/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/18/jayan-2025-11-18-17-32-12.jpg)
চেনেন এই অভিনেতাকে?
মালায়লাম সিনেমার দীর্ঘ ইতিহাসে বাস্তবধর্মী গল্পই বেশি প্রাধান্য পেয়েছিল। সাধারণ মানুষের জীবন, সমাজ, রাজনীতি, সম্পর্ক, সংগ্রাম- এই ধাঁচেই বানানো হচ্ছিল ছবি। অ্যাকশন ছিল, কিন্তু তা কখনও সিনেমার কেন্দ্রবিন্দু ছিল না। এই ধারাকে আমূল বদলে দিয়েছিলেন এক ব্যক্তি- তাঁর নাম জয়ন। যাকে আজও মালয়ালি দর্শকরা প্রথম সত্যিকারের অ্যাকশন আইকন হিসেবে মনে রাখেন।
১৯৩৯ সালের ২৫ জুলাই কোল্লামে জন্ম হয় তাঁর। এম কৃষ্ণন নায়ার ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা, সংগীত এবং খেলাধুলায় পারদর্শী ছিলেন। স্কুলে এনসিসির ‘বেস্ট ক্যাডেট’ নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সরাসরি ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন। ১৫ বছর সেবা করে ‘মাস্টার চিফ পেটি অফিসার’ পদে অবসর নেন। এরপর ভাগ্যের মোড় ঘুরল সিনেমায়। তাঁর খুড়তুতো ভাই, জনপ্রিয় অভিনেতা জয়ভারতির হাত ধরেই তিনি প্রবেশ করেন সিনেমায়। নাম নিলেন ‘জয়ন’।
S S Rajamouli: নাস্তিক দাবি করেও ভগবান হনুমানকে দোষ! রাজামৌলির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
১৯৭৪ সালের শাপামোক্ষম—এ প্রথম দেখা যায় তাঁকে। শুরুতে ছোট চরিত্র পেলেও তাঁর সুঠাম দেহ, দম্ভভরা উপস্থিতি, দৃঢ় চোখ, আলাদা সংলাপ বলার ধরন, কয়েক দিনের মধ্যেই দর্শকের মন জয় করে নেয়। পঞ্চমী (১৯৭৬)-ছবির পর তিনি আর পেছনে তাকাননি। নায়ক, খলনায়ক, হাস্যরসাত্মক- সব ধরনের চরিত্রেই তিনি নিজের দাপট দেখান। কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিচয় পান তাঁর দুর্দান্ত অ্যাকশন দক্ষতার জন্য। নিজের স্টান্ট তিনি নিজেই করতেন, ঝুঁকি নিতে কখনও পিছপা হতেন না।
১৯৭৯ সালের সরপঞ্চরাম তাঁকে সুপারস্টারডমের শীর্ষে পৌঁছে দেয়। অর্ধনগ্ন জয়নের তেলমাখা শরীরে, আইকনিক দৃশ্য মালয়ালি দর্শকের মানসিকতায় ঝড় তোলে। তিনি হয়ে ওঠেন নতুন পুরুষত্বের প্রতীক, অ্যাকশন-হিরো সংস্কৃতির জন্মদাতা। এর পরের বছরগুলোতে মোচনম, থেনালাঙ্গাল, আঙ্গাক্কুরি, অঙ্গাদি, মীন- সব সিনেমাই তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। তাঁর সংলাপ “আমরা ভিখারি নই…” আজও পপ সংস্কৃতির অংশ।
কিন্তু এই উজ্জ্বল যাত্রাই দুঃখজনক পরিসমাপ্তি পেল। ১৯৮০ সালের ১৬ নভেম্বর কলিলাক্কাম-এর ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যের শুটিং চলছিল শোলাভারমে। একটি হেলিকপ্টার স্টান্ট নিজেই করতে জেদ ধরেন জয়ন। প্রথম টেক ভালো হলেও তিনি নিখুঁত শট চেয়েছিলেন। দ্বিতীয় বার শুট করার সময় হেলিকপ্টারটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। অন্যরা প্রাণে বাঁচলেও জয়ন পড়ে গিয়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত পান। হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেদিন সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মাত্র ৪১ বছর বয়সে শেষ হয়ে গেল এক কিংবদন্তির পথচলা। মৃত্যু-পরবর্তী মাসগুলোতেও তাঁর অভিনীত অনেক ছবি মুক্তি পেয়েছিল- যেন দর্শকদের শেষবারের মতো তাদের প্রিয় তারকাকে দেখানোর সুযোগ দিতে। জয়ন শুধু অভিনেতা নন; মালায়ালাম সিনেমায় অ্যাকশন ধারার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন তিনি। আজও তাঁর নাম উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধা আর বিস্ময়ে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us