/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/26/md-2026-01-26-18-48-38.png)
জেনে নিন মাধবনকে নিয়ে...
R Madhvan-Padmashree: এ বছরের পদ্ম পুরস্কারের তালিকায়, পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন, জনপ্রিয় অভিনেতা আর মাধবন। প্রায় তিন দশক ধরে তামিল ও হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূ, এই সম্মান পেয়ে আপ্লুত অভিনেতা। ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যখন ৭৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম ঘোষণা করে, তখনই আনন্দে ভাসেন মাধবন ও তাঁর অনুরাগীরা।
আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ও কৃতজ্ঞতা
পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন মাধবন। তিনি লেখেন, “গভীর কৃতজ্ঞতা ও নম্রতার সঙ্গে আমি এই সম্মান গ্রহণ করছি। এটি আমার স্বপ্নের বাইরেও। আমার পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে আমি এই পুরস্কার গ্রহণ করছি, যাঁদের অবিচল সমর্থন ও বিশ্বাস আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর গুরুজনদের আশীর্বাদ, শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা, দর্শকদের উৎসাহ এবং সর্বোপরি ঈশ্বরের কৃপায় সম্ভব হয়েছে। মাধবনের কথায়, “আমি এটাকে শুধু পুরস্কার নয়, এক বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখি। সততা, মর্যাদা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই সম্মান বহন করব।”
Prosenjit Chatterjee: পদ্মশ্রী পেয়েই প্রসেনজিতের স্পষ্ট জবাব, 'যারা আমায় এই সম্মান দিয়েছেন...'
অভিনয় জীবনের উজ্জ্বল অধ্যায়
আর মাধবনের চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু হয় তামিল পরিচালক মণিরত্নমের কালজয়ী ছবি আলাই 'পায়ুথে' দিয়ে। এই ছবির সাফল্য তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। পরের বছরই বলিউডে তাঁর অভিষেক হয়, রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে ছবির মাধ্যমে, যা তাঁকে হিন্দি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে দেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অভিনয় করেছেন আদিত্য ধরের অ্যাকশন থ্রিলার ধুরন্ধর-এ, যা সর্বকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী ভারতীয় চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে। আগামী ১৯ মার্চ, ২০২৬ মুক্তি পেতে চলা এই ছবির সিক্যুয়ালেও তাঁকে দেখা যাবে ভারতীয় গুপ্তচরের ভূমিকায়।
শৈশব, শিক্ষা ও পারিবারিক প্রভাব
১৯৭০ সালের ১ জুন বিহারের জামশেদপুরে (বর্তমানে ঝাড়খণ্ড) একটি তামিল ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রঙ্গনাথন মাধবন। তাঁর বাবা আর রঙ্গনাথন ছিলেন, টাটা স্টিলের ম্যানেজমেন্ট এক্সিকিউটিভ এবং মা আর সরোজা একজন ব্যাংক ম্যানেজার। শৈশব থেকেই শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা পেয়েছেন তিনি।
জামশেদপুরের ডিবিএমএস ইংলিশ স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে, মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরের রাজারাম কলেজ থেকে ইলেকট্রনিক্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নেতৃত্ব ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতেও, সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি।
এনসিসি ও সামরিক স্বপ্ন
কলেজ জীবনে ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস (এনসিসি)-এ তাঁর অসাধারণ কৃতিত্ব মাধবনের ব্যক্তিত্ব গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। মাত্র ২২ বছর বয়সে, তিনি মহারাষ্ট্রের সেরা এনসিসি ক্যাডেটের সম্মান পান। এমনকি ব্রিটিশ আর্মি, রয়্যাল নেভি ও রয়্যাল এয়ার ফোর্সের সঙ্গে প্রশিক্ষণের সুযোগও পান। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন থাকলেও বয়সসীমার কারণে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়। তবে সেই ব্যর্থতাই তাঁকে নতুন পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
এক অনুপ্রেরণার নাম আর মাধবন
সংগ্রাম, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও প্রতিভার মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা আর মাধবনের জীবন আজ লক্ষ তরুণের অনুপ্রেরণা। পদ্মশ্রী সম্মান যেন তাঁর সেই দীর্ঘ যাত্রারই স্বীকৃতি—যেখানে নম্রতা ও দায়িত্ববোধই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us