৩৭ বছর বয়সেই শেষ অধ্যায়, নারী স্বাধীনতার জন্য প্রাণপাত করেন এই অভিনেত্রী

মাত্র ১৮ বছরের অভিনয় জীবনে কুমারী ৩৪টি চলচ্চিত্রে কাজ করেন- যার মধ্যে “রান্দিডাঙ্গাজি”, “মুদিয়ানায়া পুথরান”, এবং “পাদাথা পাইনকিলি”-র মতো জাতীয় পুরস্কারজয়ী সিনেমাও রয়েছে।

মাত্র ১৮ বছরের অভিনয় জীবনে কুমারী ৩৪টি চলচ্চিত্রে কাজ করেন- যার মধ্যে “রান্দিডাঙ্গাজি”, “মুদিয়ানায়া পুথরান”, এবং “পাদাথা পাইনকিলি”-র মতো জাতীয় পুরস্কারজয়ী সিনেমাও রয়েছে।

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
miss-kumari-malayalam-actress-movies-death-reason

কে এই অভিনেত্রী...

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে টিকে থাকা সহজ নয়, বিশেষ করে নারীদের জন্য। তাঁদের আজও লিঙ্গবৈষম্য ও সামাজিক বাধার মুখে লড়তে হয়। এমনই এক প্রেরণাদায়ী নারী ছিলেন মিস কুমারী, মালয়ালাম সিনেমার প্রথম দিকের মহিলা তারকাদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর জীবন ও কেরিয়ার দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অধ্যায়ের নাম।

Advertisment

১৯৩২ সালে কোট্টায়ামের ভারানাঙ্গমে জন্ম নেওয়া থ্রেসিয়ামা কোল্লাম্পারাম্পিল প্রথমে ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষিকা। কিন্তু ভাগ্য তাঁর জন্য লিখে রেখেছিল অন্য পথ। ১৯৪৯ সালে প্রযোজক কুনচাকোর পরিচালিত 'ভেল্লিনক্ষত্রম'-এ একটি গানে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। তাঁর প্রতিভা চিনে নিয়ে কুনচাকো তাঁকে নতুন নাম দেন- মিস কুমারী, এবং ১৯৫০ সালে “নাল্লা থাঙ্কা” ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেন। সেই ছবিই তাঁকে রাতারাতি খ্যাতি এনে দেয়। মালয়ালাম সিনেমার প্রথম মহিলা তারকা হিসেবে জনপ্রিয়তা পান তিনি।

এরপর  “চেচি”, “আত্মসাখী”, “কাঞ্চনা”, “বাল্য সখী”, “অবকাশি”–র মতো ছবিতে তিনি একের পর এক সফল অভিনয় করেন। কিন্তু তাঁর ক্যারিয়ারের মাইলফলক হয়ে ওঠে ১৯৫৪ সালের  “নীলাকুইল”। পি. ভাস্করন ও রামু কারিয়াত পরিচালিত এই ছবিটি মালয়ালাম সিনেমায় বাস্তবতার নতুন ধারার সূচনা করে। উরুবের গল্প অবলম্বনে তৈরি এই ছবিতে, কুমারী এক দলিত নারী নীলির চরিত্রে অভিনয় করে, জাতিগত বৈষম্য, সামন্তবাদ এবং লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বার্তা দেন। ছবিটি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে এবং মালয়ালাম সিনেমাকে নতুন মর্যাদা দেয়।

Advertisment

Mamata Banerjee-Arati Mukherjee: বঙ্গ বিভূষণে সম্মানিত আরতি মুখোপাধ্যায়, KIFF-র মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীকে রাখঢাক না করেই বললেন...

মাত্র ১৮ বছরের অভিনয় জীবনে কুমারী ৩৪টি চলচ্চিত্রে কাজ করেন- যার মধ্যে “রান্দিডাঙ্গাজি”, “মুদিয়ানায়া পুথরান”, এবং “পাদাথা পাইনকিলি”-র মতো জাতীয় পুরস্কারজয়ী সিনেমাও রয়েছে। তিনি ছিলেন এমন এক অভিনেত্রী, যিনি চরিত্রে বাস্তবতা ও আবেগের সমন্বয় ঘটাতে পারতেন।

১৯৬১ সালে ২৯ বছর বয়সে বিয়ে করার পর তিনি ধীরে ধীরে সিনেমা থেকে সরে আসেন। কিন্তু সমাজ ও নারীর ভূমিকা নিয়ে তাঁর মতামত ছিল প্রগতিশীল। এক নিবন্ধে তিনি লিখেছিলেন, “আমি মনে করি না বিবাহিত জীবনের সঙ্গে অভিনয়জীবন অসঙ্গতিপূর্ণ। প্রশ্ন হলো, ইন্ডাস্ট্রি কি বিবাহিত নারীর প্রতিভাকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত?” দুঃখজনকভাবে, ১৯৬৯ সালের ১০ জুন মাত্র ৩৭ বছর বয়সে তিনি আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু রহস্যে ঢাকা থাকলেও, সহকর্মীরা তাঁকে স্মরণ করেছেন এক স্নিগ্ধ, প্রতিভাবান ও বিনয়ী শিল্পী হিসেবে।

Chandan Sen-KIFF: '৪০ লক্ষ টাকা দিচ্ছি', বুদ্ধবাবুর সামনে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল নিয়ে কী শর্ত রাখা হয়েছিল? গোপন তথ্য ফাঁস করলেন চন্দন সেন

মিস কুমারী শুধু মালয়ালাম সিনেমার প্রথম নারী তারকা নন- তিনি ছিলেন নারীর স্বাধীনতা, আত্মসম্মান ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক। তাঁর সংক্ষিপ্ত কিন্তু উজ্জ্বল জীবন প্রমাণ করে যে সত্যিকারের শিল্পী কখনো হারিয়ে যান না, তাঁরা ইতিহাসে চিরকাল বেঁচে থাকেন তাঁদের সৃষ্টির মাধ্যমে।

bollywood actress Entertainment News Today Actress