OCD: ‘ওসিডি’ নিয়ে কী বললেন জয়া আহসান? সৌকর্য ঘোষালের নতুন ছবিতে চমক!

EXCLUSIVE: ‘বড়দের সমস্যা নিয়ে আমরা যতটা সরব, শিশুদের সমস্যার ক্ষেত্রে ততটাই নীরব। এই নীরবতাই ভবিষ্যতে মানসিক অসুখ, ট্রমা ও জটিলতার জন্ম দেয়। ‘ওসিডি’ তারই একটি রূপ।'

EXCLUSIVE: ‘বড়দের সমস্যা নিয়ে আমরা যতটা সরব, শিশুদের সমস্যার ক্ষেত্রে ততটাই নীরব। এই নীরবতাই ভবিষ্যতে মানসিক অসুখ, ট্রমা ও জটিলতার জন্ম দেয়। ‘ওসিডি’ তারই একটি রূপ।'

author-image
Naikun Nessa
New Update
Jaya Ahsan

‘ওসিডি’ নিয়ে কী বললেন জয়া ?

বাইরে থেকে সভ্য ও আধুনিকতার মুখোশ পরা সমাজের ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে এক অস্বস্তিকর নীরবতা! যেখানে শিশুদের সঙ্গে ঘটা অনেক সত্যই কখনও আলো দেখার সুযোগ পায় না। প্রশ্ন, কুসংস্কার আর সামাজিক লজ্জার ভয়ে সেই ঘটনাগুলো চাপা পড়ে যায় চার দেওয়ালের মধ্যেই। একদিন হয়তো সেই চাপা পড়ে থাকা কথাগুলোই ধীরে ধীরে ভয়, ট্রমা ও মানসিক অসুখের জন্ম দেয়। এই নীরবতার প্রতিচ্ছবিকেই সামনে আনতে চলেছে সৌকর্য ঘোষালের ছবি ‘ওসিডি’ (OCD)। 

Advertisment

'ওসিডি' ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করা জয়া আহসানের (Jaya Ahsan) কথায়, জীবনে যখনই খুব কঠিন কোনও অভিজ্ঞতা আসে, তা আমাদের ভেতরে গভীর ছাপ ফেলে যায়। বিশেষ করে শৈশবের সময়টা অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি বলেন, 'এই স্টেজটা আমিও পেরিয়ে এসেছি। তবে এই  ছবিতে কাজ করার পর পৃথিবীর শিশুদের মধ্যে যে নিরাপত্তাহীনতা আছে, সেটা নিয়ে আমার দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।' 

'ওসিডি' নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জয়া আহসান ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, তাঁর বোনের ‘ওসিডি’ রয়েছে, বিশেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রবল বাতিক। হালকা হাসির ছলেই জয়া বলেন, সেই কারণেই কোভিডের সময় তাঁর বোন একেবারেই আক্রান্ত হননি। তবে এখানেই বিষয়টাকে হালকাভাবে ছেড়ে দেননি অভিনেত্রী। ‘ওসিডি’ কি কখনও ভালো অভ্যাস হিসেবে দেখা যেতে পারে?’ এই প্রশ্নের জবাবে জয়া বলেন, "পরিষ্কার থাকা নিঃসন্দেহে ভালো, কিন্তু কোনও কিছু যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা আর সুস্থ থাকে না। সময়-অসময়ের বোধ থাকাটাই আসল।’ জয়া আরও জানান, ‘তিনি ব্যক্তিগতভাবে ‘অ্যাডজাস্টেড পারসোনালিটি’ পছন্দ করেন। কারও যদি অতিরিক্ত মাত্রায় ওসিডি থাকে, তাঁদের নিয়ে অসুবিধা নেই ঠিকই, কিন্তু একটু ভয় কাজ করে।"

ছবির পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এই ছবির মাধ্যমে তিনি দর্শকের কাছে ঠিক কোন বার্তা পৌঁছে দিতে চান- 

সৌকর্য ঘোষাল (Soukarya Ghosal) বলেন, "বড়দের সমস্যা নিয়ে আমরা যতটা সরব, শিশুদের সমস্যার ক্ষেত্রে ততটাই নীরব। এই নীরবতাই ভবিষ্যতে মানসিক অসুখ, ট্রমা ও জটিলতার জন্ম দেয়। ‘ওসিডি’ তারই একটি রূপ।"

এই বিষয়ে সমাজে বেশিরভাগ সময় ভুক্তভোগীকেই দোষ দেওয়া হয়। সিনেমাতে কি সেই ধারণা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে?   

সৌকর্য ঘোষাল বলেন, “আমরা যে সমস্যাগুলো সিনেমায় তুলে ধরেছি, তা ছেলে–মেয়ে নির্বিশেষে আমাদের সমাজে প্রতিদিনই ঘটে চলেছে। দীর্ঘকাল ধরেই এই প্রবণতা সমাজে চলে আসছে।  বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, তাদের কথা শুনলেই বলা হয় তারা বাড়িয়ে বলছে। এই মানসিকতাই আসলে সমস্যাকে আড়াল করে রাখে। অ্যাড্রেস করা বা সমাধানে যাওয়া তো পরের কথা, আগে অন্তত এই বিষয়গুলো নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা জরুরি।"

জয়া আহসান এই ছবিটির চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন?

জয়ার জবাব, "এই ছবির স্ক্রিপ্টটা একেবারেই আলাদা। সাধারণ ধারার বাইরে। চরিত্রটির ভেতরে যেমন ওসিডির জটিলতা আছে, তেমনই রয়েছে পেডোফিলিয়ার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ছবিতে বাচ্চাদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই শুটিংয়ের প্রতিটি মুহূর্তেই আলাদা সতর্কতা আর সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হয়েছে। এই চরিত্রে ঢুকতে ওসিডি নিয়ে পড়াশোনা করেছি, পেডোফিলিয়া সম্পর্কেও নিজেকে প্রস্তুত করেছি।"

সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত এবং জয়া আহসান অভিনীত নতুন ছবি ‘ওসিডি’ (OCD) মুক্তি পেতে চলেছে ২০২৬ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি।

আরও পড়ুন: ‘সবসময় গলা কাটা যায় গরীব ও ক্ষমতাহীনের’, সায়ক চক্রবর্তীকে ঘিরে তুমুল শোরগোল

Soukarya Ghosal Jaya Ahsan entertainment Entertainment News Entertainment News Today tollywood Tollywood Actress tollywood news Tollywood Shooting