/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/14/silk-2025-11-14-12-06-32.jpg)
কে এই অভিনেত্রী...
Bollywood Actress Tragic Life: ভারতের চলচ্চিত্র জগতে বহিরাগতদের সুপারস্টারডম অর্জন করা সবসময়ই কঠিন- বিশেষত যখন তিনি ছোট কোনও গ্রামের দরিদ্র পরিবারের একজন মানুষ। তবুও সব প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য স্থান করে নিয়েছিলেন সিল্ক স্মিথা। ১৯৮০ থেকে নব্বইয়ের দশকের শুরু পর্যন্ত তিনি ছিলেন দেশের সবচেয়ে পরিচিত এবং আলোচিত গ্ল্যামার আইকনদের একজন। বিদ্যা বালান অভিনীত, দ্য ডার্টি পিকচার তাঁর জীবনের একটি অংশ থেকে অনুপ্রাণিত হলেও, সিল্কের প্রকৃত জীবন ছিল আরও জটিল ও বিস্ময়কর।
অন্ধ্রপ্রদেশের কোভভালি গ্রামের, ভাদলাপতি বিজয়লক্ষ্মী থেকে সিল্ক স্মিথা হয়ে ওঠার যাত্রা ছিল সংগ্রামে ভর্তি । দারিদ্র্যের কারণে, মাত্র চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই তাকে পড়াশোনা ছাড়তে হয়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে, পরিবারের সিদ্ধান্তে তার বিয়ে হয় একজন বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে, দুই বছর পর তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং মাসির আশ্রয়ে নতুন জীবন শুরু করেন। তখন তিনি গৃহকর্মী ও পরে ‘টাচ-আপ’ শিল্পী হিসেবে কাজ করতে থাকেন। যার সূত্রেই তিনি প্রথম সিনেমার সেটে প্রবেশ করেন।
Celeb Death Rumor: তারকাদের মৃত্যু-গুজব: ধর্মেন্দ্র থেকে জ্যাকি চ্যান—কীভাবে ছড়ায় মিথ্যা খবর?
১৯৮০ সালে তামিল ছবি ভান্দিচক্করম তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ছবিতে ‘সিল্ক’ নামে এক গ্ল্যামারাস চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান। সেখান থেকেই তার নতুন পরিচয়, ইন্ডাস্ট্রির কাছে সিল্ক স্মিথা নামে পরিচিত হন। এই চরিত্র তাঁকে রাতারাতি খ্যাতি এনে দিলেও তাঁকে নির্দিষ্ট ধরনের গ্ল্যামার ভূমিকায় আটকে ফেলে। তিনি চরিত্রনির্ভর অভিনয়ের ইচ্ছা বহুবার ব্যক্ত করলেও, শিল্পের চাহিদা ও বাজার তাঁকে সেই সুযোগ দেয়নি।
তার পরেও তাঁর উত্থান ছিল নজরকাড়া। প্রায় ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ৪৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। দক্ষিণ ভারতের সিনেমা জগতে এমন সময় এসেছিল, যখন পরিবেশকরা শুধুমাত্র সিল্ককে একটি গান বা ভূমিকায় নিলেই, ছবি কিনতে রাজি হতেন। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। নতুন প্রতিযোগীদের আগমন, ব্যস্ত সময়সূচি ও কিছু প্রযোজনা ব্যর্থ হওয়ার ফলে আর্থিক চাপ বাড়তে থাকে।
Mamata Banerjee-Kiff: 'এই বাংলায় সব পাবেন...', KIFF-র সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বলে বলে গোল দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যক্তিগত ও আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ১৯৯৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে নিজের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সরকারি রিপোর্টে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ থাকলেও, তাঁর মৃত্যু নিয়ে এখনও নানা রহস্য ও প্রশ্ন রয়ে গেছে। সংগ্রাম, খ্যাতি, শোষণ এবং অপূরণীয় স্বপ্ন—এই চার স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়েই গড়ে উঠেছে সিল্ক স্মিথার বিস্ময়কর জীবনগাথা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us