/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/15/raaj-chakraborty-2026-01-15-13-53-35.jpg)
বিতর্কে মুখ খুললেন রাজ চক্রবর্তী
আগামী ২৩ জানুয়ারি মুক্তি পেতে চলেছে রাজ চক্রবর্তীর বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘হোক কলরব’ (Hok Kalorob)। মুক্তির আগেই ছবির একটি সংলাপ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সংলাপটি হল, “আমি ক্ষুদিরাম চাকী, আমি ঝুলি না, ঝোলাই!” এই সংলাপকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ দাবি করছে, এটি স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকির নাম ও স্মৃতির অবমাননা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে সরাসরি মুখ খুললেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী।
রাজ (Raaj Chakraborty) স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ছবিতে ক্ষুদিরাম চাকি নামে একটি চরিত্র রয়েছে, যার ভূমিকায় অভিনয় করছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। সংলাপটি সেই চরিত্রের মুখেই বলা হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণভাবে গল্প ও চরিত্রের প্রেক্ষিত অনুযায়ী লেখা। তিনি বলেন, 'এই সংলাপ কেন বলা হয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে, তা সিনেমা দেখলেই পরিষ্কার বোঝা যাবে। শুধুমাত্র একটি লাইন শুনে বা পড়ে তার অর্থ বিকৃত করা ঠিক নয়।'
আরও পড়ুন: ‘সহজ পাঠের গপ্পো’র নূর এবার ‘চণ্ডীকথা’য়, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছোটু শোনাল নিষ্পাপ শৈশবের গল্প
পরিচালকের অভিযোগ, কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে এই চরিত্রের নামকে ক্ষুদিরাম বসু বা প্রফুল্ল চাকির সঙ্গে জুড়ে দিয়ে একটি বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, 'ক্ষুদিরাম চাকি নামে যে চরিত্রটি রয়েছে, তার সঙ্গে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ক্ষুদিরাম বসু বা প্রফুল্ল চাকির কোনও সম্পর্ক নেই। যেমন নরেন্দ্রনাথ নাম হলেই কেউ নরেন্দ্র মোদী হয়ে যায় না, তেমনই ক্ষুদিরাম চাকি কখনও ক্ষুদিরাম বসু হতে পারে না।'
আরও পড়ুন: সাধারণেই অসাধারণ! বন্ধুর বিয়েতে আলিয়া-রণবীরের স্টাইল চর্চায়, একসঙ্গে বড় পর্দায় ফিরছেন তারকাজুটি!
রাজ চক্রবর্তীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশেষ করে একটি রাজনৈতিক দলের আইটি সেল পরিকল্পিতভাবে বিষয়টিকে প্রপাগান্ডার রূপ দিচ্ছে। তিনি সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেন, এই ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারে পা না দিতে। তাঁর কথায়, 'কিছু লোক ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে হাতিয়ার করে অযথা বিতর্ক তৈরি করতে চায়। আমরা বাঙালিরা আমাদের মহাপুরুষদের সম্মান করতে জানি। তাঁদের নিয়ে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্মান করার কথা ভাবতেও পারি না।'
আরও পড়ুন: ৪৬-এও ঝলমলে বিপাশা! টেরেস গার্ডেন থেকে হোম থিয়েটার, বিপাশার বিলাসবহুল জীবনের ঝলক
তিনি আরও বলেন, যারা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে, যারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে, যারা রবীন্দ্রনাথকে অসম্মান করে, তাদের প্রপাগান্ডায় বিশ্বাস না করাই শ্রেয়। রাজের মতে, এই ধরনের মানুষরা সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়।
তবে একই সঙ্গে তিনি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে জানিয়েছেন, যদি বিশিষ্ট ও সম্মানিত ব্যক্তিরা মনে করেন সংলাপটি সত্যিই কারও অনুভূতিতে আঘাত করছে, তবে তিনি বিষয়টি ভেবে দেখবেন। প্রয়োজন হলে সংলাপ কেটে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতেও তিনি প্রস্তুত। সবশেষে রাজ চক্রবর্তী আবারও আশ্বাস দেন, ‘হোক কলরব’-এর ওই সংলাপ বা চরিত্রের সঙ্গে ক্ষুদিরাম বসু কিংবা প্রফুল্ল চাকির কোনও ঐতিহাসিক, ভাবগত বা রাজনৈতিক যোগ নেই।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us