/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/12/chang-2026-01-12-15-57-43.jpg)
কী বলছেন চ্যাং?
গায়ক এবং অভিনেতা মেইয়াং চ্যাং, তার প্রয়াত বন্ধু ও ইন্ডিয়ান আইডলের সহ-প্রতিযোগী প্রশান্ত তামাংকে স্মরণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক গভীর আবেগময় শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন। যার কারণেই, ভক্তদের মন নাড়া দিয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, স্মৃতি ও হারানোর যন্ত্রণা- সব মিলিয়ে মেইয়াং চ্যাংয়ের পোস্টটি যেন এক নিষ্পাপ সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি, যে সম্পর্ক মঞ্চের আলো এবং প্রতিযোগিতার চাপকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
ইনস্টাগ্রামে চ্যাং শেয়ার করেন পুরনো দিনের অদেখা কিছু ছবি। যেগুলোতে ফুটে উঠেছে বন্ধুত্বের নানা রং। সেখানে আছে নিঃশর্ত হাসি, কফির আড্ডা, গভীর রাতে কথোপকথন, প্রতিযোগিতার পর ভ্রমণের ছবি, মঞ্চের নেপথ্যের মুহূর্ত, এবং সহ-প্রতিযোগীদের সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর, স্নিগ্ধ স্মৃতি। এসব ছবি যেন আবারও মনে করিয়ে দেয় ইন্ডিয়ান আইডলের তৃতীয় সিজন শুধুই প্রতিযোগিতা ছিল না; বরং ছিল বিভিন্ন সংস্কৃতি ও পটভূমির মানুষের এক হয়ে ওঠার গল্প।
Oindrila Sen: বছর আগের বিপর্যয় আজও গভীর ক্ষত, বাবার মৃত্যু মানতেই পারেননি ঐন্দ্রিলা?
একটি বিশেষ ছবিতে লেখা ছিল- “আমি তোমাকে অন্য জীবনে দেখব।” এই লাইনটি যেন প্রশান্ত তামাংয়ের আকস্মিক মৃত্যুর ধাক্কা, অপূর্ণতা ও শূন্যতার অনুভূতিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। ক্যাপশনে চ্যাং সহজ-সরল অথচ গভীর শব্দে লিখেছেন প্রশান্ত সম্পর্কে। তিনি তাকে “হাম সবকা ইয়ার” বলে সম্বোধন করেছেন- যে একবার কারও জীবনে এলেই আপন হয়ে যেতেন। শেষ বাক্যে তিনি লিখেছেন, “প্রশান্ত, ভালোবাসা ও সোনার ক্ষেতে বিশ্রাম নাও”- একটি শান্ত, কোমল বিদায়।
প্রশান্ত তামাং ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি, মাত্র ৪৩ বছর বয়সে নয়াদিল্লিতে মারা যান। প্রাথমিকভাবে জানা যায় যে তাকে বাসভবনে নিস্তেজ অবস্থায় পাওয়া যায়, এবং সম্ভবত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজেশ ঘাটানি খবরটি নিশ্চিত করেন, এবং দার্জিলিংয়ের গায়ক, মহেশ সেবা জানান যে এটি নিশ্চিতভাবেই একটি হঠাৎ হৃদরোগজনিত মৃত্যু।
তার মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশিত হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকজ্ঞাপনের ঢেউ নেমে আসে। ভক্ত, সহশিল্পী, সংগীতশিল্পী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা স্মৃতিচারণে ভরে দেন টাইমলাইন। ২০০৭ সালে ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ৩ জিতে প্রশান্ত তামাং ভারতজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। বিশেষ করে গোর্খা সম্প্রদায়ের মধ্যে তিনি এক সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত হন। ‘বীর গোর্খালি’ ও ‘আসারে মাহিনামা’র মতো গান তাকে অমর করে রেখেছে। পাশাপাশি ‘পাতাল লোক’ সিজন ২-তে ড্যানিয়েল লেচো চরিত্রে তার অভিনয়ও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।
প্রশান্ত তামাংয়ের মৃত্যু নিঃসন্দেহে ভারতীয় সংগীত ও অভিনয় জগতে অপূরণীয় ক্ষতি। আর তার প্রতি মেইয়াং চ্যাংয়ের এই মর্মস্পর্শী শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রমাণ করে, সত্যিকারের বন্ধুত্ব কখনও হারিয়ে যায় না—শুধু স্মৃতির আরেক কোণে জায়গা করে নেয়।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us