/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/25/prosenjit-chatterjee-2026-01-25-20-32-14.jpg)
‘পদ্মশ্রী’ পাচ্ছেন বুম্বাদা
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিল এক খুদে ছেলে। ছবির নাম ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’। সেদিন যে চাকা ঘুরতে শুরু করেছিল, তা আজও সগৌরবে ঘুরে চলেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই শিশুশিল্পীই হয়ে উঠেছেন বাংলা ছবির অবিচ্ছেদ্য অংশ, ‘বুম্বাদা’-প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)। ঝুলিতে সাড়ে তিনশোর বেশি ছবি, অসংখ্য হিট ও সুপারহিট, আর কয়েক দশক জুড়ে দর্শকের অটুট ভালোবাসা, এই পথচলা নিছক সাফল্যের গল্প নয়, এ এক দীর্ঘ সাধনার ইতিহাস।
১৯৬৮ সালে বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরেই তাঁর অভিনয়ে যাত্রা শুরু। ঋষিকেশ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ও বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রযোজিত ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন মাধবী মুখোপাধ্যায়ের ছেলের চরিত্রে। সেই ছোট্ট চরিত্র থেকেই বোঝা গিয়েছিল, অভিনয় তাঁর রক্তে মিশে আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলেছেন, তৈরি করেছেন নিজের আলাদা জায়গা।
১৯৮৩ সালে ‘দুটি পাতা’ ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ। এরপর ১৯৮৭ সালের ‘অমর সঙ্গী’ তাঁকে এনে দেয় বিপুল জনপ্রিয়তা। বাংলা বাণিজ্যিক ছবির নায়ক হিসেবে যেমন তিনি দর্শকের মন জয় করেছেন, তেমনই আর্ট ফিল্মের সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল চরিত্রেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন অনায়াসে। তপন সিন্হার ‘আতঙ্ক’, তরুণ মজুমদারের ‘পথভোলা’, বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর ‘স্বপ্নের দিন’ এই ছবিগুলিতে তাঁর অভিনয় আজও বাংলা ছবির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্বও তাঁকে আলাদা করে তোলে। প্রসেনজিৎ নিজেই বলেছিলেন, অভিনেতা না হলে তিনি ইঞ্জিনিয়ার হতেন। পড়াশোনাতেও তিনি মন্দ ছিলেন না, বোর্ডের পরীক্ষায় পেয়েছিলেন ৬০ শতাংশ নম্বর। বাস্তব জীবনে তিনি সহজ-সরল, মানুষকে সহজে বিশ্বাস করেন। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “নতুন করে জীবন শুরু করলে ভুল লোকের উপর নির্ভর করা, এই স্বভাবটা বাদ দিতাম। আমি খুব সহজে মানুষকে বিশ্বাস করে ফেলি। অনেক ঠকেছি। তবু মানুষের উপর বিশ্বাস হারাতে পারি না। মানুষকে মানুষ হিসেবেই গ্রহণ করি, ভাল দিকটাই আগে দেখি।”
এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই হয়তো তাঁকে অভিনেতা হিসেবে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। চরিত্রের গভীরে ঢুকে পড়ার ক্ষমতা, সাধারণ মানুষের আবেগকে পর্দায় তুলে ধরার দক্ষতাই তাঁকে আলাদা উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের ‘নধরের ভেলা’ কলকাতায় কবে, কোথায়?
২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে ‘মহানায়ক’ সম্মানে ভূষিত করে এবার সেই সম্মানের তালিকায় যুক্ত হল দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ (Prosenjit Chatterjee Padma Shri)। রবিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রকাশিত তালিকায় পদ্মশ্রী (Padma Shri 2026) ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নাম।
আরও পড়ুন: ‘আমার কাছে মন্দির একটাই-যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়’, হোক কলরব মুক্তি পেতেই রাজ চক্রবর্তীকে আইনি নোটিশ
শিশুশিল্পী থেকে মহানায়ক, বাণিজ্যিক নায়ক থেকে শিল্পমনস্ক অভিনেতা, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এই দীর্ঘ যাত্রা আসলে বাংলা সিনেমারই এক উজ্জ্বল অধ্যায়। পদ্মশ্রী প্রাপ্তি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান নয়, এটা বাংলা চলচ্চিত্রেরও গর্বের মুহূর্ত।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us