/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/29/param-2025-08-29-15-20-58.jpg)
কেমন হল'পরম সুন্দরী'?
পাঞ্জাবের হাসিখুশি 'মুন্ডা' পরম আর কেরালার লাজুক অথচ প্রাণবন্ত পেনকুট্টি সুন্দরী- দু’জনের গল্প শুনতে যেন একেবারে ছবির মতো! কেরালার সবুজে ঘেরা এক শান্ত হোমস্টেতে তাদের প্রথম দেখা। প্রথম আলাপের পর থেকেই দু’জন একে অপরকে জানতে শেখে, হাসি-ঠাট্টায়, মনের কথায় ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এক অচেনা সেতু।
কিন্তু, জীবনের মতো সিনেমাতেও সবকিছু এতটা মসৃণ চলে না। গল্প এগোয়, কিন্তু কোথাও যেন বারবার আটকে যায়। যেন সময় থেমে থাকে- রোম্যান্স আর কমেডির টানাপোড়েনে গল্প প্রায় স্থির হয়ে যায়। মাঝে মাঝে মনজোত সিং-এর প্রাণচঞ্চলতা কিংবা রেঞ্জি পানিকারের উষ্ণ উপস্থিতি গল্পকে ফের সজীব করে তোলে। তারপর আসে ছবির আসল মুহূর্ত। একেবারে শেষদিকে, ‘ডিডিএলজে’-র ছোঁয়া মেখে আবার জ্বলে ওঠে প্রেমের স্ফুলিঙ্গ। দর্শক যেন হঠাৎ করেই নিঃশ্বাস আটকিয়ে অপেক্ষা করে—শেষ পর্যন্ত কি মিল হবে তাদের?
এই প্রেমকাহিনির সবচেয়ে বড় শক্তি অবশ্যই সিদ্ধার্থ আর জাহ্নবীর সহজ-সরল রসায়ন। দু’জন যেন পর্দায় খুব সহজেই মিশে গেছেন। কিন্তু সমস্যাও সেখানেই- নতুন জুটি হলেও সেই বিশেষ ‘নতুনত্ব’ বা চমক খুঁজে পাওয়া সম্ভব না। বরং, পার্শ্বচরিত্ররাই অনেক বেশি আলো কাড়ে।
ছবিটির মোটো ছিল পারিবারিক বিনোদন। তাই এখানে যেমন আছে কে-পপের রোম্যান্টিক ভঙ্গি, তেমনি আছে কথাকলি, কালারিপায়াত্তু, ওনামের রঙিন আবহ। আবার clichés ও কম নয়—পাঞ্জাব মানেই উচ্চকণ্ঠে ‘চক দে ফাট্টে’, দক্ষিণ মানেই নায়কোচিত প্রতীক—আন্ধ্রতে আল্লু, তামিলে রজনী, কেরালায় মোহনলাল, কর্ণাটকে যশ। এমনকি আজকের যুগের ডেটিং অ্যাপস, অ্যালগরিদম আর ‘একজনই আত্মার সঙ্গী’- এই ভাবনাও এসেছে গল্পে, কিন্তু থেকে গেছে কেবল ডায়লগেই। শৈশবের প্রেমিক হিসেবে যে চরিত্র আনা হয়েছে, সে এতটাই নিষ্প্রভ যে প্রায় অদৃশ্যই মনে হয়েছে।
তবুও, কিছু দৃশ্য সত্যিই মনে দাগ কাটে। যেমন- পরম যখন প্রেমিকাকে জয় করার জন্য নারকেল গাছে উঠে যায়। এই অদ্ভুত অথচ মিষ্টি মুহূর্তগুলোই সিনেমাটিকে শেষ পর্যন্ত খানিকটা আলাদা করে তোলে, আর দর্শককে গল্পের সঙ্গে বেঁধে রাখে।
অভিনেতাঃ সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, জাহ্নবী কাপুর, রেঞ্জি পানিকার, সঞ্জয় কাপুর, সিদ্ধার্থ শঙ্কর, মনজোত সিং, ইনায়াত ভার্মা, অভিষেক ব্যানার্জী
সিনেমার পরিচালক: তুষার জালোটা
পরম সুন্দরী সিনেমার রেটিং: ১.৫