/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/30/arijit-singh-2026-01-30-01-04-35.jpg)
কী বললেন মুর্শিদাবাদবাসী?
মুর্শিদাবাদের ছেলে অরিজিৎ সিং (Arijit Singh) নিজের স্বপ্ন ছুঁয়ে আজ বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করেছেন তাঁর জেলার নাম। টানা প্রায় ১৫ বছর ধরে হিন্দি, বাংলা-সহ নানা ভাষায় অসংখ্য সুপারহিট গান উপহার দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন অনুভূতির কণ্ঠস্বর। প্রেম, বিরহ, আশা-নিরাশা মানুষের জীবনের প্রায় সব আবেগই তাঁর সুরে ধরা দিয়েছে। তাই হঠাৎ করেই প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা স্বাভাবিকভাবেই আবেগে ভাসিয়েছে মুর্শিদাবাদকে।
এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া পোস্টে অরিজিৎ লেখেন, “হ্যালো, সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। এত বছর ধরে শ্রোতারা যে হিসেবে আমাকে অকুণ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, এখন থেকে আমি আর প্লে ব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে কোনও নতুন অ্যাসাইনমেন্ট নেব না। এই অধ্যায় এখানেই শেষ করছি। এটি ছিল এক অসাধারণ যাত্রা, আর ঈশ্বর আমার প্রতি সত্যিই দয়ালু ছিলেন।”
এই ঘোষণার পর মুর্শিদাবাদের মানুষের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে গর্ব, আবেগ আর কিছুটা আশার কথা-
মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা শ্বয়েতা আগরওয়াল বলেন, “মুর্শিদাবাদের মানুষের জন্য অরিজিত সিং খুব বড় ইনস্পিরেশন। এত ছোট একটা শহর থেকে এমন একজন গায়ক হয়েছেন, এটা আমাদের জন্য খুব গর্বের। অরিজিৎ এমন একজন মানুষ যিনি কোনওদিন তাঁর সিম্পিলিসিটিকে ছাড়েননি। বিশ্বজুড়ে ওনার এত নাম, কিন্তু উনি একেবারেই সাধারণ। ওনার বাচ্চা আর আমার বাচ্চা একই স্কুলে পড়ত, কখনও আলাদা করে মনে হয়নি এখানে একজন সেলিব্রিটির সন্তান পড়ে। উনি আমাদের বাচ্চাদের একটা পথ দেখিয়েছেন, ছোট শহর বা বড় শহর কোনও ব্যাপার নয়, যদি ইচ্ছে আর কোয়ালিটি থাকে, তাহলে স্বপ্ন পূরণ করা যায়। ওনার জন্য আমাদের মুর্শিদাবাদ উজ্জ্বল হয়েছে। উই উইল মিস ইউ।”
আর এক বাসিন্দা সিমরান ঘোষ বলেন, “খুবই খারাপ লাগছে, তবে আশা করছি আগামিদিনে উনি কোনও সারপ্রাইজ আনবেন। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই দেখেছি, রিটায়ারমেন্টের ঘোষণার পর আসল টুইস্ট আসে। আমি নিজে ন্যাশনাল সুইমার, আমার ফিল্ডেও এমন দেখেছি। গানের জন্য যেমন উনি জনপ্রিয়, তেমনই ওনার ব্যবহার আর সাধারণ জীবনযাপনের জন্যও। স্কুটি করে ওনাকে এদিক-ওদিক ঘুরতে দেখা যায়। মনে হচ্ছে নতুন কোনও অধ্যায় শুরু হতে চলেছে, সেটারই অপেক্ষা।”
আরও পড়ুন: ‘আমি ১২ বছরের সাংসদ হয়ে পারলাম না!’, দেবের প্রথম নায়িকা এখন রাজনৈতিক মঞ্চের সহযাত্রী
মুর্শিদাবাদের আরও এক বাসিন্দা বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই ওনার ফ্যান। ওনার প্লেব্যাক না করার সিদ্ধান্তে খারাপ লাগছে। সিদ্ধান্ত ঠিক না ভুল জানি না, কিন্তু একজন শ্রোতা হিসেবে দুঃখ হচ্ছে। উনি ডাউন টু আর্থ মানুষ, এত বড় সেলিব্রেটি হয়েও কোনও অ্যাটিটিউড নেই। ওনার গান শুনে মানুষ ভালোবাসে, কাঁদে। আমাদের জেলা ওনার নামেই উজ্জ্বল হয়েছে। উনি আমাদের গর্ব। আজকের জেনারেশন অরিজিৎ সিং শুনে বড় হচ্ছে, ওদের জন্যও এটা খুব দুঃখের বিষয়। তবে উনি নিশ্চয় ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
অরিজিৎ সিংয়ের প্লে ব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত শুধু একজন শিল্পীর অবসর নয়, মুর্শিদাবাদের মানুষের কাছে তা এক আবেগঘন মুহূর্ত। গর্বের সঙ্গে মিশে আছে শূন্যতার অনুভূতি, আবার একই সঙ্গে আছে নতুন কিছুর প্রত্যাশাও।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us