/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/02/raj-2026-01-02-16-35-14.jpg)
কী বললেন রচনা রাজকে নিয়ে?
রাজ চক্রবর্তী গতবছরের শেষ থেকেই বেশ ফ্যাসাদে পড়েছেন। তাঁর কারণ, তাঁর নতুন ছবি। রাজ আসছেন হোক কলরব নিয়ে। সেই ছবিতে ক্ষুদিরাম চাকী নামক এক পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। এবং, এই নাম- অর্থাৎ ক্ষুদিরাম চাকী - অনেকেই ধরে নিয়েছেন, রাজ এই নাম টেনে নিয়ে এসেছেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দুই অনন্য ব্যক্তিত্ব ক্ষুদিরাম বসু এবং প্রফুল্ল চাকীর থেকে।
যদিও, রাজ এই নামের নিরিখে নিজের মতামত রাখেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই নামের সঙ্গে কোনও স্বাধীনতা সংগ্রামীর সম্পর্ক নেই। পরিচালককে বলতে শোনা যায়, "ওরা ইচ্ছে করে প্রোপ্যাগান্ডা ফিল্ম করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আপনারা এই প্রলোভনে পা দেবেন না।"
Bengali Cinema 2026: উইন্ডোজের ২৫ বছর, দেব-জিৎ-প্রসেনজিৎ থেকে মিমি! ২০২৬-এ জমজমাট বাংলা সিনেমা
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, তিনি রাজের এই আচরণকে ইঙ্গিত করেই বলেন, পরিচালকের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। এরপরেই তিনি জানান, তাঁর বাবার নাম রবীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং তিনি, বহুবার এমন শুনেছেন, তাঁর বন্ধুরা এই রবীন্দ্রনাথ এদিকে আয় বলে ডাকছেন। এই সাপেক্ষেই, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার তরফে ফোন করা গিয়েছিল রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তিনি কিছু বিষয় পরিষ্কার করলেন। এই নাম বিভ্রাট প্রসঙ্গেই তিনি বলেন...
"আমাদের সময় আর এখন এক না। আমরা যে কীসের মধ্যে আছি, আমরাই জানি। আমাদের চারপাশ আগের মত নেই। আমরা জানি না, যে কী থেকে কী হয়ে যেতে পারে। রাজ যেখানে এতদিন ইন্ডাস্ট্রিতে আছে। এখন রাজনীতির এক সদস্য, সেখানে ও সেই পরবর্তী পরিণতি সম্পর্কে আঁচ করেনি এটা তো হতে পারে না। ও জানে, অনেককিছুই। এবার আসি নাম প্রসঙ্গে। আমি, বুম্বা - আমাদের একটি ছবি আছে সবুজ সাথী। সেই ছবির প্রযোজক ছিলেন ক্ষুদিরাম দা। আজও আমরা তাকে মনে রেখেছি। এই যে নামগুলো, সাধারণ মানুষের অনেকেই আছেন সেই নামের অধিকারী। আগের দিনের অনেকেরই রবীন্দ্রনাথ নাম হতো। এখন সেটা হচ্ছে না। এখন যদি এই নাম রাখা হয়, লোকজন হাসবে, ট্রোল করবে। সোশ্যাল মিডিয়া এখন খুব স্ট্রং। আমরা কী করছি, সেটা জেনে বুঝে করা উচিত।"
Shah Rukh Khan: ‘ভারতে থাকার অধিকার নেই’, কেকেআরে মুস্তাফিজ! শাহরুখ খানকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপি নেতার
তিনি টেনে আনলেন বিজেপি প্রসঙ্গও। তারাই যে এহেন সব কান্ড ঘটাচ্ছে। সেই উল্লেখ করতে ভুল হল না তাঁর। অভিনেত্রী এবং সংসদ বললেন, "নাম নিয়ে এখন সাংঘাতিক বাক বিতন্ডা চলছে। ওরা আমাদের মনীষীদের নাম জানে না। রবীন্দ্রনাথ সান্যাল বলে। বঙ্কিম দা বলেন। সেখানে যেখানে কেন্দ্রের শাসকদলের নেতারা অর্ধেক বাঙালি মনীষীদের চেনেন না। সেই ক্ষেত্রে রাজ যখন নাম ভাবছে একটা চরিত্রের, তাঁকে সচেতন হতে হবেই।" কিন্তু, আর্ট এবং ক্রাফট তো মুক্ত। তাঁর তো কোনও বন্ধন নেই। যেকোনও ছবিকে সুযোগ পেলেই যে প্রোপাগান্ডা করে দেওয়ার প্রবণতা, এ তো সিনেমা শিল্পের অধঃপতন টেনে আনতে পারে? রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়...
"আমরা কি এখন মুক্ত নাকি? এখন তো ওয়ান থেকে চুন খসলে গসিপ হয়। আমার ক্ষেত্রেই আমি বলছি, দিদি নম্বর ওয়ানের মঞ্চে যে দিদিরা খেলতে আসতেন, তাঁরা এসে আগে আমায় বলেন আপনি একটু হাসুন। আপনি না হাসলে আমরা কথা বলব না। আমার হাসি এতটাই জনপ্রিয়। সেই হাসির জন্য আমায় ট্রোল হতে হয়েছে। আমি যখন রাজনীতিতে নামলাম, প্রচুর মানুষ আমায় ট্রোল করেছেন, বলেছেন এ হ্যা হ্যা করে হাসে। আমাদের সাধারণ জীবনটাই এখন নরমাল নেই। কী করে সম্ভব মুক্ত থাকা।"
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us