/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/14/maithili-thakur-2025-11-14-14-48-16.jpg)
লোকগায়িকা থেকে রাজনীতিবিদ, সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক মৈথিলী ঠাকুর..
লোকশিল্পী মৈথিলী ঠাকুর- যার নাম শুনলে আজ কোটি ভক্তের মুখে কেবল প্রশংসা-ই। তার সাফল্যের পথ ছিল না কোনও ফুল বিছানো রাস্তা। ২৫ বছর বয়সে তিনি শুধু বিহার বিধানসভার সবচেয়ে কমবয়সী বিধায়ক হননি। বরং আলিনগর আসনে বিজেপিকে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্ষমতায়ও ফিরিয়েছেন। কিন্তু এই উজ্জ্বল অধ্যায়ের আগে ছিল দীর্ঘ সংগ্রাম, অপমান, প্রত্যাখ্যান আর চোখের জল ভরা দিনগুলো।
ছোটবেলায় থেকেই সঙ্গীত ছিল তাঁর শ্বাস। কিন্তু সেই সঙ্গীতই একসময় তাঁকে ভেঙে দিয়েছে। ‘সা রে গা মা পা লিল চ্যাম্পস’-এর অডিশনে প্রথমবার তিনি বাদ পড়েন- কারণ, “তিনি নাকি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে বেশি ঝোঁক দেন।” মৈথিলী মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তিনি বলিউড গানও শিখবেন। কিন্তু ভাগ্য যেন তাকে বারবার একই জায়গায় ফিরিয়ে আনতে চাইছিল। ২০১৫ সালে তিনি ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর জন্য অডিশন দেন। আবারও প্রত্যাখ্যান। কারণ? একই। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তাঁর গভীরতা।
Dhurandhar trailer: আদিত্য ধরের কামব্যাক! 'ধুরন্ধর' ট্রেলারে রণবীর সিংয়ের বিস্ফোরক অবতার চমকে দেবে
বারবার ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। একসময় মনে হয়েছিল, হয়তো গানই ছেড়ে দেবেন। UPSC-এর প্রস্তুতি নেবেন। কারণ পড়াশোনায় তিনি ভাল ছিলেন। এদিকে স্কুলজীবনও ছিল বিষাক্ত। এক বেসরকারি স্কুলে মেধার কারণে বিনা খরচায় পড়তে পারলেও, সেখানকার ধনী সহপাঠীদের কাছে তিনি ছিলেন পরিহাসের পাত্র। কেউ তাকে ডাকত 'বোকা বিহারী' বলে- যা তাঁর কাছে গালিগালাজের মতো মনে হত। মৈথিলী বলেছিলেন, "মেয়েদের মন্তব্য ছিল আরও খারাপ…তারা ঝগড়ার মাঝেও ‘বিহারী’ শব্দটাকে অপমান হিসেবে ব্যবহার করত।"
নিজেকে কখনোই সামলাতে পারতেন না সে পরিবেশে। তাদের ভ্রমণ, ব্যয়বহুল জীবনযাপন নিয়ে আলোচনা- সবই তার কাছে অন্য দুনিয়ার গল্প মনে হত। নাজাফগড় থেকে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া এবং সেই সত্যটা সহপাঠীদের বলতে লজ্জা হওয়া- এসব স্মৃতি তাকে আজও কষ্ট দেয়।
S S Rajamouli: নাস্তিক দাবি করেও ভগবান হনুমানকে দোষ! রাজামৌলির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
পরিবারের আর্থিক কষ্টও ছিল ভয়াবহ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার মা জানিয়েছিলেন, “১০ বছরে আমরা ১৭টি বাড়ি বদলেছি।” কারণ, বাবা–মেয়ের রিয়াজের শব্দে প্রতিবেশীরা বিরক্ত হতেন। একসময় নিজেদের জায়গা না থাকায় এক কক্ষের ছোট ঘরেই থাকতে হতো। পরিস্থিতি বদলায় যখন মৈথিলী একটি সঙ্গীত রিয়েলিটি শো জেতেন। করণ জোহর এবং যশ চোপড়ার অফিস থেকে ফোন আসে। সিদ্ধান্ত হয়- ইউটিউবে নিয়মিত গান পোস্ট করা হবে। সেখান থেকেই শুরু তার উত্থান।
আজ মৈথিলীর ইউটিউবে ৫ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার, ইনস্টাগ্রামে ৬০ মিলিয়ন ফলোয়ার এবং ফেসবুকে ১.৪ কোটি অনুসারী। একসময় যাকে ডাকা হত “বোকা বিহারী”- আজ সেই মৈথিলী ঠাকুর কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us