/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/12/prasant-2026-01-12-11-11-11.jpg)
কীভাবে হয়ে উঠেছিলেন আন্দোলনের মুখ...
২০০৭ সালে দার্জিলিংয়ের, পাহাড়ে এক অনন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। কোনও রাজনৈতিক অস্থিরতা বা আন্দোলনের কারণে নয়, বরং তাদেরই সন্তান- কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল প্রশান্ত তামাং- ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ৩-এর ফাইনালে পৌঁছে যাওয়ার কারণে। মাত্র ২৫ বছর বয়সী এই গোর্খা যুবকের জন্য পাহাড়জুড়ে উচ্ছ্বাস ছিল অভূতপূর্ব। প্রথমবারের মতো দার্জিলিংয়ের একজন ছেলে জাতীয় মঞ্চে উঠে ভারতজুড়ে মানুষের মন জয় করছিলেন। সেই সময় সুভাষ ঘিসিংয়ের গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (GNLF)- এর সঙ্গে যুক্ত নেতারা- বিমল গুরুং এবং রোশন গিরি- প্রশান্তের জন্য বিশাল প্রচারণা চালান, সমাবেশ করেন, তহবিল সংগ্রহ করেন এবং মানুষকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
“পাহাড় কা গৌরব” হিসাবে প্রশান্তের ব্র্যান্ড পরিচিতি পাহাড় ছাড়িয়ে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিচারক জাভেদ আখতার, অনু মালিক, আলিশা চিনাই এবং উদিত নারায়ণের বিভিন্ন সমালোচনা সত্ত্বেও, তিনি বিজয়ী হন, যা গোর্খাদের আত্মসম্মান ও গর্বকে আরও উঁচুতে তোলে। বিজয়ের পর তার অ্যালবাম ধন্যবাদ প্রকাশিত হয়, আর তিনি গাইলেন জনপ্রিয় গান বীর গোর্খালি, যা পাহাড়ের মানুষের কাছে এক আবেগের প্রতীক হয়ে ওঠে।
Golden Globe Awards 2026: গোল্ডেন গ্লোবে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া-নিক জোনাসের মিষ্টি মুহূর্ত
কিন্তু সেই গর্বের গল্প রবিবার থমকে যায়। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে দিল্লিতে সন্দেহজনক হার্ট অ্যাটাকে প্রশান্ত তামাং-এর মৃত্যু ঘটে। স্ত্রী গীতা থাপা, তাকে দ্রুত মাতা চানন দেবী হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি রেখে গেলেন তার মা, বোন অর্চনা ও অনুপমা এবং স্ত্রীকে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে অর্চনা বলেন, “ইন্ডিয়ান আইডলে জিতে সে শুধু পরিবার নয়, গোটা দার্জিলিংকে গর্বিত করেছিল। তার জীবন সেদিন থেকেই পাল্টে যায়।”
ইন্ডিয়ান আইডল জয়ের পরে তিনি পান ১ কোটি টাকার পুরস্কার এবং শুরু হয় তার নেপালি সিনেমাজীবন। গোর্খা পল্টন (২০১০) দিয়ে অভিষেক, পরে নিশানি (২০১৪) সহ একাধিক ছবি। সম্প্রতি পাতাল লোক সিজন ২-এ অভিনয় করে তিনি নতুন প্রজন্মের কাছেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
Dev: ১২ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পরেও এমন কাণ্ড! দেবকে প্রকাশ্য মঞ্চে টেনে কী দাবি মুখ্যমন্ত্রীর?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “জাতীয় খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী প্রশান্ত তামাং-এর আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিবার ও ভক্তদের প্রতি সমবেদনা জানাই।” ২০০৭ সালে একজন রেডিও জকির তাঁকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য দার্জিলিং পাহাড়ে ক্ষোভ উস্কে দেয় এবং নবীন গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনে নতুন আগুন জ্বলে ওঠে। রোশন গিরি স্মৃতিচারণে বলেন, “প্রথমবার আমাদের একজন ছেলে জাতীয় প্ল্যাটফর্মে ছিল। প্রশান্ত আমাদের পরিচয় ও স্বপ্নকে শক্তি দিয়েছিল।”
২০১৭ সালে আন্দোলনের সময় প্রশান্ত আবারও মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন। তিনি বলেছিলেন, “গোর্খাল্যান্ডের সংগ্রাম থামবে না। আমি এর জন্য গান লিখতে চাই।”
গোর্খা যুবকের সেই সাধারণ জীবন- তুংসুং-এ বেড়ে ওঠা, বাবাকে হারিয়ে স্কুল ছাড়া, কলকাতা পুলিশের ব্যান্ডে গান গাওয়া- একদিন তাকে জাতীয় তারকা করে তুলবে, তা কেউ ভাবেনি। প্রশান্ত তামাং তাই শুধু একজন গায়ক নন, এক প্রজন্মের আশা ও পরিচয়ের প্রতীক।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us