/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/15/neha-dhupia-angad-bedi-2025-12-15-22-05-40.jpg)
কী হয়েছিল তাঁদের বিয়ে নিয়ে...
নেহা ধুপিয়া ও অঙ্গদ বেদীর ২০১৮ সালের চুপচাপ বিয়ে, ইন্ডাস্ট্রিকে চমকে দিয়েছিল। প্রকাশ্যে কখনও সম্পর্কের কথা ঘোষণা না করেই, তাঁরা একটি গুরুদ্বারে ঘনিষ্ঠ পরিসরে গাঁটছড়া বাঁধেন। বিয়ের কয়েক মাস পরই, তাঁদের প্রথম সন্তান মেহরের জন্ম হয়। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে মনীশ পলের সঙ্গে এক পডকাস্টে অঙ্গদ তাঁদের প্রেমের গল্প, বন্ধুত্ব থেকে দাম্পত্যে পৌঁছনোর পথ- সবটাই খোলামেলা ভাবে ভাগ করে নেন।
আড্ডার ছলে মনীশ পল মজা করে বলেন, "আপনি ব্যাচেলর হিসেবে ঘুমিয়েছিলেন আর বিবাহিত হিসেবে জেগে উঠলেন- খবরটা একেবারে রাতারাতি!” উত্তরে অঙ্গদ স্মৃতিচারণা করে জানান, দিল্লির মালচা মার্গে একটি জিমে প্রথম নেহাকে দেখেন তিনি। “আমি ট্রেডমিলে এক ফিট মেয়েকে দৌড়াতে দেখলাম। বন্ধুরা বলল, ও মিস ইন্ডিয়া- নেহা ধুপিয়া। ওর দৌড়ানোর ভঙ্গি খুব সুন্দর লেগেছিল,” এমনটাই বলেন অঙ্গদ। পরপর কয়েকদিন তাঁরা একই জিমে গিয়েছিলেন, যদিও পরে নানা কারণে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
বছর কয়েক পর অঙ্গদের জীবনে কিউপিড হয়ে ফেরেন, তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু যুবরাজ সিং। মুম্বইয়ের এক পার্টিতে নেহার সঙ্গে আবার দেখা হয় অঙ্গদের। পার্টি শেষে আড্ডা জমে অঙ্গদের বাড়িতে, সেখানেই প্রথমবার ঠিক করে কথা হয় তাঁদের। এরপর কাজের সূত্রেও দু’জনের দেখা হয়- একসঙ্গে প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে সম্পর্ক আরও গভীর হয়। অঙ্গদ স্বীকার করেন, নেহার সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যই তিনি একাধিক কাজে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন। শুটিংয়ের মাঝেই তিনি নেহাকে নিজের অনুভূতির কথা জানান এবং বিয়ের প্রস্তাব দেন।
দিল্লি ফিরে এসে অঙ্গদ বেদী তাঁর বাবা–মায়ের সামনে নেহা ধুপিয়াকে বিয়ে করার ইচ্ছার কথা জানান। তবে তাঁর বাবা–মা বিষয়টি পুরোপুরি অঙ্গদের সিদ্ধান্তের উপরই ছেড়ে দেন। অঙ্গদের কথায়, তিনি তাঁদের স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “এই মুহূর্তে আমি কেউ নই, আমার হাতে তেমন টাকা নেই। কিন্তু আমি ওকে বিয়ে করব, আর তারপরই নিজেকে গড়ে তুলব।” নেহা তখন কোনও সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দিয়ে কথাবার্তা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেন।
এরপর একটি ছবির কাজ শেষ করে অঙ্গদ বাড়ি ফিরে নেহার বাবা–মায়ের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের জানান, যে তিনি তাঁদের মেয়েকে বিয়ে করতে চান। নেহার বাবা–মা তখন মজার ছলেই বলেন, “তুমি দেখতে ভালো, মানুষ হিসেবেও ভালো, কিন্তু তোমার পকেটে এক টাকাও নেই- এমন অবস্থায় আমাদের মেয়েকে বিয়ে করতে চাও?” উত্তরে অঙ্গদ জানান, এটাই তাঁর লক্ষ্য ও ইচ্ছা। তাঁরা তখন বলেন, “দেখা যাক।”
এরপর কিছু সময়ের জন্য দু’জনের পথ আলাদা হয়ে যায়। বন্ধুত্ব রয়ে গেলেও, তাঁরা নিজেদের মতো করে এগিয়ে যেতে থাকেন। তবে নিয়তির খেলায় আবার তাঁদের দেখা হয়। পাঞ্জাবে ‘সুরমা’ ছবির শুটিংয়ে যাওয়ার সময় নেহা তাঁকে কয়েকটি দীপাবলি পার্টিতে আমন্ত্রণ জানান। সেই পার্টিগুলোর একটিতে নেহা মজা করেই অঙ্গদকে, অন্য কারও সঙ্গে সেট করার চেষ্টা করেন। অঙ্গদ তখন হেসে বলেন, “আমার সময় নষ্ট করো না, আমার ডায়েরি আগেই ভর্তি।”
সেই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন করণ জোহর। তিনিই দু’জনকে আলাদা করে কথা বলার পরামর্শ দেন। করণের সেই কথাতেই যেন সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব ফের গভীর হয়, সম্পর্ক নতুন রূপ নেয়, আর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই সম্পর্ক গড়িয়ে যায় বিয়ের দিকে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us