scorecardresearch

বড় খবর

পুরুষরা নারীদের সমকামিতা দেখতে বেশি পছন্দ করে: রামগোপাল ভার্মা

Happy Birthday Ram Gopal Varma: কলকাতায় সিনেমার প্রচারে এসে খোলাখুলি কথা বললেন রামগোপাল ভার্মা।

Ram Gopal Varma, Happy Birthday Ram Gopal Varma, Lesbian Sex, Dangerous, রাম গোপাল ভার্মা, ডেঞ্জারাস, লেসবিয়ান সেক্স প্রসঙ্গে রামগোপাল ভার্মা, রামগোপাল ভার্মার জন্মদিন
রামগোপাল ভার্মা

তিন দশক বাদে কলকাতায় রামগোপাল ভার্মা। বিতর্ক-সিনেমা সবকিছু নিয়েই অকপট জবাব দিলেন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলাকে। লিখছেন সন্দীপ্তা ভঞ্জ

কেমন আছেন?

ফিট অ্যান্ড ফাইন… সিনেমা রিলিজের আগে যেমন একটা ধুকপুকানি থাকে। বাকি সব ভাল।

আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয়..

হ্যাঁ, সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলের দৌলতেই তো সকলের কাছে সমানভাবে পৌঁছনো যায়।

বিতর্কেরও অন্ত নেই আপনার পোস্ট, টুইট ঘিরে…

বিশ্বাস করুন, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে আমি ক্লান্ত! তবে, মনে যা আসে, সেটাই বলি বা লিখি। (হেসে)

আপনার ফিল্মি কেরিয়ারের গোড়ার দিকে কলকাতার সঙ্গে বিশেষ স্মৃতি জড়িত..

হ্যাঁ, ১৯৯০ সাল। আমার প্রথম সিনেমা ‘শিবা’ রিলিজ করল। সেসময়ে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেটা দেখানো হয়েছিল। সেই সুবাদেই আসা।

তার ৩২ বছর বাদে আবারও কলকাতায়.. কেমন অনুভূতি?

শহরটাকে তো সেভাবে আবিষ্কারই করতে পারলাম না। তবে এখানকার লোকজন সিনেমা-সংস্কৃতিপ্রেমী। সেটা আমার ভাল লাগে। তাই এবারও ‘ড্যাঞ্জারাস’ রিলিজের আগে প্রচারেই আসা।

‘ড্যাঞ্জারাস’ বলতে মাথায় এল, আপনার বহু সিনেমার প্লটে বিপজ্জনক গ্যাংস্টার, ডার্ক চরিত্রদের দেখা গিয়েছে। এখন আর ‘ডি কোম্পানি’, ‘সত্যা’- এগুলোর মতো ছবি বানান না কেন? ওটাই তো আপনার জ্যঁর..

কোথায়? করছি তো। হয়তো আগের সিনেমাগুলোর মতো সেগুলোর প্রচার করি না। তবে আমার গল্পে এখনও ওরকম ডার্ক চরিত্ররাই প্রাধান্য পায়।

RGV গ্যাংস্টার গল্প-বিশেষজ্ঞ.. অনুরাগীদের এমন মন্তব্যে কী বলবেন?

ওরাও সমাজে বাস করে। ওদের কথাও বলা উচিত। আর সেখানে রহস্য-রোমাঞ্চ আরও অনেক বেশি। (হেসে) ফিল্মমেকার হিসেবে সবধরণের গল্প তুলে ধরতেই পছন্দ করি আসলে। শুরু করেছিলাম কলেজ রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া এক ছাত্রের গল্প ‘শিবা’ দিয়ে। তারপর ভৌতিক ছবি ‘রাত’ বানালাম। ‘রঙ্গিলা’র মতো রোম্যান্টিক সিনেমা করেছি। যেটা বলছিলে, গ্যাংস্টারদের নিয়ে ছবি তো তৈরি করেছি-ই। তারপর রাজনৈতিক প্লট নিয়ে ‘সরকার’ও দর্শকদের দেখিয়েছি। তো পরিচালক হিসেবে সিনেমার গল্প নিয়ে আমার এমন এক্সপেরিমেন্ট চলতেই থাকে।

বিবেক অগ্নিহোত্রীর ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ নিয়ে আপনি খুব উত্তেজিত..

হ্যাঁ, হব না-ই বা কেন? এটা তো একটা Path Breaking ছবি। মানুষের সমস্ত প্রচলিত চিন্তাধারাকেই ভেঙে রেখে দিয়েছে। এখন তো বিগ বাজেট ছবি নিয়ে হইচই, তার মাঝে এরকম স্বল্প বাজেটের একটা ছবি যেভাবে দর্শকদের প্রভাবিত করেছে, তা প্রশংসা করার মতোই।

আপনি একবার বলেছিলেন যে, পুরুষরা নারীযৌনতা কিংবা লেসবিয়ান সেক্স দেখতে পছন্দ করে…

হ্যাঁ, একদম সত্যি কথা। আর এটা তো বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত যে ৯৫ শতাংশ পুরুষ লেসবিয়ান সেক্স দেখতে ভালবাসে।

এবার ‘ড্যাঞ্জারাস’ প্রসঙ্গে আসব। এই ‘বিপজ্জনক’ ভাবনাটা মাথায় এল কীভাবে?

