/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/satish-2026-01-27-16-28-47.jpg)
কী বলছেন অভিনেতা?
বলিউড ও টেলিভিশন দুনিয়ার বর্ষীয়ান অভিনেতা সতীশ শাহ কিডনি বিকল হয়ে ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর, শনিবার মুম্বাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় বিনোদন জগতে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র ও অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন। তবে, এই কিংবদন্তি অভিনেতা মরণোত্তর পদ্মশ্রী পাচ্ছেন।
অভিনয়জীবনের শুরু ও উত্থান
মান্ডভির এক কচ্ছি গুজরাটি পরিবারে সতীশ রবিলাল শাহ নামে জন্মগ্রহণকারী এই অভিনেতা, ১৯৭০-এর দশকে ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে কেরিয়ার শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে ‘অরবিন্দ দেশাই কি আজিব দাস্তান’ ছবির মাধ্যমে তিনি প্রথম বড় সুযোগ পান। তবে ১৯৮৩ সালের কাল্ট ক্লাসিক ‘জানে ভি দো ইয়ারো’ তাঁর কেরিয়ারে এক মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দুর্নীতিগ্রস্ত পৌর কমিশনার ডি’মেলোর চরিত্রে তাঁর ব্যঙ্গাত্মক অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে।
Adrija Roy: প্রেম থেকে প্রতিশ্রুতি- বাগদান সারলেন অদ্রিজা
হাস্যরসের অনন্য প্রতিভা
সতীশ শাহ এমন এক অভিনয় ঐতিহ্য রেখে গেছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও হাসাবে। ‘সারাভাই বনাম সারাভাই’ ধারাবাহিকে ইন্দ্রবদন সারাভাই চরিত্রে তাঁর অনবদ্য কমেডি টাইমিং তাঁকে ঘরে ঘরে জনপ্রিয় করে তোলে। পাশাপাশি ‘ম্যায় হু না’-তে শাহরুখ খানের অধ্যাপক চরিত্রে তাঁর অভিনয় ছিল অনবদ্য। তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল পর্দায় আলাদা আকর্ষণ।
চলচ্চিত্রে উজ্জ্বল উপস্থিতি
১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে তিনি একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন। ‘আপনে আপনে’, ‘আগ অর শোলা’, ‘হাতিম তাই’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘জুড়োয়া’ এবং ‘হিরো নম্বর ১’-এর মতো হিট ছবিতে তাঁর অভিনয় কেরিয়ারকে সমৃদ্ধ করে।
টেলিভিশনে নতুন পরিচিতি
দীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনের পর টেলিভিশনে ‘সারাভাই বনাম সারাভাই’ ধারাবাহিক তাঁকে সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। ইন্দ্রবদনের চরিত্রে তাঁর জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে, ছোট পর্দাও একজন শিল্পীর জীবনে কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
পদ্মশ্রী সম্মান ও শ্রদ্ধাঞ্জলি
২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ঘোষিত পদ্ম পুরস্কারের তালিকায় মরণোত্তর পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে সতীশ শাহকে। FWICE-এর প্রধান উপদেষ্টা অশোক পণ্ডিত এই সম্মানের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কৃতজ্ঞতা জানান। ভারতীয় সিনেমা ও টেলিভিশনে দীর্ঘস্থায়ী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান সতীশ শাহের শিল্পীজীবনের প্রতি এক যোগ্য শ্রদ্ধার্ঘ্য।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us