/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/14/arghya-2026-01-14-16-53-56.png)
কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে নিয়ে?
বছর শুরুতেই বাংলা সঙ্গীতজগতে নেমে এলো গভীর শোকের ছায়া। চলে গেলেন কিংবদন্তি রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী অর্ঘ্য সেন। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। অবশেষে ১৪ জানুয়ারি, বুধবার সকালে ৯০ বছর বয়সে, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলার এই অনন্য শিল্পী। তাঁর চলে যাওয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বিষণ্ণতার ঢেউ।
রবীন্দ্রসঙ্গীতকে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, তা এককথায় অনন্য। অর্ঘ্য সেনের গলায়, রবীন্দ্রনাথের গান যেন রূপ পেত আরও গভীর অনুভূতির। তাঁর কণ্ঠে ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে’ বা ‘আমার মাথা নত করে দাও’ শুধুই সুরেলা পরিবেশনা নয়, বরং শ্রোতার হৃদয়ের অন্তঃস্থলে পৌঁছে যাওয়া এক আত্মিক অভিজ্ঞতা। সুর, ব্যাকরণ ও আবেগের অনন্য মেলবন্ধনে প্রতিটি গান হয়ে উঠত যেন এক ধ্যানমগ্ন সাধনা।
শুধু শিল্পী হিসেবে নয়, শিক্ষক হিসেবেও অর্ঘ্য সেন ছিলেন অদ্বিতীয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখতে হলে শুধু সুরের জ্ঞান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন চরিত্র, অভ্যন্তরীণ অনুভূতি ও কবির ভাবধারাকে অনুধাবন করা। তাঁর স্নেহ, কঠোর অনুশাসন ও শিল্পদৃষ্টি থেকে তৈরি হয়েছেন অসংখ্য প্রতিভাবান শিল্পী, যারা আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রবীন্দ্রসঙ্গীতকে সমান নিষ্ঠায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন। শিক্ষকের এই বিশাল অবদানের জন্যই তিনি ছাত্রছাত্রীদের কাছে ছিলেন এক আলোকবর্তিকা।
তাঁর শিল্পসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৭ সালে তিনি লাভ করেন, সঙ্গীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার। পরবর্তী সময়ে ‘টেগোর ফেলো’ সম্মানও তাঁর ঝুলিতে যোগ হয়, যা তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করে রবীন্দ্রসঙ্গীতের এক অপূর্ব দিশারী হিসেবে। তবে পুরস্কারের চেয়ে তাঁর রেখে যাওয়া গানই আজ সবচেয়ে বড় স্মৃতি, যা যুগ যুগ ধরে মানুষকে শান্তি, প্রশান্তি ও মাধুর্যে ভরিয়ে রাখবে।
Taslima Nasrin: 'খুব সম্ভব নিজেরাই মেরে', কণ্ঠশিল্পী প্রলয় চাকীর মৃত্যু, ক্ষোভে ফুঁসছেন তসলিমা
অর্ঘ্য সেনের প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকের ছায়ায় ঢেকে যায় সমগ্র বাংলা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোকপ্রকাশ করে বলেন, বাংলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি। সঙ্গীতমহলের প্রবীণ থেকে নবীন, সকলেই অর্ঘ্য সেনকে মানেন। তাঁর মৃত্যু মানে রবীন্দ্রসঙ্গীতের এক দৃঢ় স্তম্ভ ভেঙে পড়া।
জীবন থেমে গেলেও শিল্পীর গান বন্ধ হয় না। অর্ঘ্য সেনের কণ্ঠ আজ নীরব, কিন্তু তাঁর গাওয়া সুর চিরকাল বেজে থাকবে শ্রোতার মনে—রবীন্দ্রসঙ্গীতের এক অবিনশ্বর প্রতীক হয়ে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us