/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/15/sahaj-paather-gappo-2026-01-15-11-56-48.jpg)
ফের বড় পর্দায় ফিরছে নূর
‘আমাদের নেমন্তন্ন করবে তো ঠাকুর?’- 'সহজ পাঠের গপ্পো' সিনেমার ছোট্ট নূর মন জয় করেছিল দর্শকদের। ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পরিচালক মানস মুকুল পালের (Manas Mukul Pal) সিনেমা সহজ পাঠের গপ্পো'র ছোট্ট নূর ইসলাম (Noor Islam) এখন কলেজপড়ুয়া। ‘সহজ পাঠের গপ্পো’ (Sahaj Paather Gappo) সিনেমায় অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল নূর। সেই খবরটি যখন তাঁর ‘মানস কাকু’ ফোন করে জানাচ্ছিলেন, তখন নূর ব্যস্ত ছিল খেলার মাঠে। ফোনের ওপারে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে মানস কাকু বলেছিলেন,‘নূর তুমি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছ।’ নূর খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিয়েছিল, ‘ঠিক আছে, তুমি এখন ফোন রাখো, আমি খেলা শেষ করে বাড়ি গিয়ে তোমাকে ফোন করব।’
প্রান্তিক গ্রামে বেড়ে ওঠা নূর তখন বুঝতেই পারেনি জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার গুরুত্ব আসলে কতটা। আজ কলেজপড়ুয়া নূর হাসতে হাসতে বলে, ‘সে সময় আমাকে যদি জাতীয় পুরস্কারের খবর না দিয়ে একটা চকলেট দিতেন, তাহলে বোধহয় আমি বেশি খুশি হতাম। কারণ তখন আমি জানতামই না জাতীয় পুরস্কারের মানে কী। শুধু আমি নয়, আমার বাড়ির কেউই সেটা ঠিকভাবে বুঝত না।’ শৈশবের সেই সরলতা আর নিষ্পাপ অনুভূতিই আজ নূরের জীবনের এক অনন্য স্মৃতি হয়ে রয়েছে।
নূর জানিয়েছে, ‘মানস কাকুর সঙ্গে আমার প্রথম যেদিন আলাপ হয়, কাকু আমায় জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি অভিনয় করতে চাই কি না। তখন আমি জানতাম না অভিনয় আসলে কী! আমায় চুপ করে থাকতে দেখে কাকু জানান, আমি অভিনয় করলে প্রসেনজিৎকে সামনাসামনি দেখতে পাব। প্রসেনজিৎকে দেখতে পাওয়ার লোভেই আমি হ্যাঁ বলি।’
ছোট্ট গ্রামের ছোট্ট নূরের আকাশ এখন অনেকখানি বিস্তৃত। তার এখন গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে শহরতলিতে নিত্য যাতায়াত। উত্তর ২৪ পরগনার নন্দীপাড়া গ্রামে বেড়ে ওঠা নূর এখন টলিপাড়ায় নিজের জায়গা করে নিয়েছে। নূর জানায়, ‘সহজ পাঠের গপ্পো’-তে জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর আমার কাছে অনেক কাজের সুযোগ আসে, কিন্তু আমার পরিবারের কেউ কলকাতার রাস্তাঘাট চেনে না। তাই তখন অনেক কাজই ছেড়ে দিতে হয়। একটু বড় হওয়ার পর যখন নিজে যাতায়াত করতে শিখলাম, তখন থেকে টলিপাড়ায় ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করতে শুরু করি।’
তবে নূর এও জানিয়েছে, ‘টাকার প্রয়োজন থাকলেও আমি কোনও দিন কোনও অপছন্দের চরিত্রে অভিনয় করিনি। মানস কাকুর কাছ থেকে শিখেছি, একজন আর্টিস্টের সমাজের প্রতি অনেক দায়িত্ব আছে। তাই একজন অনেস্ট আর্টিস্ট হিসেবে আমি এমন কোনও চরিত্র করব না, যেটা সমাজে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।’
আরও পড়ুন: বাংলা সিনেমা জগতে গর্বের মুহূর্ত তৈরি করল শ্রীলেখা মিত্রের ‘মায়ানগর’
সহজ পাঠের গপ্পো সিনেমায় নূরের বড় দাদার চরিত্রে অভিনয় করা সামিউল আলম (গোপাল) সেও এখন কলেজপড়ুয়া। দীর্ঘ ১০ বছর পর তাঁদের বড় পর্দায় আবার একসঙ্গে দেখা যাবে মানস মুকুল পালের নতুন সিনেমা 'চণ্ডীকথা'য় (Chandikatha)। এই সিনেমায় বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির সংগ্রামের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা'কে খোলামেলা সাক্ষাৎকার দিল নূর ইসলাম-
প্র: ‘সহজ পাঠের গপ্পো’-তে শুটিংয়ের সময়ের এমন কোন স্মৃতি আছে, যা আজও ভুলতে পারো না?
