/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/12/sharmila-tagore-2026-02-12-15-27-39.jpg)
“যে টিউশনিটা আছে সেটাও ছেড়ে দাও...”
সত্যজিৎ রায়ের সিনেমার জাদুতে যে ক’জন অভিনেত্রী প্রথম ছবিতেই অমরত্ব পেয়েছেন, তাঁদের অন্যতম শর্মিলা ঠাকুর (Sharmila Tagore)। ‘অপুর সংসার’-এ তাঁর বলা সংলাপ— “যে টিউশনিটা আছে সেটাও ছেড়ে দাও, তারপর আমার গরীব বর সন্ধ্যের আগেই বাড়ি ফিরে আসবে আর আমার কোনো অনুশোচনা থাকবে না”— এ শুধু অভিমানী স্বামীকে মানানোর মুহূর্ত নয়, বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক অনবদ্য রোম্যান্টিক দৃশ্য। সরলতা, লাজুকতা আর গভীর ভালোবাসার মিশেলে সেই দৃঢ় আবেগ আজও দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
১৯৪৬ সালের ৮ ডিসেম্বর কলকাতার জোড়াসাঁকোর প্রখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্ম শর্মিলা ঠাকুরের। বাবা গীতিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মা ইরা ঠাকুর, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা শর্মিলার রক্তেই যেন শিল্পচেতনা প্রবাহিত ছিল। তিনি ছিলেন গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বংশধর এবং অবনীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয়তার সূত্রে ঐতিহ্যবাহী এক উত্তরাধিকার বহনকারী।
শর্মিলার শৈশব কেটেছে আসানসোলে। অল্প বয়সেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর ঝোঁক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে চলচ্চিত্রে অভিষেক। প্রথম ছবিতেই তাঁর অভিনয় সমালোচকদের নজর কাড়ে। পরের বছরই ‘দেবী’ ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেন, তিনি ক্ষণিকের নন, দীর্ঘপথের শিল্পী। ১৯৬০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দেবী’ আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়।
শর্মিলা বরাবরই ছকভাঙা। ব্যক্তিগত জীবন হোক বা পেশাগত সিদ্ধান্ত। সাহসী পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করেননি। ১৯৭০-এর দশকে তিনি ছিলেন বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রীদের একজন, যা সে সময় নারীদের জন্য বিরল সাফল্য।
আরও পড়ুন: টালিগঞ্জে লাল ঝড়! জয়ী চন্দন সেন–দেবদূত ঘোষ
১৯৬৪ সালে শক্তি সামন্ত পরিচালিত ‘কাশ্মির কি কলি’ দিয়ে হিন্দি ছবিতে তাঁর যাত্রা শুরু। সেখান থেকেই সর্বভারতীয় খ্যাতি। সৌন্দর্য, পর্দা উপস্থিতি এবং অভিনয়ের তীক্ষ্ণতা তাঁকে দ্রুত তারকাখ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। ‘আরাধনা’ (১৯৬৯) ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। জাতীয় স্তরেও তাঁর কৃতিত্ব উজ্জ্বল ‘মৌসম’ (১৯৭৫) ছবিতে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী এবং ‘আবার অরণ্যে’ (২০০৩) ছবিতে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি আলোচিত। কিংবদন্তি ক্রিকেটার মনসুর আলি খান পাতৌদিকে বিয়ে করেন। তাঁদের সন্তান সইফ আলি খান ও সোহা আলি খান দু’জনেই বলিউডের পরিচিত মুখ। ২০০৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের মার্চ পর্যন্ত শর্মিলা ঠাকুর ভারতীয় চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
আরও পড়ুন: প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন এই তারকারা, কেমন বাংলাদেশ চান তাঁরা?
বাংলা ও হিন্দি দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই সমান সাফল্য, শিল্পীসত্তার সাহসী প্রকাশ আর কালজয়ী অভিনয়ে শর্মিলা ঠাকুর আজও ভারতীয় সিনেমার এক অনন্য আইকন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us