ভাল ছেলে চরিত্রে ক্লান্ত! নেতিবাচক ভূমিকায় ফিরতেই নতুন ইমেজ পেলে অভিনেতা?

পরিচয়ের পর, মাস্টার রাজু ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পরপর ছবির কাজ আসতে থাকে তাঁর। যশ চোপড়া, হৃষিকেশ মুখার্জি ও বাসু চ্যাটার্জির মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেন।

পরিচয়ের পর, মাস্টার রাজু ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পরপর ছবির কাজ আসতে থাকে তাঁর। যশ চোপড়া, হৃষিকেশ মুখার্জি ও বাসু চ্যাটার্জির মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেন।

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
raju

কে এই অভিনেতা...

Bollywood Actor: ষাট ও সত্তরের দশকের বলিউডে শিশুশিল্পীদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নামগুলির একটি ছিল মাস্টার রাজু। রাজেশ খান্না, অমিতাভ বচ্চন, ধর্মেন্দ্র, সঞ্জীব কুমার, জিতেন্দ্র, অনিল কাপুর- সহ সে সময়ের শীর্ষ তারকাদের সঙ্গে কাজ করে খুব অল্প বয়সেই তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজস্ব জায়গা তৈরি করেছিলেন। মাত্র ছয় বছর বয়সে তাঁর সাফল্যের পরিমাণ এমন ছিল, যে তিনি পরিবারের জন্য মুম্বাইয়ের অভিজাত বান্দ্রায় একটি বাড়িও কিনে ফেলেন। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সেই সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি তিনি।

Advertisment

জন্ম ফাহিম আজানি নামে, যিনি পরে ‘মাস্টার রাজু’ নামে পরিচিত হন, কোনও ফিল্মি-পরিবার থেকে আসেননি। বাবা-মা তাঁকে অভিনয়ে পাঠাতে দ্বিধায় ছিলেন। কিন্তু গুলজারের, পরিচয় (১৯৭২) ছবির অডিশনে, কান্না জড়ানো স্বাভাবিক শিশুসুলভ আচরণ, গুলজারের মনে দাগ কাটে এবং সেখান থেকেই তাঁর যাত্রা শুরু। ছবির শুটিং চলাকালীন প্রবীণ অভিনেতা সঞ্জীব কুমারই তাঁকে ‘রাজু’ নামে ডাকতে শুরু করেন, আর সেই নামই স্থায়ী হয়ে যায়।

Rukmini Moitra: মানসিক চাপে কী করেন রুক্মিণী? সোজা সাপটা যা শোনালেন পর্দার নটী

Advertisment

পরিচয়ের পর, মাস্টার রাজু ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পরপর ছবির কাজ আসতে থাকে তাঁর। যশ চোপড়া, হৃষিকেশ মুখার্জি ও বাসু চ্যাটার্জির মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেন। অভিনয় করেন আমার প্রেম, দাগ, দিওয়ার, ইনকার, খুদ-দার, ওহ সাত দিন-এর মতো আইকনিক ছবিতে। তিনি জানান, সে সময় তিনি একসঙ্গে তিনটি ছবির আলাদা শিফটে কাজ করতেন, তবুও কখনও ক্লান্তি বা শোষণের অনুভূতি হয়নি। তাঁর পরিশ্রমের পুরস্কার হিসেবে ছিটচোর (1976)-এর জন্য পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার- সেরা শিশু শিল্পী বিভাগে।

মাত্র চার-পাঁচ বছরের মধ্যেই তাঁর পারিশ্রমিক আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। প্রথমদিকে, প্রতি ছবি ১০,০০০ টাকা থেকে বেড়ে, ১৯৭৭ সালের দিকে একেকটি ছবিতে তিনি পেতেন ১ লাখ টাকারও বেশি। সেই আয়ে তিনি ৬-৭ বছর বয়সেই বান্দ্রায় ১.১০ লক্ষ টাকায় একটি বাড়ি কেনেন। রাজু বলেন, বাবা তাঁর উপার্জন অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিনিয়োগ করেছিলেন, যার সুফল আজও তাঁরা পাচ্ছেন। 

Ankush Hazra Exclusive: 'ইউনিভার্সাল প্রবলেম', মা কালী চড় মারলেন অঙ্কুশকে! জমে গেল গল্প..

হেমা মালিনী ও ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে তাঁর স্মৃতিগুলোও বিশেষ। হেমাজির সঙ্গে কুশবু, ড্রিম গার্ল, নাস্তিক, ক্রোধি- সহ একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। সাত বছর বয়সে হেমাকে টপ স্পিন শেখানোর স্মৃতি এখনও তাঁর মনে জাগ্রত। ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আরও আন্তরিক—একসঙ্গে টিফিন ভাগাভাগি করা থেকে শুরু করে শুটিং ফ্লোরে বন্ধুসুলভ সময় কাটানো, সবই আজ তাঁর জীবনের মূল্যবান অধ্যায়।

নবম শ্রেণির পর, রাজু পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে অভিনয় থেকে কিছুদিনের জন্য বিরতি নেন। পরে আবার ফিরে এসে তিনি আগের মতো “ভালো ছেলে” চরিত্রে অভিনয় করতে আর আগ্রহী ছিলেন না। বরং কিছু ভিন্নরকম, বিশেষ করে নেতিবাচক চরিত্রে কাজ করতে চেয়েছিলেন। সেই সময় তিনি ‘চুনৌতি’ ধারাবাহিকে এক মাদকাসক্ত তরুণের চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর মহেশ ভাটের ‘সাথী’ ছবিতেও একই ধরনের চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। ফলে এই ইমেজটা ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে যায়। রাজু নিজেই বলেন, "মহেশ ভাটের সাথী-তেও আমি মাদকাসক্তের ভূমিকায় ছিলাম, আর এরপর থেকেই আমাকে সবাই ওই চরিত্রের সঙ্গেই যুক্ত করে দেখতে শুরু করে।" 

bollywood Entertainment News Entertainment News Today