উ: ‘সহজ পাঠের গপ্পো’-র কোনও স্মৃতিই ভোলার মতো না। প্রায় সব কথাই মনে আছে। আমাদের ডাবিং প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে হয়েছিল। যেদিন ডাবিং শেষ হলো, গাড়িতে উঠে মুখ নিচু করে চুপ করে বসে ছিলাম। তারপর মানস কাকু যখন গাড়িতে উঠে আমার গালে হাত দিয়ে আদর করে জিজ্ঞেস করেছিল, কী হয়েছে, আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। সিনেমার কাজ শেষ, এবার বাড়ি ফিরে যেতে হবে, এই ভেবেই খুব কষ্ট হচ্ছিল। তখন কাকু জড়িয়ে ধরে খুব আদর করে দিয়েছিল।
প্র: ছোট্ট গ্রাম থেকে উঠে এসে এখন টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছ। পথে কি কখনও কোনও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে?
উ: গ্রাম থেকে উঠে এলে অন্যদের যে পরিমাণ স্ট্রাগল করতে হয়, আমাকে সেটা করতে হয়নি। কারণ আমার শুরুটাই ‘সহজ পাঠের গপ্পো’ দিয়ে। মানস কাকুই আমাকে খুঁজে বার করে বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করিয়েছেন। আমাকে চিনিয়েছেন, শিখিয়েছেন। ফলে বাধা এলেও আমি ঘাবড়াই না। আর ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সবার কাছ থেকেই যে পরিমাণ ভালোবাসা পেয়েছি, তার পাশে এক-আধজনের খারাপ ব্যবহার আমার মনে দাগ কাটতে পারে না। তাছাড়া আমি মনে করি, জীবনে এক-দু’জন খারাপ মানুষের মুখোমুখি হওয়াও দরকার।
প্র: অভিনয় জগতে না এলে, জীবনে কী হতে চাইতে?
উ: অভিনয় জগতে আসাটাই কাকতালীয়। সেটা না হলে জীবনে কিছু হতে চাওয়ার ইচ্ছেই তৈরি হতো কি না জানি না। হয়তো আমার এলাকার অন্যান্য ছেলেদের মতো কোনও একটা কাজে ঢুকে যেতাম।
প্র: প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে দেখতে পাবে বলেই অভিনয়ে রাজি হয়েছিলে। প্রথমবার ওঁর সঙ্গে সামনাসামনি দেখা হলে কেমন লেগেছিল?
উ: সেদিন খুব আনন্দ হয়েছিল। গ্রামে ফিরে সবাইকে বলেছিলাম, ‘প্রসেনজিৎকে দেখেছি! আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছে!’ আমাদের ডাবিংয়ের সময়ই ওঁকে প্রথম সামনাসামনি দেখেছিলাম। পরে ওঁর হাত থেকেই শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেতার পুরস্কারও নিয়েছি।
প্র: ‘চণ্ডীকথা’ কি ‘সহজ পাঠের গপ্পো’কে ছাপিয়ে যাবে?
উ: দুটো সিনেমার বিষয় একেবারেই আলাদা। তবে ‘চণ্ডীকথা’-য় আমার চরিত্রটা খুব কঠিন। অনেক অপেক্ষার পর এমন একটা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আসে। আমার বিশ্বাস, ‘চণ্ডীকথা’ও ‘সহজ পাঠের গপ্পো’-র মতোই মানুষের মন জয় করবে।
আরও পড়ুন: ফিরছে ফসিল্স! রূপম ইসলামের ইঙ্গিতবাহী পোস্ট ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us