/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/23/pather-2026-01-23-12-08-09.jpg)
Lokkhi Elo Ghore: বহুদিন পর ফের ছবির প্রযোজনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
কালজয়ী বাংলা সিনেমা পথের পাঁচালী মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫৫ সালে। প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় পরিচালিত এই সিনেমার প্রযোজক ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কথাসাহিত্যিক বিভুতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে এই চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছিল। বিশ্ব জয় করেছিল সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী। ৭০ বছর পর আবার একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ। লক্ষ্মী এলো ঘরে। তখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বিধানচন্দ্র রায়, এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ছবি দুটির মধ্যে একটি মিল রয়েছে। তা হল দুটি ছবির প্রযোজক পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে কোনও প্রেক্ষাপটেই ছবি দুটির মধ্যে তুলনা চলে না। লক্ষ্মী এলো ঘরে সেই অর্থে ডকুমেন্টারি বলা যেতে পারে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প তুলে ধরা হয়েছে লক্ষ্মী এলো ঘরেতে। সামনেই হাতছানি দিচ্ছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সরকারি অর্থে এই ডকুমেন্টারি নিঃসন্দেহে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
রাজ্যে ভোট যে দুয়ারে কড়া নাড়ছে তা স্পষ্ট বোঝা যাবে লক্ষ্মী এলো ঘরে দেখলে। ৫৮ মিনিটের তথ্য চিত্রে রাজ্যের কয়েকটি প্রকল্প তুলে ধরা হয়েছে। এই ডকুমেন্টারিতে গ্রামের এক জোতদারকে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরূপ হিসাবে দেখানো হয়েছে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকার প্রযোজিত এই ডকুমেন্টারি নিজেদের প্রচারে সাহায্য় করবে তৃণমূল কংগ্রেসকে। এমনই অভিযোগ রাজ্যের বিরোধী দলগুলির।
আরও পড়ুন- Vijaynagarer Hirey: রোমাঞ্চের ডাক দিচ্ছে কাকাবাবু! ‘বিজয়নগরের হিরে’ কেন দেখবেন?
রাজ্য সরকারের প্রকল্প প্রচার করেই ক্ষান্ত থাকেনি। সিনেমার শেষে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকও সাটানো শাড়ির দৃশ্যও ফুটে উঠেছে। আদপে এটা কোনও মুভি নয়, এটাকে সিনেমা বলা যায় না। একেবারেই ডকুমেন্টারি। রাজ্য সরকারের প্রকল্প প্রচার করা হয়েছে। সেখানে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। শেষ দৃশ্যটি এই ধারনাটিকে আরও পরিস্কার করেছে।
আরও পড়ুন-Oscars 2025: অল্পের জন্য হাতছাড়া অস্কার! শেষ পাঁচে জায়গা পেল না ভারতের ‘হোমবাউন্ড’
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের ইউটিউবে চ্যানেলে লক্ষ্মী এলো ঘরে আপলোড করা হয়েছে। এতে অভিনয়ে মুখ্য ভূমিকায় আছে টলিউডের পরিচিত মুখ শুভশ্রী, অঙ্কুশ, খরাজসহ অন্যরা। যদিও এদের অভিনয় নিয়ে প্রশ্ন করার কিছু নেই। তবে রাজ্য সরকারের একাধিক সামাজিক প্রকল্প তুলে ধরা হয়েছে এই ডকুমেন্টারিতে। যদিও দফতর থেকে এটাকে মুভি বলা হয়েছে।
প্রযোজকের বক্তব্য, “লক্ষ্মী এলো ঘরে” একটি সমাজভিত্তিক চলচ্চিত্র, যা বাংলার নারীদের দৈনন্দিন সংগ্রাম, সহনশীলতা ও অন্তর্নিহিত শক্তিকে তুলে ধরে। এই ছবিটি এক বিধবা নারীর জীবনের গল্প বলে, যিনি গভীর ব্যক্তিগত ক্ষতি ও তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়ে সাহস, মর্যাদা ও দৃঢ়তার সঙ্গে ধীরে ধীরে নিজের জীবন নতুন করে গড়ে তোলেন।
লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে বাংলার বাড়ি, স্বাস্থ্য সাথী থেকে রূপশ্রী সহ একাধিক গ্রামীণ প্রকল্প এই গল্পে রয়েছে। লক্ষ্মীর ভান্ডারের ১২০০ টাকায় কি করে নিজের পায়ে দাড়ানো যায়, সেই কাহিনী দিয়ে শুরু হয়েছে সিনেমার গল্প। অসুবিধায় পড়লেই সরকারি লোক হাজির হয়ে যাচ্ছে এই ফিল্মে। এক ফোনেই সব কিছুর সমাধানও হয়ে যাচ্ছে। সে এক অদ্ভুত কাহিনী।
মজার বিষয় এই ডকুমেন্টারিতে "জনবিরোধী কেন্দ্রীয় সরকার"ও হাজির আছে। যদিও সরাসরি তা বলা যাবে না। খরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী রূপে ওই সরকারের স্বরূপ হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। যত খারাপ কাজ করে কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রতিমূর্তি। লোকের জমি দখল থেকে মহিলাদের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি রয়েছে তাঁর। এমনকী নাবালিকা বিয়ে নিয়েও তিনি উদ্যোগী। আবার পুলিশ দেখলে ভয়ে পালিয়েও যাচ্ছে। মোদ্দা কথা এখানে সরাসরি না বললেও এটা স্পষ্ট কেন্দ্রীয় সরকারের অপকর্মের প্রতীক তিনি। যা দর্শকদের বুঝতে কোনও অসুবিধা হয় না।
রাজ্যের বক্তব্য, "মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শাসনের ১৫টি গৌরবময় বছর উপলক্ষে নির্মিত এই চলচ্চিত্র উন্নয়নকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে। যেখানে উন্নয়ন কেবল পরিকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অনুভূত এক বাস্তব রূপান্তর, যা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে ভবিষ্যৎকে নতুন দিশা দেয়।"
আরও পড়ুন- Govinda: পারিবারিক কলহে জড়ালেন কৃষ্ণা অভিষেক, গোবিন্দা-সুনীতা বিতর্কে নতুন মোড়
ছবিটির একেবারে শেষে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃশ্য। তাঁর সাদা শাড়িতে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাসফুলের প্রতীক আঁকা। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অর্থে প্রযোজিত এই ডকুমেন্টারি উন্নয়নের প্রচার না প্রোপাগান্ডা? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। সরকারি প্রযোজনায় সামাজিক প্রকল্পের প্রচারের ফাঁকে কি করে ঘাসফুলের প্রতীক এলো? তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us