/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/tina-turner-2025-11-26-19-34-36.jpg)
কে এই অভিনেত্রী...
সংগীত জগতের কিছু নাম একেকটি ঘরানার সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে যায় যে তাদের ব্যতীত সেই ধারার কথা ভাবাই কঠিন। যেমন ব্লুজে বিবি কিং, গজলে জগজিৎ সিং, আর রক অ্যান্ড রোলে সেই অবিচ্ছেদ্য নাম-টিনা টার্নার। ২৬ নভেম্বর ১৯৩৯ সালে আনা মে বুলক নামে জন্ম নেওয়া এই অসাধারণ শিল্পী পরবর্তীকালে “রক ’এন’ রোলের রাণী” হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান চিরস্থায়ী করেন।
টেনেসির ব্রাউনসভিলে জন্ম নেওয়া আনা মেয়ের শৈশব ছিল টানাপোড়েনে ভরা। বাবা-মা ও ঠাকুরদাদার বাড়ির মধ্যে বারবার স্থানান্তর, বিচ্ছিন্ন পরিবার, কঠোর বাস্তবতা- সবকিছুর মধ্যেও গানের প্রতি তার অনুরাগ কখনও ক্ষীণ হয়নি। ছোটবেলায় সিনেমার টিকিট কেনার জন্য রাস্তায় গান গাওয়া থেকে শুরু করে, নার্সের সহায়তা হিসেবে কাজ- সবকিছুই করেছেন তিনি। তবুও মঞ্চ আর দর্শকের সামনে থাকার ইচ্ছা তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়।
হাই স্কুলে চিয়ারলিডার ও বাস্কেটবল খেলোয়াড় টিনার জীবন পাল্টে যায়, যখন তিনি বোনকে নিয়ে নাইটক্লাবে যান। সেখানে তাঁর ভবিষ্যৎ সঙ্গী ও ব্যান্ডলিডার আইকে টার্নারের সাথে প্রথম দেখা হয়। প্রথমে তাকে প্রত্যাখ্যান করলেও, একদিন বিরতির সময় মঞ্চে উঠে বিবি কিং-এর গান গাওয়ার পর আইকে তার অসাধারণ প্রতিভা চিনতে বাধ্য হন। এরপরই তিনি কিংস অফ রিদম ব্যান্ডে যোগ দেন।
সু রেকর্ডসের সভাপতি জাগি মারে তার নাম বদলে “টিনা” করার পর, সব পাল্টে যায়। এভাবেই জন্ম হয় টিনা টার্নারের। ‘আ ফুল ইন লাভ’, ‘ট্রা লা লা লা’–র মতো হিট গান তাদের জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি এনে দেয় এবং ‘আইকে অ্যান্ড টিনা টার্নার রেভিউ’ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সফল লাইভ ব্যান্ডে পরিণত হয়।
১৯৬৭ সালে রোলিং স্টোনের প্রচ্ছদে, প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে টিনার উপস্থিতি ইতিহাস রচনা করে। কিন্তু ১৯৭৬ সালে আইকের সহিংস আচরণের কারণে তাদের আলাদা হয়ে যাওয়া টিনার জীবনে এক কঠিন পর্বের সূচনা করে। ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সাথে স্বাক্ষর করা এবং সারা দেশে পারফর্ম করার পরে, ১৯৬৭ সালে টিনা প্রথম মহিলা এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পী হয়ে ওঠেন যিনি রোলিং স্টোন ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ তৈরি করেছিলেন। ৭০ এর দশকে এই জুটির জন্য গ্র্যামি এবং স্বর্ণ-প্রত্যয়িত অ্যালবামের আকারে আরও সাফল্য পেয়েছিল। আইক এবং টিনা ডালাসের স্ট্যাটলার হিলটনে পারফর্ম করার কথা ছিল এবং সেখানে ভ্রমণের সময়, তারা একটি শারীরিক বিবাদে জড়িয়ে পড়েন, যার সময় টিনাকে নিজেকে রক্ষা করতে হয়েছিল। মাত্র ৩৬ সেন্ট নিয়ে হোটেলে পালিয়ে আসা থেকে শুরু করে মামলা, আর্থিক সংকট- সব সামলে তিনি তৈরি করেন নিজের নতুন যাত্রার পথ।
৮০’র দশকে ক্যাপিটল রেকর্ডসের সঙ্গে চুক্তির পর তার ক্যারিয়ার পুনর্জাগরণ ঘটে। ‘লেটস স্টে টুগেদার’ এবং ‘প্রাইভেট ডান্সার’-এর সাফল্য তাকে বিশ্বমঞ্চে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে। ‘হোয়াটস লাভ গট টু ডু উইথ ইট’ তাকে বিশ্বব্যাপী আইকনে পরিণত করে।
৮টি গ্র্যামি, ২৫টি মনোনয়ন, ছয় দশকে যুক্তরাজ্যের টপ–৪০ হিট—এসব অর্জনে টিনা এক অনন্য কিংবদন্তি। ২০২১ সালে সংগীতের স্বত্ব বিক্রি ও রক অ্যান্ড রোল হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্তি তাঁর উত্তরাধিকারকে আরও সুদৃঢ় করে। ৬০ বছরের মহিমান্বিত ক্যারিয়ারের পর ২০২৩ সালে ৭ বছরের ক্যান্সার লড়াই শেষে পর্দা নামে রকের রাণীর। তবে তাঁর সংগীত, শক্তি ও ব্যক্তিত্ব আজও অমর।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us