/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/07/sanjeeb-2025-11-07-10-58-15.jpg)
কার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন তিনি?
Sulakshana Pandit Death: প্রবীণ অভিনেত্রী ও গায়িকা সুলক্ষণা পণ্ডিত, যিনি ৭১ বছর বয়সে মুম্বইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন, তিনি ছিলেন হিন্দি সিনেমার এমন এক শিল্পী যার জুরি মেলা ভাড়। তবে তাঁর জীবন জুড়ে ছিল গভীর বেদনা ও হারানোর গল্প। প্রেম, পরিবার ও ক্যারিয়ার, সবকিছুতেই একাধিকবার ভেঙে পড়েছেন তিনি। শেষ জীবনে তিনি বোন বিজয়তা পণ্ডিত ও প্রয়াত ভগ্নিপতি আদেশ শ্রীবাস্তবের পরিবারের সঙ্গে থাকতেন।
সুলক্ষণা পণ্ডিতের জন্ম হয় সঙ্গীত ঐতিহ্যে ভরা এক পরিবারে- তাঁর কাকা ছিলেন কিংবদন্তি সঙ্গীতগুরু পণ্ডিত জসরাজ। নয় বছর বয়সেই তিনি গান গাওয়া শুরু করেন। তার কিছুদিন পর থেকেই মহম্মদ রফি ও কিশোর কুমারের সঙ্গে মঞ্চে পারফর্ম করতে শুরু করেন। মাত্র নয় বছর বয়সে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে "সাত সমুন্দর পার কে" (তকদির, ১৯৬৭) গানটি গেয়ে তিনি প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীতে "চলতে চলতে", "আপনপন" ও "সালাখেঁ"-এর মতো ছবিতে তাঁর কণ্ঠ জনপ্রিয়তা পায়।
Sulakshana Pandit: থামল সুরেলা সফর, প্রয়াত অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী, শোকে আচ্ছন্ন সিনে-পাড়া
তিনি ছিলেন ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী প্রতাপ নারায়ণ পণ্ডিতের মেয়ে এবং সাত ভাইবোনের বড় পরিবারে বেড়ে ওঠেন। যার মধ্যে সুরকার জুটি যতীন-ললিত ও অভিনেত্রী বিজয়তা পণ্ডিতও রয়েছেন। বোন সন্ধ্যা ২০১২ সালে হত্যার শিকার হন, যদিও সুলক্ষণাকে সেই খবর কখনও জানানো হয়নি। বিজয়তা পরে জানান, তিনি বোনকে এই আঘাত থেকে রক্ষা করতে মিথ্যে বলেছিলেন যে সন্ধ্যা এখনও ইন্দোরে বেঁচে আছেন।
সুলক্ষণার জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় ছিল অভিনেতা সঞ্জীব কুমারের প্রতি তাঁর একতরফা ভালোবাসা। ১৯৭৫ সালের ‘উলঝান’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তিনি সঞ্জীবের প্রেমে পড়েন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, "আমি কাউকে এত ভালোবাসিনি যতটা ওকে ভালোবেসেছিলাম।" কিন্তু সঞ্জীব তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তিনি হেমা মালিনীর প্রতি তখনও প্রেম কাটিয়ে উঠতে পারেননি। সেই প্রত্যাখ্যান সুলক্ষণাকে মানসিকভাবে শেষ করে দেয়। ১৯৮৫ সালে সঞ্জীব কুমারের মৃত্যু তাঁর ভেতরকার শক্তিটুকু কেড়ে নেয়। এরপর তিনি আর বিয়ে করেননি।
Kolkata international film festival 2025: ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উজ্জ্বল সব মুহূর্ত, দেখে নিন ছবিতে
পরবর্তীতে, মানসিক অবসাদে ভুগতে ভুগতে তিনি ক্রমে পর্দা থেকে সরে যান। ২০০৬ সালে তিনি বোন বিজয়তা ও আদেশ শ্রীবাস্তবের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন, যারা তাঁকে যত্ন করে আগলে রাখতেন। আদেশের মৃত্যুর পরও তিনি সেই পরিবারেই থাকতেন। অবশেষে, ৬ নভেম্বর ২০২৫ সালে হাসপাতালে নেওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এই কিংবদন্তি শিল্পীর জীবনাবসান ঘটে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us