/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/23/vijaynagarer-hirey-2026-01-23-08-26-55.jpg)
রোমাঞ্চের ডাক দিচ্ছে কাকাবাবু!
“ইতিহাসের পায়ে পা ফেলে চলাটা কি অত সহজ রে সন্তু!”—সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এই অমর সংলাপকে সামনে রেখেই আবার বড় পর্দায় ফিরল কাকাবাবু। পরিচালক চন্দ্রাশিস রায়ের হাত ধরে ‘বিজয়নগরের হিরে’ (Vijaynagarer Hirey) ছবিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ফের একবার ইতিহাসের রহস্যময় পথে পা বাড়ালেন, কোহিনুরের থেকেও বড় ও দুর্মূল্য এক ঐতিহাসিক হিরের সন্ধানে। এবারের গন্তব্য কর্ণাটকের হাম্পি, যেখানে প্রাচীন সভ্যতা, ধ্বংসাবশেষ আর রহস্য মিলেমিশে তৈরি হয়েছে এক দুর্দান্ত অ্যাডভেঞ্চার।
কাকাবাবু (Kakababu) মানেই বুদ্ধিদীপ্ত সাহস, দৃঢ়তা ও স্নেহ। এই ছবিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সন্তুর ভূমিকায় আরিয়ান ভৌমিকের সরলতা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, অনুজয় চট্টোপাধ্যায়, সত্যাম ভট্টাচার্য, পুষণ দাশগুপ্ত, শ্রেয়া ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য অভিনেতারা নিজেদের চরিত্রে সাবলীল অভিনয় করেছেন। মোহন সিং চরিত্রে অনুজয় চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতি দর্শকদের বিশেষ নজর কেড়েছে।
সিনেমাটির একটি বিশেষ সংলাপ অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, হিরের সন্ধানে কাকাবাবুকে সাহায্য করতে গিয়ে সন্তুর বন্ধু জোজ অজান্তেই কাকাবাবুর গোপন কথা অন্যের কাছে ফাঁস করে দেয় এবং প্রতারিত হয়েছে জানতে পেরে অনুতাপে ভেঙে পড়ে, তখন কাকাবাবু বলেন, “মানুষকে বিশ্বাস করে তুই কিছু ভুল করিসনি।” সিনেমাতে অ্যাডভেঞ্চারের আড়ালে বিশ্বাস আর মানবিকতার কথাও সমান গুরুত্ব পেয়েছে।
আরও পড়ুন: “পরিহাসের উত্তর দিতে নেই”, স্বরূপের মন্তব্যে অনির্বাণের প্রতিক্রিয়া
সরস্বতী পূজা (Saraswati Puja)-র দিন বড় পর্দায় মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়ার কথা যেভাবে শোনা যাচ্ছে, সেই প্রসঙ্গেই ‘বিজয়নগরের হিরে’-র প্রিমিয়ারে 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা'র পক্ষ থেকে পরিচালক ও অভিনেতাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়—
কেন দর্শক ‘বিজয়নগরের হিরে’ সিনেমাটি হলে এসে দেখবেন?
জবাবে পরিচালক চন্দ্রাশিস রায় বলেন, “এই ছবিটি পুরোপুরি এন্টারটেনিং। আমার ধারণা, সব বয়সের দর্শকের কাছেই এটি গ্রহণযোগ্য হবে। কলকাতায় এ ধরনের অ্যাডভেঞ্চার ছবি খুব বেশি হয়নি। ‘বিজয়নগরের হিরে’-তে অনেকটা অংশ জুড়েই রয়েছে অ্যাডভেঞ্চার, তার সঙ্গে রয়েছে পরিপূর্ণ বিনোদন, ভালো অভিনয় এবং মিউজিক। এই সবকিছু মিলিয়েই দর্শকদের সিনেমাটি ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।”
ছবিতে রঞ্জনের ভূমিকায় সত্যাম ভট্টাচার্য বড় পর্দার অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “সিনেমা দেখার সময় যে বিশেষ কানেকশনটা তৈরি হয়, যখন ৪০০-৫০০ মানুষ একসঙ্গে বসে একই জিনিস দেখছে, সেই অনুভূতিটা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বা ঘরে বসে মোবাইলে দেখলে পাওয়া যায় না। এই সিনেমাটা এমনভাবেই বানানো হয়েছে যাতে বয়স্ক থেকে শুরু করে বাচ্চারা সবাই উপভোগ করতে পারে। এখন সরস্বতী পুজোর মরশুম, সামনে অনেকগুলো ছুটির দিন রয়েছে। আমার মনে হয় দর্শকরা তাঁদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে হলে এসে ‘বিজয়নগরের হিরে’ দেখে খুশি হবেন। এই ছবিটি আসলে অনেক মানুষ একসঙ্গে বসে বড় স্ক্রিনে দেখার জন্যই তৈরি হয়েছে।”
মোহন সিং চরিত্রে অনুজয় চট্টোপাধ্যায় ছবিটিকে বর্ণনা করেন “পবিত্র অ্যাডভেঞ্চার” হিসেবে। তিনি বলেন, “সাধারণত সাহিত্য থেকে ছবি কমই তৈরি হয়। এই ছবিটি মূলত শিশু-কিশোরদের মনকে ধরে বানানো হলেও, বড়দের কাছেও সমান আকর্ষণীয়। আমি ছবিটাকে ‘পবিত্র অ্যাডভেঞ্চার’ বলতে চাই। এখানে জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা নেই। মানুষের মন যে আসলে কতটা আশ্চর্য, সেটাই ছবির কয়েকটি চরিত্রের মাধ্যমে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেই কারণেই এই ছবিটি মানুষের দেখা উচিত।”
আরও পড়ুন: ‘সহজ পাঠের গপ্পো’র নূর এবার ‘চণ্ডীকথা’য়, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছোটু শোনাল নিষ্পাপ শৈশবের গল্প
সব মিলিয়ে ‘বিজয়নগরের হিরে’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এটা বাংলা অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার এক নতুন শুরু যা শিশু থেকে বড় সবাইকে নিয়ে যাবে ইতিহাস, রহস্য আর এক রোমাঞ্চকর অভিযানে। পাশাপাশি অনেক মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে বসে সিনেমা দেখার যে আনন্দ ও অনুভূতি, তা নতুন করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us