/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/17/r-madhavan-2026-01-17-11-56-41.jpg)
নারীদের সম্মান জানানোর ভাষা বদলাচ্ছে? প্রশ্ন তুললেন মাধবন
অভিনেতা আর মাধবন (R Madhavan) তাঁর ব্যক্তিত্ব, মার্জিত ব্যবহার ও স্বাভাবিক অভিনয়শৈলীর জন্য বরাবরই দর্শকদের কাছে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। দক্ষিণ ভারত ও বলিউড দু’জগতেই সমান জনপ্রিয় তিনি। রোমান্টিক হিরো থেকে শুরু করে বাস্তবধর্মী চরিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয় তাঁকে করে তুলেছে প্রাসঙ্গিক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরও পরিণত, সংবেদনশীল ও চিন্তাশীল শিল্পী হয়ে উঠেছেন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছেন, বদলে যাওয়া আধুনিক সমাজের গতিপ্রকৃতি ও সম্মান প্রদর্শনের নতুন সংজ্ঞা তাঁকে এবং তাঁর প্রজন্মের অনেক পুরুষকেই বিভ্রান্ত করছে। ‘আপ জ্যায়সা কোই’ (Aap Jaisa Koi Movie) ছবিটি মুক্তির আগে ইন্ডিয়া টুডের সঙ্গে এক অকপট আড্ডায় তিনি সেই কথাই তুলে ধরেছেন।
মাধবন বলেন, ‘আমার মতো মানুষদের সম্মান দেখানোর নতুন যুগের পদ্ধতি শিখতে হচ্ছে। ছোটবেলা থেকে যে ভদ্রতা ও সৌজন্যের শিক্ষা তিনি পেয়েছেন, তার মধ্যে ছিল মহিলাদের জন্য গাড়ির দরজা খুলে দেওয়া, তাঁদের আগে যেতে দেওয়া, কোনো মহিলা দাঁড়িয়ে থাকলে উঠে দাঁড়ানো-এই সবকিছুই একসময় সম্মানের প্রতীক হিসেবে ধরা হতো। সমাজে এগুলো ছিল ভদ্রতার চিহ্ন, শিষ্টাচারের পরিচয়। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে দৃষ্টিভঙ্গিও। আজ অনেক ক্ষেত্রেই এই আচরণগুলোকে দেখা হচ্ছে ভিন্ন চোখে।'
অভিনেতা উদাহরণ দিয়ে বলেন, এখন এমন মানুষ আছেন যাঁরা স্পষ্টভাবে বলেন, “দয়া করে আমার জন্য দরজা খুলবেন না,” বা “আমাকে ম্যাম বলে ডাকবেন না।” কেউ কেউ বলেন, “আমি আমার দরজা নিজেই খুলতে পারি।” এই কথাগুলো পুরুষদের মনে বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। তাঁরা বুঝতে পারে না, সম্মান দেখাতে গিয়ে তাঁরা অজান্তেই কাউকে অসম্মান করছে কি না।
আরও পড়ুন: দুর্গা পুজোয় ম্যাজিক আনছে ‘দেশু ৭’, দিনক্ষণ জানালেন শুভশ্রী
একদিকে তাঁদের শেখানো হয়েছে ভদ্রতা ও সৌজন্য বজায় রাখতে, অন্যদিকে আধুনিক সমাজে স্বাধীনতা ও সমানাধিকারের ধারণা সেই আচরণগুলোকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।
মাধবনের বক্তব্য আসলে একটি বড় সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন। বর্তমান সমাজে সম্মান মানে আর শুধু ভদ্র আচরণ নয়, বরং অন্যের স্বাধীনতা, পছন্দ ও আত্মসম্মানকে গুরুত্ব দেওয়া। কেউ যদি চায় নিজে দরজা খুলতে, সেটাও তাঁর আত্মনির্ভরতার প্রকাশ। কেউ যদি “ম্যাম” সম্বোধন পছন্দ না করেন, সেটাও তাঁর পরিচয়ের প্রতি নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত। এই পরিবর্তনগুলোকে বুঝে নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন: বলিউডে ফান্ডিং স্ক্যাম! দীপক তিজোরির আড়াই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিলেন দুই নারী!
তাই মাধবন মনে করেন, এই পরিবর্তনশীল সমাজে পুরুষদের জন্য একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ দরকার। কীভাবে সম্মান দেখাতে হবে, কীভাবে কারও স্বাধীনতাকে সম্মান করতে গিয়ে নিজের সৌজন্য বজায় রাখতে হবে। এই ভারসাম্যটাই এখন শেখার বিষয়। পুরনো শিষ্টাচার আর নতুন চিন্তাধারার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষদের জন্য এই রূপান্তর সহজ নয়। তবে এই বোঝাপড়াই ভবিষ্যতের আরও সংবেদনশীল, সমানাধিকারভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। মাধবনের এই বক্তব্য শুধু একজন অভিনেতার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং এক প্রজন্মের মানসিক দ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছবি।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us