Rajesh Khanna: আইভি ড্রিপ নিয়ে শুটিং, 'আমার রসবোধ না থাকলে', মৃত্যুর আগে যা করেছিলেন রাজেশ?

Rajesh Khanna: বাল্কি জানান, স্ক্রিপ্ট শোনানোর সময় রাজেশ খান্না হেসে উঠেছিলেন। তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন ঠিকই, কিন্তু রসবোধে কোনও ঘাটতি ছিল না।

Rajesh Khanna: বাল্কি জানান, স্ক্রিপ্ট শোনানোর সময় রাজেশ খান্না হেসে উঠেছিলেন। তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন ঠিকই, কিন্তু রসবোধে কোনও ঘাটতি ছিল না।

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
rajesh

রাজেশের সঙ্গে যা হয়েছিল...

রাজেশ খান্না, এক সময় ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার। জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে তিনি যেমন ইতিহাস গড়েছিলেন, তেমনই জীবনের শেষ পর্বে সেই সুপারস্টারডমের পতনও দেখেছিলেন। তবু তাঁর শেষ দিনগুলিতেও পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং অসাধারণ রসবোধ একেবারেই অটুট ছিল। এ কথা স্মরণ করেছেন খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা আর বাল্কি। রাজেশ খান্নার জীবনের শেষ বিজ্ঞাপনটি পরিচালনা করেছিলেন বাল্কিই, যা আজও দর্শকদের কাছে আবেগঘন এক স্মৃতি।

Advertisment

একটি পডকাস্টে বাল্কি জানান, রাজেশ খান্নার সঙ্গে কাজ করা ছিল তাঁর কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তিনি কখনও তাঁকে ‘কাকা’ বলে ডাকেননি, বরং সব সময় ‘স্যার’ বলেই সম্বোধন করতেন। ২০১২ সালে রাজেশ খান্নার মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া সেই বিজ্ঞাপনটিতে তাঁর সুপারস্টার ইমেজকে ভিন্ন এক দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা হয়। একসময় যাঁর চারপাশে অসংখ্য ভক্ত থাকত, সেই মানুষটিই বিজ্ঞাপনে দেখান- আজ তাঁর পাশে আর কেউ না থাকলেও তাঁর সঙ্গী হয়ে রয়েছে হ্যাভেলসের ফ্যান। ব্যাকগ্রাউন্ডে ঘুরতে থাকা সিলিং ও টেবিল ফ্যানের হাওয়ায় বসে রাজেশ খান্না শক্তি সামন্তের ‘কাটি পতং’ ছবির আইকনিক গান ‘ইয়ে শাম মাস্তানি’ শিস দিয়ে গুনগুন করেন।

Hrithik Roshan: 'আমার শরীরে ২৫% বাঙালি রক্ত', গর্বের সঙ্গে ঘোষণা হৃতিক রোশনের

বাল্কি জানান, স্ক্রিপ্ট শোনানোর সময় রাজেশ খান্না হেসে উঠেছিলেন। তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন ঠিকই, কিন্তু রসবোধে কোনও ঘাটতি ছিল না। রাজেশ খান্না মজা করে বলেছিলেন, “বাবু মোশাই, যদি আমার রসবোধ না থাকত, তাহলে কি আমি কখনও সুপারস্টার হতে পারতাম?”

কয়েক মাস পর, যখন বেঙ্গালুরুতে বিজ্ঞাপনের শুটিং হয়, তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে সেটে আসতে হয় তাঁকে। এক হাতে আইভি ড্রিপ লাগানো অবস্থায় হুইলচেয়ারে বসেই তিনি শুটিং করেন। প্রতিবার মাত্র ৪৫ সেকেন্ডের জন্য দাঁড়িয়ে অভিনয় করতেন। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও মাত্র সাত মিনিটের ফুটেজে তৈরি হয় এক মিনিটের বিজ্ঞাপন- যা সত্যিই অভূতপূর্ব।

Amitabh Bachchan: তাঁবুতে থাকতেন, চিঠি লিখতেন, আর সকাল হতেই...অমিতাভের অজানা গল্প শোনালেন রঞ্জিত

বিজ্ঞাপনটি দেখে রাজেশ খান্না সন্তুষ্ট হয়েছিলেন এবং বাল্কিকে বলেছিলেন, “আমরা একদিন একসঙ্গে একটা ছবি করব।” দুঃখজনকভাবে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি চলে যান। বাল্কি স্বীকার করেন, তিনি রাজেশ খান্নার সোনালি দিন দেখেননি, বরং দেখেছিলেন তাঁকে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায়। যেখানে তিনি জানতেন, সময় খুব বেশি নেই। তবু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রাজেশ খান্না ছিলেন একজন প্রকৃত শিল্পী—ঠিক যেমন সিনেমার গল্পে দেখা যায়।

Entertainment News Today Rajesh Khanna