Rekha: অবৈধ সন্তানের তকমা বইতে হয়েছে, বাবার শেষকৃত্যে কি তবে রাগের চোটেই যাননি রেখা?

১৪ বছর বয়সে মায়ের ঋণের বোঝা সামলাতে স্কুল ছেড়ে সিনেমায় নামতে বাধ্য হন রেখা। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে বাধার মুখে পড়ে তাঁকে, মুম্বইয়ে পাড়ি দিতে হয়।

১৪ বছর বয়সে মায়ের ঋণের বোঝা সামলাতে স্কুল ছেড়ে সিনেমায় নামতে বাধ্য হন রেখা। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে বাধার মুখে পড়ে তাঁকে, মুম্বইয়ে পাড়ি দিতে হয়।

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
rekha-gemini-ganesan

কেন যান নি রেখা?

রেখাকে আজ আমরা চিনি গ্ল্যামার, আত্মবিশ্বাস আর রহস্যে মোড়া এক সুপারস্টার হিসেবে। কিন্তু এই ঝলমলে জীবনের আড়ালে লুকিয়ে আছে সীমাহীন লড়াই, অভাব আর আত্মপরিচয়ের যন্ত্রণা। বস্তুগত স্বাচ্ছন্দ্য আর সাফল্যের আগে রেখার জীবন ছিল সীমিত আয়ের, সামাজিক স্বীকৃতিহীন এক কঠিন বাস্তবতা।

Advertisment

ভানুরেখা গণেশন নাম তাঁর। তামিল কিংবদন্তি অভিনেতা জেমিনি গণেশন ও অভিনেত্রী পুষ্পাভাল্লীর কন্যা তিনি। পুষ্পাভাল্লীর সঙ্গে সম্পর্কের সময় জেমিনি গণেশন বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর পরিবারও ছিল। সেই কারণে ছোটবেলা থেকেই রেখাকে ‘অবৈধ সন্তান’ তকমা বয়ে বেড়াতে হয়েছে। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বাবার পরিচয় থাকা সত্ত্বেও, বাবার অনুপস্থিতিতে। পরবর্তী সময়ে যখন রেখা নিজেই একজন তারকা হয়ে ওঠেন, তখনই তিনি পরিচিত হন, জেমিনি গণেশনের কন্যা হিসেবে।

দুবাই সফরের মাঝেই দুঃসংবাদ! কাছের মানুষকে হারিয়ে শোকে ম্যুহমান অর্জুন বিজলানি

রেখা বড় হয়েছেন, ছয় ভাইবোনের সঙ্গে। তাঁর মায়ের জীবনে ছিল তিনজন সঙ্গী, আর বাবার ছিল মোট আটটি সন্তান। স্ত্রী আলামেলুর চার সন্তান এবং পুষ্পাভাল্লী ও সাবিত্রীর দু’জন করে। এক সাক্ষাৎকারে রেখা অকপটে স্বীকার করেছিলেন, শৈশবে তিনি কখনও বাবার অভাব বুঝতে পারেননি। “আমি জানতামই না বাবাকে মিস করা মানে কী। ‘বাবা’ শব্দটার অর্থই বুঝতাম না,” বলেছিলেন তিনি সিমি গারেওয়ালকে।

তবে বাস্তবতা ধীরে ধীরে ধরা দেয়। একই স্কুলে পড়া এক সৎ বোনকে বাবার সঙ্গে স্কুলে আসতে দেখে রেখা উপলব্ধি করেছিলেন তাঁর জীবনের শূন্যতা। নারায়ণী গণেশনের বই Eternal Romantic: My Father, Gemini Ganesan-এ উঠে এসেছে রেখার সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতি, যা দুই বোনের কাছেই ছিল আবেগে ভরা।

১৪ বছর বয়সে মায়ের ঋণের বোঝা সামলাতে স্কুল ছেড়ে সিনেমায় নামতে বাধ্য হন রেখা। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে বাধার মুখে পড়ে তাঁকে, মুম্বইয়ে পাড়ি দিতে হয়। এখানেও সহজ ছিল না পথ। নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে কঠোর পরিশ্রমে।

ব্যক্তিগত জীবনেও রেখার ভাগ্য ছিল নির্মম। বহু সম্পর্ক ভাঙনের পর ১৯৯০ সালে তিনি মুকেশ আগরওয়ালকে বিয়ে করেন। এই বিয়েতে প্রথমবার প্রকাশ্যে তাঁকে আশীর্বাদ করেন জেমিনি গণেশন। কিন্তু সেই সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। একই বছর মুকেশের আত্মহত্যায় বিধবা হন রেখা।

১৯৯৪ সালে ফিল্মফেয়ারের আজীবন সম্মাননা মঞ্চে বাবাকে পুরস্কার তুলে দিয়ে রেখা পান এক বিরল স্বীকৃতি। তবু সম্পর্কের জটিলতা মেটেনি। ২০০৫ সালে জেমিনি গণেশনের মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত হননি রেখা। তাঁর কথায়, “আমার শোক করার কিছু নেই। তিনি আমার কল্পনায় যেমন ছিলেন, বাস্তব তার চেয়েও সুন্দর ছিল।”

Entertainment News Today Rekha