমার সুখকে কেন আমি অগ্রাধিকার দিচ্ছি, এটাই যেন অনেকের মানতে অসুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু আজ আমি নিশ্চিন্তে বলতে পারি, আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল থেকেছি এবং তার জন্য আমার কোনও অনুশোচনা নেই।”
রেখার উড়ন্ত চুম্বনে আবেগঘন মুহূর্ত, অমিতাভের নাতি অগস্ত্যর জন্য বিশেষ স্ক্রিনিং ‘ইক্কিস’-এর
ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে তা তিনি জানতেন না, কিন্তু সেই মুহূর্তে নিজের মানসিক শান্তি ও সুখই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। “আমি একা থাকতে ভয় পাইনি। কাজ কমে যেতে পারে, মানুষ কথা বলবে- সব জানতাম। তবু আমি জানতাম, এই সিদ্ধান্তটা নেওয়া আমার জন্য জরুরি,” এমনই বলেন মালাইকা।
একই সঙ্গে তিনি সমাজের দ্বিচারিতার দিকেও আঙুল তোলেন। মালাইকার মতে, পুরুষদের জীবনের একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রায় কোনও প্রশ্ন তোলা হয় না, অথচ নারীদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন বিচার আর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। মালাইকার কথায়, “আমরা পিতৃতান্ত্রিক সমাজে বাস করি। কোনও নারী যদি প্রথাগত ছকের বাইরে যান, সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ‘আদর্শ নারী’ না বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আপনি যদি নিজের জীবন নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারেন, তবে সেটাই সঠিক পথ।"
তবে বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও মালাইকা জানিয়েছেন, তিনি এখনও বিয়েতে বিশ্বাস করেন। যদিও তাঁর মতে, বিয়ে তখনই অর্থপূর্ণ, যখন তা স্বাভাবিকভাবে জীবনে আসে। “আমি বিবাহে বিশ্বাস করি, কিন্তু সেটা যে আবার আমার জীবনে আসতেই হবে- এমনটা নয়। আমি এখন নিজের জীবনে সন্তুষ্ট। ভালোবাসার ধারণায় বিশ্বাস করি এবং ভালোবাসা ভাগ করে নিতে ভালোবাসি। যদি জীবনে আবার আসে, আমি তা গ্রহণ করব। কিন্তু আমি তা খুঁজে বেড়াচ্ছি না।"
শেষে নিজের কমবয়সি সত্তার উদ্দেশে মালাইকার পরামর্শ- খুব অল্প বয়সে বিয়ে না করা। ২৫ বছর বয়সে আরবাজকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। “জীবনটা আগে একটু বাঁচুন। নিজেকে আর্থিক ও মানসিকভাবে স্বাবলম্বী করুন। তারপর স্থির হওয়ার সিদ্ধান্ত নিন,”—এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বার্তা দেন মালাইকা অরোরা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us