Deep Fridge Review: মান-অভিমানের বরফ গললে সম্পর্ক চায় উষ্ণতার ছোঁয়া, কেমন হল জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি 'ডিপ ফ্রিজ'?

Deep Fridge: দৈনন্দিন জীবনের কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন ভীষণ কমন। আর সেই কমন ফ্যাক্টরকে এক ঘণ্টা ৪৩ মিনিট ২৭ সেকেণ্ডের এক নিখুঁত বুননে অর্জুন দত্ত তৈরি করেছেন ডিপ ফ্রিজ। আর সেই শৈত্য যখন সম্পর্কের উষ্ণতার ছোঁয়া পেল তখন ঠিক কী ঘটল?

Deep Fridge: দৈনন্দিন জীবনের কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন ভীষণ কমন। আর সেই কমন ফ্যাক্টরকে এক ঘণ্টা ৪৩ মিনিট ২৭ সেকেণ্ডের এক নিখুঁত বুননে অর্জুন দত্ত তৈরি করেছেন ডিপ ফ্রিজ। আর সেই শৈত্য যখন সম্পর্কের উষ্ণতার ছোঁয়া পেল তখন ঠিক কী ঘটল?

author-image
Kasturi Kundu
New Update
cats

কেমন হল ডিপ ফ্রিজ?

National Awarding Winning Movie Deep Fridge: একটা ছোট্ট 'মিসকেট' আর দশ বছরের সম্পর্কের বিশ্বাস ভেঙে খানখান। বিবাহবার্ষিকীর রাতে মদ্যপ অবস্থায় অন্য নারীকে জড়িয়ে যখন আদরে মত্ত, ঠিক তখনই উলটো দিকে স্বামীর জন্য আরও একটা পেগ বানিয়ে দাঁড়িয়ে স্ত্রী! বাড়ির লনে অ্যানিভারসরি পার্টির মাঝে সকলের নজর এড়িয়ে আলো-আধারিতে উদ্দাম রোম্যান্স! আচমকা তিনজনের চোখাচোখি, সেই মুহূর্তটা ঠিক কীরকম হতে পারে? আর এরপর দাবার গুটির মতো সাজানো সুন্দর সংসার দমকা হাওয়ার মতো এলোমেলো...চেনা গল্পের নিখুঁত শৈল্পিক নিদর্শনের নাম 'ডিপ ফ্রিজ'।  

Advertisment

দৈনন্দিন জীবনে এমন ঘটনা আখছার দেখা যায়। সম্পর্কের টানাপোড়েন, ক্ষমা চাওয়া, আইনজীবীর দ্বারস্থ হওয়া আরও কত কী...। অর্জুন তাঁর নিজস্ব ভাবনায় আবির, তনুশ্রী আর অনুরাধাকে নিয়ে যে গল্প বুনেছেন তার বুনোট এতটাই মজবুত যে ডিপ ফ্রিজ-এর শৈত্য দর্শককে কাঁপুনি ধরিয়ে দিতে পারবে। আজকাল প্রায় প্রতিটি ছবিতে ছকভাঙা চরিত্রে অভিনয় করছেন আবির চট্টোপাধ্যায়। ডিপ ফ্রিজের স্বর্ণাভ আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে কোনও চরিত্রে আবির চট্টোপাধ্যায় 'ফিট অ্যান্ড ফাইন'। 

এবার আশা যাক তনুশ্রী চক্রবর্তীর কথায়। লাল শাড়ি, সিঁদুরে চেহারায় যেমন লাভিডাভি ঠিক ততটাই পরিণত জীবনের কঠিন সময়ে। আজও সমাজ সিঙ্গল মাদারদের একটু বাঁকা নজরে দেখে, দুর্বল ভাবে। মিলি কিন্তু, তাঁদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ঘরে-বাইরে একসঙ্গে সামলাতে তাঁরাও সিদ্ধহস্ত। ডিপ ফ্রিজের মাধ্যমে অর্জুন দত্ত এই বার্তা দর্শকের কাছে সুন্দরভাবে পরিবেশন করেছেন। প্রত্যেকের জীবনে বাঁচার অধিকার আছে, সিঙ্গল মাদারও ব্যতিক্রম নয়। স্বামীর থেকে আঘাত পেয়ে দ্বিতীয়বার ভালবাসার উষ্ণতায় জীবনকে সিক্ত করা অন্যায় নয়, ডিপ ফ্রিজের মিলি যেন সেটাই বোঝাতে চেয়েছে। 

আরও পড়ুন 'ডিপ ফ্রিজ' সেরা বাংলা ছবি, অর্জুনের প্রশংসায় জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক শুভ্রজিৎ

প্রতিটি সিনেমাতেই কিছু না কিছু বার্তা থাকে। অর্জুন দত্তের মাস্টার পিস ডিপ ফ্রিজেও  আছে। কিন্তু, বার্তাবহনের পাশাপাশি এক বৃষ্টিভেজা রাতের গল্পে দর্শকের বিনোদন আর আবেগ মিলেমিশে একাকার। ছেলের প্রতি দায়বদ্ধ স্বর্ণাভ। প্রচণ্ড জ্বরে সেদিন রাতে ছেলের পাশে থাকতে গিয়ে মনের কোণে কোথাও যেন মিলির সঙ্গে সংসারের সুন্দর স্মৃতি আষ্টেপিষ্ঠে জড়িয়ে ধরছিল। কিন্তু, ততক্ষণে স্বর্ণাভ রঞ্জার (অনুরাধা) সঙ্গে আর মিলি আসিফের সঙ্গে অনেকটা পথ এগিয়ে গিয়েছে। রঞ্জা সেই মেয়ে বিবাহবার্ষিকীর রাতে মিলি যাকে স্বর্ণাভর সঙ্গে দেখে ফেলেছিল। স্বামীকে ক্ষমা করতে পারেনি। মানসিক যন্ত্রণায় যখন স্বর্ণাভ বিধ্বস্ত তখন হাতটা সেই যে শক্ত করে রঞ্জা ধরল, আর কখনও ছাড়েনি। 

আরও পড়ুন 'উপর থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে...', মায়ের মৃত্যুর পর জাতীয় পুরস্কার জিতে আবেগপ্রবণ পরিচালক অর্জুন

ছেলের আবদারে যখন বাবা-মাকে এক বিছানা শেয়ার করতে হলেও অভিমানের বরফ গলেনি। কিন্তু, একটা রাত শেষে যখন ভোর হয় তখন নতুন দিনের নতুন সূর্যের আলোয় সব ইগো অজান্তেই ভেঙ গুড়িয়ে যায়। অপূর্ণ ভালবাসায় বিদগ্ধ মন একটু উষ্ণতার জন্য ছটফট করে। স্বর্ণাভর ঠোঁটে ঠোঁট রেখে প্রেমের সাগরে ভেসে যেতে ইচ্ছে করে। আর ঠিক সেই সময় ডিপ ফ্রিজে জমে থাকা বরফের চাঁই ভেঙে ঠান্ডা জলে দাঁড়িয়ে লম্বা শ্বাস নেয় মিলি ...। 

আরও পড়ুন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারফেকশন খোঁজা খুব কঠিন, কোনও সম্পর্ককেই আমি জটিল করি না: তনুশ্রী

  • ছবির নামঃ ডিপ ফ্রিজ
  • পরিচালকঃ অর্জুন দত্ত 
  • রেটিংঃ ৪.৫/৫