“ঘরে সবার মা-বোন আছে ভোটটা (West Bengal Assembly Election 2021) ভেবে দিবি…” কৃষ্ণনগরের তৃণমূলপ্রার্থী কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের (Koushani Mukherjee) মুখে এমন মন্তব্য শুনে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। যা মূলত সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পদ্ম ফোটাতে বিজেপির হাতে নয়া হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। ভাইরাল ওই ভিডিও ঘিরে সমালোচনা-নিন্দাও কম হচ্ছে না। নিজে একজন মহিলা হয়ে, কীভাবে বাংলার মা-বোনেদের উদ্দেশে এধরণের হুমকি দিতে পারেন? প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে বিরোধী শিবিরপক্ষ। সেই প্রেক্ষিতেই এবার তৃণমূলের তারকা প্রার্থীকে একহাত নিলেন বামপন্থী অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra) এবং 'পদ্ম-বাহিনীর টিকিট না পাওয়া' অন্যতম একনিষ্ঠ সদস্য রূপা ভট্টাচার্য (Rupa Bhattacharya)। কৌশানীকে কটাক্ষ করে শ্রীলেখা যখন বলেছেন, এটা আদতে "উন্নয়নের ভাষা! দল-মত নির্বিশেষে এর প্রতিবাদ হওয়া দরকার", তখন রূপা ভট্টাচার্য "পরিশীলিত মানুষ হয়ে ওঠার" পরামর্শ দিয়েছেন তাঁকে!
ভাইরাল ভিডিওয় বিজেপিকে (BJP) 'বাবা' বলে সম্বোধন করতেও দেখা গিয়েছে কৌশানী মুখোপাধ্য়ায়কে। উপরন্তু, বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের অনেকেরই দাবি, তৃণমূলপ্রার্থী ভোটপ্রচারের ময়দানে ভোটারদের হুমকি দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। অতঃপর, এমন মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে কৌশানী ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে ময়দানে নামলেও, হালে পানি পাননি! যা নিয়ে শনিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত রাজ্য় রাজনীতি।
বামপন্থী মনোভাবাপন্ন শ্রীলেখা, যিনি কিনা বাংলায় লাল ফেরাও হাল ফেরাও স্লোগান তুলেছেন, তাঁর কী মত কৌশানীর বিতর্কিত মন্তব্য প্রসঙ্গে? তাঁর সাফ কথা, "এটা হল উন্নয়নের ভাষা। কৃষ্ণনগর (উত্তর)-এর তৃণমূলপ্রার্থীর বিরুদ্ধে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানানো উচিত। এমন সাংঘাতিক হুমকিতে আমি বিস্মিত এবং হতবাক!" প্রয়াত তৃণমূল (TMC) বিধায়ক তাপস পালের অতীত প্রসঙ্গে টেনে শ্রীলেখা এও উল্লেখ করেছেন যে, "কৃষ্ণনগরে এই একইভাবে প্রয়াত অভিনেতা-বিধায়ক তাপস পাল হুমকি দিয়েছিলেন ‘ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেব’ বলে। সেই কথার সুর এবার কৌশানীর গলাতেও! এখনও ক্ষমতায় আসেননি, তার আগেই এই! এলে কী করবেন?" কৌশানী কি তাহলে কোথাও ঘুরিয়ে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছেন? প্রশ্ন তুলেছেন লাল শিবির সমর্থক শ্রীলেখা মিত্র।
অন্যদিকে এমন ঘটনায় মুখ খুলেছেন বিজেপি নেত্রী তথা অভিনেত্রী রূপা ভট্টাচার্যও। কোনওরকম রেয়াত না করেই তিনি ঘাসফুল শিবিরের তারকা প্রার্থীকে কটাক্ষ করেছেন, "কৌশানি আপনি মূলত একজন অভিনেত্রী। তাই আপনার মধ্যে একজন পরিশীলিত মানুষ (শিল্পী হয়ে উঠতে না পারলেও) থাকা উচিৎ বলে আমি মনে করি। এই কুৎসিত হুমকি দেয়া আপনার মুখে মানায়? যদি মনে করেন, এটা করে আপনি তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের কাছের হবেন, তাহলে জানবেন তাঁরাও আপনার এই দ্বিচারিতাকে মনে মনে ঘৃণা করেন। নেত্রী হওয়া বাদ দিন,আগে তো ভদ্রমহিলা হোন। আপনাদের মতো তথাকথিত অভিনেত্রী তথা নেত্রীদের দেখে লজ্জায় আমাদের মাথা কাটা যায়।"
প্রসঙ্গত, কৃষ্ণনগরে কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের প্রতিপক্ষ বিজেপিপ্রার্থী মুকুল রায়ের নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে এই ভিডিও ভাইরাল হতেই তৃণমূলপ্রার্থী এই নিয়ে তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় ধোঁয়াশা সাফ করার চেষ্টা করেন। তাঁর মা বোনেরা আছে, ভোটটা ভেবে দেবেন, এই কথাটা আমি হুমকির সুরে বলিনি। ইচ্ছা করে অন্য ভাবে এটা ছড়ানো হচ্ছে। আমি আমার টিমকে বলব, পুরো ভিডিওটি প্রকাশ করতে। সাধারণ মানুষ যাতে সবটা দেখতে পান। বিজেপি (BJP) শাসিত রাজ্যগুলিতে নারীরা মোটেই নিরাপদ নন। সেই তুলনায় মমতা সরকারের ক্ষমতায় বাংলার মা-বোনেরা অনেকটাই সুরক্ষিত।” এপ্রসঙ্গে হাথরাস ঘটনারও উল্লেখ করে তিনি বিঁধেছেন পদ্ম-বাহিনীকে। তবে এমন অনভিপ্রেত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সাফাই গাইলেও সমালোচনা থামেনি। বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।