দেখো, ৩৭৭ বৈধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সমাজের চোখে সমকামীতা এখনও অপরাধ-সম। সেটা নরমালাইজ করা দরকার। প্রচলিত ধ্যান-ধারণাকে বদলানো প্রয়োজন। সেই ভাবনা থেকেই ‘ড্যাঞ্জারাস’ বানানো। আমি বলতে চাই যে, ওদের আর আমাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। একজন পুরুষ নিঃসন্দেহে আরেক পুরুষের প্রেমে পড়তে পারে। ঠিক সেই কথাটাই মহিলাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তো আমি ভাবলাম যে, এত সিনেমা বানিয়েছি। যেখানে পুরুষ-মহিলা একে-অপরের প্রেমে পড়েছে। ওদের ভাব-ভালবাসা চলছে। কিন্তু যদি এরকম কোনও সিনেমা বানাই যেখানে গল্পের প্রোটাগনিস্টরাই লেসবিয়ান। দুই নারীর রোম্যান্স দেখানো যাবে পর্দায়।

পুরুষরা লেসবিয়ান সেক্স দেখতে পছন্দ করে, সেই জায়গা থেকেই কি এরকম একটা প্লট ভাবা?

আমি ভাবলাম, আমরা যখন কোনও নারী-পুরুষের প্রেমকাহিনী দেখি, সেক্ষেত্রে তো কখনও বাঁকা চোখে প্রশ্ন ছুঁড়ি না। তাই ভাবলাম এবার লেসবিয়ান জুটি নিয়েই সিনেমা বানাব। তবে হ্যাঁ, গল্পে একটা টুইস্ট রয়েছে। আমার গল্পের দুই মুখ্য চরিত্র নয়না-অপ্সরা কিন্তু পরিস্থিতির চাপে পড়ে হঠাৎ আবিষ্কার করে যে তাঁদের মধ্যে সমকামী সত্ত্বা রয়েছে। কিন্তু কীভাবে? সে গল্পটা বলব না (হেসে)।

RGV মানেই সময়ের আগে ভাবেন, অন্তত আপনার সিনেমার প্লট তো তাই বলে.. তো পর্দায় লেসবিয়ান গল্প আনতে এত দেরি করলেন কেন?

দেখো, এর নেপথ্যে দুটো কারণ রয়েছে। প্রথমত, আমি আমার গল্পের দুই মুখ্য চরিত্র খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অনেকেই অনেক সময় রামগোপাল ভার্মার সিনেমার অভিনয় করব বলে প্রথমে সবুজ সংকেত দিলেও পরে গল্পটা শুনে হয়তো কুঁকড়ে যেত। কারণ, সিনেমার টপিকটা তো সমাজের একটা ট্যাবু নিয়ে তাই না! তো আমি ভেবেছিলাম, এরকম কোনও ধন্দে আমি থাকব না। যে নায়িকা আমার সিনেমায় অভিনয় করবেন, তাঁদের বাড়ি থেকেও যেন একেবারে গোটা বিষয়টা শুনে ক্লিনচিট দেয়। দ্বিতীয়ত, গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো অতিমারী পরিস্থিতি তো রয়েইছে।

ট্রেলার দেখেই বলা যায়, সিনেমায় কাম-রস প্রায় মাখামাখি..

হ্যাঁ। কারণ, যদি দুটো নারী একে-অপরকে শুধু চুমু খায়, পর্দায় সেটা ভেবে দর্শক হয়তো ভাববেন এরা তো শুধু মাত্র বন্ধু। তাই সমকামী সত্ত্বাটাকে আরও বেশি করে হাইলাইট করার জন্যই আমাকে চিত্রনাট্যের স্বার্থে প্রচুর সেক্স-সিন রাখতে হয়েছে।
অনেক অভিনেত্রী-ই হয়তো এরকম ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে ভাববেন যে, লোকে কী বলবে?

নয়না গঙ্গোপাধ্যায় ও অপ্সরা রানির মতো দুই আঞ্চলিক সিনে-ইন্ডাস্ট্রির অভিনেত্রীদের-ই কেন পছন্দ করলেন?

(একটু ভেবে) প্রথমে অপ্সরা আমার নজরে পড়েছিল। ওঁর সঙ্গে বেঙ্গালুরুতে আমার দেখা হয়েছিল। ওঁকে যখন আমি গল্পটা শোনাই ও এককথায় রাজি হয়ে গেল। আমি তখনই অপ্সরাকে সোজা-সাপটা বলে দিয়েছিলাম যে, আজ হ্যাঁ বলছ, কাল হয়তো তোমার পরিবার আপত্তি করলে তুমি পিছিয়ে যাবে। তো ও ওঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলল। আমাকে জানাল যে, ‘আমি এইধরণের চরিত্রে কখনও অভিনয় করিনি। এক্সপ্লোর করতে চাই। দর্শক কতটা পছন্দ করবে জানি না। তবে এই ট্যাবু নিয়ে কথা বলা দরকার।’

আর নয়নাকে আমি দেখেছিলাম ‘চরিত্রহীন’ সিরিজে। বাংলা ওয়েব সিরিজটা দুর্দান্ত লেগেছিল আমার। ওখানে নয়নার পারফরম্যান্স দেখে ভেবেছিলাম- She is the another one.

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Entertainment news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Ram gopal varma on lesbian sex talks about dangerous