/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/02/neena-gupta-2026-02-02-16-42-06.jpg)
যা বললেন নীনা...
প্রবীণ অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা, সম্প্রতি তাঁর কেরিয়ারের এক কঠিন অধ্যায়ের কথা অকপটে তুলে ধরলেন। আর্থিক টানাপোড়েনের সময় এমন কিছু চরিত্রে অভিনয় করতে বাধ্য হয়েছিলেন, যা তাঁর বয়স বা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে একেবারেই মানানসই ছিল না। এমনকি ১৯৯২ সালের ছবি ইয়াল্গার-এ তিনি ফিরোজ খানের বড় বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যদিও বাস্তবে ফিরোজ তাঁর চেয়ে প্রায় ২৪ বছরের বড় ছিলেন।
শুভঙ্কর মিশ্রের পডকাস্টে নীনা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি বড় বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছি। টাকার জন্যই করেছি। তখন আমার কাছে কাজ ছিল না, অর্থ ছিল না। নইলে আমি এসব চরিত্র করতাম না।” তাঁর এই স্বীকারোক্তি বলিউডের এক অস্বস্তিকর বাস্তবতাকেই সামনে আনে। বয়স্ক পুরুষ অভিনেতাদের বিপরীতে অনেক কমবয়সী অভিনেত্রীদের কাস্ট করা হয়, কিন্তু উল্টোটা খুব কমই দেখা যায়।
BAFTA ২০২৬-এ ভারতীয় গর্ব, বড় দায়িত্বে আলিয়া ভাট
এই বৈষম্যের কারণ হিসেবে তিনি সমাজের মানসিকতাকেই দায়ী করেন। নীনার কথায়, “আমাদের সমাজ ৬০ বছরের পুরুষের ২০ বছরের মেয়েকে বিয়ে করা মেনে নেয়, কিন্তু উল্টোটা নয়। সিনেমা তো সমাজের প্রতিফলন।” তিনি আরও বলেন, “এটা ব্যবসা। প্রযোজকরা মনে করেন, এ ধরনের গল্প চলবে না। সমাজ যদি না মেনে নেয়, তবে সেই গল্প নিয়ে ছবি বানানো কঠিন।”
কেরিয়ারের শুরুর দিকে আরও কিছু অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার কথাও শোনান নীনা। সুভাষ ঘাই- পরিচালিত একটি ছবির গানের শুটিংয়ে তাঁকে ‘আরও পরিপূর্ণ দেখাতে’ প্যাডেড ব্রা পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তখন আমি খুব রেগে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, এমন কথা বলা উচিত নয়। কিন্তু এখন বুঝি, পরিচালক তাঁর ভাবনাটা স্পষ্ট করছিলেন। আমি তখন নতুন ছিলাম, আজ বিষয়টা অন্যভাবে দেখি।”
Salim Khan: মস্তিষ্কে সামান্য রক্তক্ষরণ, বড় অস্ত্রোপচার কি হয়েছে? কেমন আছেন সেলিম খান?
টেলিভিশন ধারাবাহিক পরিচালনার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। প্রথমে তিনি এমন একটি সমাপ্তি লিখেছিলেন, যেখানে তাঁর চরিত্র স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতার পর স্বাধীনভাবে বাঁচার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু দর্শক সমীক্ষায় দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ চেয়েছিলেন চরিত্রটি স্বামীকে ক্ষমা করে সংসারে ফিরুক। “সমাজ এমনই- তাই আমাদের শেষটা বদলাতে হয়েছিল,” বলেন নীনা।
সবশেষে তিনি মন্তব্য করেন, “সমাজে নারীদের অবস্থান খুব একটা বদলায়নি। এখনও বহু পুরুষ ‘কুমারী বধূ’ খোঁজেন। অনেক কিছুই আগের মতোই আছে।” তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, সমাজ ও ইন্ডাস্ট্রির গভীর বৈষম্যের প্রতিফলন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us