Prashant Tamang Last Rites: স্ত্রী-কন্যার কান্নায় ভারী বাতাস, প্রশান্তের শেষ বিদায়ে দার্জিলিং-এ মানবসাগর

মার্থা, নিজের মনকে শক্ত করে, স্বামীর কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চোখে জল বাঁধা রাখা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছিল না, সংযমের ভেতরের কান্না বারবার ভেঙে বেরিয়ে আসছিল।

মার্থা, নিজের মনকে শক্ত করে, স্বামীর কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চোখে জল বাঁধা রাখা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছিল না, সংযমের ভেতরের কান্না বারবার ভেঙে বেরিয়ে আসছিল।

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
prssant

এই দৃশ্য চোখে জল আনবে...

গায়ক ও অভিনেতা প্রশান্ত তামাংয়ের শেষ বিদায় দার্জিলিংয়ের আকাশে এক গভীর, নীরব বেদনাকে ছড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁর মরদেহ যখন পাহাড়ি শহরে পৌঁছায়, দুঃখে আচ্ছন্ন জনতার স্রোত চৌরাস্তার দিকে ধীরে ধীরে জমতে থাকে। ঠান্ডা বাতাসে ভেসে ছিল শোকের ভারী নিঃশ্বাস। কিন্তু ভিড়ের মাঝেও সবচেয়ে বিচ্ছুরিত করুণ দৃশ্য ছিল, তাঁর স্ত্রী মার্থা আলে এবং তাঁদের ছোট মেয়েকে ঘিরে।

Advertisment

মার্থা, নিজের মনকে শক্ত করে, স্বামীর কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চোখে জল বাঁধা রাখা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছিল না, সংযমের ভেতরের কান্না বারবার ভেঙে বেরিয়ে আসছিল। তবুও তিনি ধীরে, স্নেহময় হাতে তাঁর ছোট্ট মেয়েকে শেষ আচারের দিকে এগিয়ে দিচ্ছিলেন। প্রয়াত প্রশান্তের মেয়ে এতটাই ছোট, যে তার বোঝার ক্ষমতা সীমিত; তবুও সে মায়ের শাড়ির আঁচল আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। যেন অজানা শোক, তাকে অপরিচিত ভয়ে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। উপস্থিত মানুষের চোখে এই মুহূর্তটি ছিল সহ্য করা কঠিন।

Prashant Tamang death: 'অন্য জীবনে দেখবো', বন্ধু প্রশান্ত তামাংয়ের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়লেন মেইয়াং চ্যাং

বাগডোগরা বিমানবন্দর দিয়ে প্রশান্ত তামাংয়ের মরদেহ দার্জিলিংয়ে পৌঁছানোর পর থেকে, শহরজুড়ে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। শত শত ভক্ত, স্থানীয় বাসিন্দা, শুভাকাঙ্ক্ষী- সবাই নীরব প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কেউ ফুল হাতে, কেউ ছবি হাতে, আবার কেউবা এক ঝলক দেখার আশায়, অসংখ্য স্মৃতিকে বুকের ভেতর আঁকড়ে। তাঁরা প্রশান্তকে শুধু একজন শিল্পী হিসেবে দেখেননি। দেখেছিলেন পাহাড়ের সন্তানকে, যে জাতীয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁদের স্বপ্নকে ডানা দিয়েছিল।

Oindrila Sen: বছর আগের বিপর্যয় আজও গভীর ক্ষত, বাবার মৃত্যু মানতেই পারেননি ঐন্দ্রিলা?

চৌরাস্তার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সংযত। কোনও স্লোগান, কোনও উন্মাদনা নয়- শুধু মাথা নুয়ে শ্রদ্ধা, হাত জোড় করে নীরব বিদায়, আর মৃদু কান্নার শব্দ। পরিবারও এই শান্ত আবহে শেষ আচারের কাজ সম্পন্ন করে। মার্থার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা- শোকের ভারে নুয়ে পড়লেও তাঁকে সামলানোর দৃশ্যমান চেষ্টা ছিল সবার মধ্যে।

মাত্র ৪৩ বছর বয়সে প্রশান্ত তামাংয়ের প্রয়াণ, দার্জিলিং-সহ সারা দেশের বহু মানুষের কাছে ব্যক্তিগত ক্ষতির মতো। ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ৩ জয়ের পর তাঁর সঙ্গীতযাত্রা, তারপর অভিনয়ে প্রতিষ্ঠা- সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন উদ্দীপনা, সংগ্রাম ও স্বপ্নের প্রতীক।

Entertainment News Today Prashant Tamang