/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/12/rj-2025-12-12-10-15-58.jpg)
কে এই অভিনেতা...
ভারতীয় চলচ্চিত্রে 'সুপারস্টার' শব্দটি উচ্চারিত হলেই যে নামটি সবার আগে মনে আসে, তিনি রজনীকান্ত। অনন্য স্টাইল, ক্যারিশমাটিক ডায়লগ ডেলিভারি এবং ভক্তদের সঙ্গে এক অসাধারণ সংযোগ- সব মিলিয়ে তিনি কেবল দক্ষিণের নয়, বিশ্বজুড়ে ভারতীয় সিনেমার এক সাংঘাতিক ব্যক্তিত্ব। এই বছর অভিনয় জীবনের, ৫০ বছর পূর্ণ করেছেন অভিনেতা। রজনীকান্ত প্রধানত তামিল চলচ্চিত্রে কাজ করলেও হিন্দি, তেলেগু সহ বিভিন্ন ভাষাতেই সমান জনপ্রিয়।
১৯৫০ সালের ১২ ডিসেম্বর, বেঙ্গালুরুতে মারাঠি পরিবারে শিবাজি রাও গায়কোয়াড়, নামে জন্ম হয়। আজ, রজনীকান্ত ৭৫ বছরে পা রেখেছেন। মাত্র নয় বছর বয়সে মাকে হারিয়ে পরিবারে আর্থিক সংকট তৈরি হয়। স্কুল-কলেজ শেষে পরিবারকে সাহায্য করতে, তিনি কুলি, কাঠমিস্ত্রীসহ ছোটখাটো নানা কাজ করেন। তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেশি আলোচিত অধ্যায় হলো বেঙ্গালুরু ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসে, বাস কন্ডাক্টর হিসেবে চাকরি করা! এটি এমন একটি অধ্যায়, যা আজও তাঁর সাফল্যের যাত্রার প্রেরণাদায়ক অংশ।
Dharmendra-Hema Malini: 'বাঁচতে শিখতে হবে আমায়', দিল্লিতে ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভা, রাজ-নেতাদের সম্মুখে সত্য-প্রেমের কথা শোনালেন হেমা
যদিও অভিনয় ছিল তার স্বপ্ন, তবু স্থায়ী চাকরি ছেড়ে সে পথে এগোতে ভয় পেতেন তিনি। এই সময় তার জীবনে বড় ভূমিকা নেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজ বাহাদুর, তিনি তখন বাস ড্রাইভার ছিলেন। দু’জনের শিল্পপ্রেম তাদের আরও কাছাকাছি আনে, এবং রাজ ধীরে ধীরে তাঁর অভিনয় প্রতিভা উপলব্ধি করেন। বিশেষ করে নাটকে দুর্যোধন বা ইয়েছামা নায়কের চরিত্রে রজনীর অভিনয় রাজকে বিশ্বাস করিয়ে দেয়- এই মানুষটি বড় পর্দার জন্যই জন্মেছেন।
কিন্তু শিবাজির ভয় ছিল—“সরকারি চাকরি কে ছাড়বে?” রাজ তাকে মাদ্রাজ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হতে অনুরোধ করতে থাকেন, এমনকি প্রতিশ্রুতি দেন যে পড়াশোনা চালানোর সময় তার সমস্ত খরচ তিনি সামলাবেন। কথা অনুযায়ী, দুই বছর ধরে নিজের বেতনের বড় অংশ তিনি শিবাজি অর্থাৎ রজনীর হাতে হাতে তুলে দেন।
Asha Bhosle: 'সব পেয়ে গেলে কদর থাকে না', লতা-আশাকে অর্থ নয়, কী শিক্ষা দিয়েছিলেন তাঁদের বাবা?
রাজ বহুবার বলেছেন, শিবাজির সেই সময়ের দারিদ্র্য ছিল চরম! তাঁর কথায়, "তিনি ৫০ পয়সার বিনিময়ে কাঁধে লাগেজ বয়ে নিয়ে যেতেন।" এত সংগ্রামের মাঝেও তিনি কখনো অতীত ভুলতে চাননি।
রজনীকান্ত পরে সেই উপকার ভুলে যাননি। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি নিজের পরামর্শদাতা কে. বালাচন্দর ও ভাই সত্যনারায়ণের পাশাপাশি রাজ বাহাদুরের নাম নেন- যে বন্ধুর জোরাজুরির কারণেই, আজ বিশ্ব, রজনী-জাদু উপভোগ করছে। রাজ তখন বলেন, “ওর আমার নাম নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু এটাই তার সততা, তার নম্রতা। সে কখনও তার বন্ধুদের ভোলে না।”


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us