Tanusree Chakraborty Interview: সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারফেকশন খোঁজা খুব কঠিন, কোনও সম্পর্ককেই আমি জটিল করি না: তনুশ্রী

Tanusree Chakraborty-Deep Fridge: যখন ডিপ ফ্রিজ জাতীয় পুরস্কার পেল আমি সেই মুহূর্তে পুরো ফ্রিজ হয়ে গিয়েছিলাম: তনুশ্রী চক্রবর্তী

Tanusree Chakraborty-Deep Fridge: যখন ডিপ ফ্রিজ জাতীয় পুরস্কার পেল আমি সেই মুহূর্তে পুরো ফ্রিজ হয়ে গিয়েছিলাম: তনুশ্রী চক্রবর্তী

author-image
Kasturi Kundu
New Update
cats

কলকাতায় ডিপ ফ্রিজ মুক্তির দিন ঠান্ডার লেশ মাত্র নেই,আমেরিকার ঠান্ডায় জমে যাচ্ছি: তনুশ্রী

আমেরিকায় ছুটির মুডে, ওখানে ঠাণ্ডা আর কলকাতায় হালকা শীতের আমেজে মুক্তি পেল জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি ডিপ ফ্রিজ...

Advertisment

তনুশ্রী চক্রবর্তী: কলকাতায় তো সেভাবে ঠাণ্ডাই পড়েনি এখনও, তবে এখানে বেশ ভাল ঠান্ডা। তাপমাত্রাটা একটু ওঠানামা করে। সকালে পাঁচ ডিগ্রি-ন'ডিগ্রি থাকে। তবে হঠাৎ করে একদিন মাইনাস দু'ডিগ্রি হয়ে গিয়েছিল, সঙ্গে তুষারপাত। কলকাতায় ডিপ ফ্রিজ মুক্তির দিন ঠান্ডার লেশ মাত্র নেই আর আমেরিকার ঠান্ডায় আমি জমে যাচ্ছি। 

সিনেমার প্রচার, প্রিমিয়ারে থাকতে না পারার জন্য আক্ষেপ হচ্ছে?

তনুশ্রী চক্রবর্তী: হ্যাঁ, খুবই আপশোস হচ্ছে। আসলে টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছিল, ওটা ক্যানসেল করা সম্ভব ছিল না। তাই দূর থেকেই নিজের সাধ্যমতো সিনেমার পাশে থাকার চেষ্টা করছি। তবে একটা কথা, এই সিনেমাটার যা প্রাপ্য ছিল সেটা পেয়ে গিয়েছে। তাই সেই অর্থে আপশোস নেই, তবে এটা মনে হচ্ছে থাকতে পারলে খুব ভাল হত। দুবছর ধরে ছবিটার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি, স্বপ্ন দেখেছি, ফেস্টিভ্যালে নিয়ে গিয়েছি। তাই এখন শুধু সাফল্য উদযাপনের সময়।  

Advertisment

সিনেমার মধ্যে সম্পর্কের বেশ কিছু জটিলতা আছে। তনুশ্রী চক্রবর্তীর নজরে পারফেক্ট রিলেশনশিপ কী?

তনুশ্রী চক্রবর্তী: আমার কাছে পারফেক্ট রিলেশনশিপের কোনও সংজ্ঞা নেই। সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারফেকশন খোঁজাটাই খুব জটিল। তবুও যদি সো কলড পারফেক্ট রিলেশনশিপ কী জানতে চাওয়া হয় তাহলে বলব, যে আমাকে বুঝবে, স্বাধীনভাবে তাঁর সঙ্গে মনের কথা শেয়ার করতে পারব। 

তনুশ্রী চক্রবর্তী কখনও নিজের জীবনে সম্পর্কের জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে? 

তনুশ্রী চক্রবর্তী: আমি কখনও কোনও সম্পর্ককে জটিল করি না। এটা আমি জীবনে মেনে চলার চেষ্টা করি। কোনও বন্ধুর সঙ্গে যখন ঝগড়া হলে সেই মুহূর্তটা খুব জটিল মনে হয়। তবে সম্পর্কে জটিলতা আমার ব্যক্তিগতভাবে একদমই পছন্দ নয়। 

লিপ কিস বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে কোনও বিধিনিষেধ আছে?

তনুশ্রী চক্রবর্তী: আমার কাছে অনেক সময়ই বোল্ড সিন বা লিপ কিস রয়েছে এমন ছবির প্রস্তাব এসেছে। আমি স্ক্রিপ্টটা প্রথমে পড়ে নিই। যদি মনে হয়, সিনেমায় সেটা প্রয়োজনে তাহলে অবশ্যই একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমার সম্মতি থাকে। ডিপ ফ্রিজে লিপ কিসটা প্রয়োজন ছিল। সবসময় আমি এই ধরনের চরিত্রে কমফোর্টেবল সেটা নয়। সবটাই স্ক্রিপ্টের উপর নির্ভরশীল।

একসঙ্গে দুটো সম্পর্কে থাকা খুব স্বাভাবিক? ডিভোর্সের পর সন্তানের দায়িত্বপালন করলেই সে একজন পারফেক্ট বাবা?

তনুশ্রী চক্রবর্তী: একসঙ্গে দুটো সম্পর্কে থাকা আমার মতে কখনই ঠিক নয়। আমি অন্তত মেনে নিতে পারব না।  ডিভোর্সের পর মুভ অন করার বিষয়টা খুব স্বাভাবিক। তবে একটা শিশু তো নিজের ইচ্ছোয় এই পৃথিবীতে আসে না। তার প্রতি মা-বাবা দুজনেরই সমান দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। ডিভোর্সের পরও সন্তানের প্রতি মা-বাবা দুজনের দায়িত্বপালন করা প্রয়োজন বলে আমার মনে হয়। সেক্ষেত্রে পারফেক্ট বাবা-মা হওয়া যায় কিনা সেটা পরিস্থিতির উপর অনেকটাই নির্ভর করে। 

সিনেমায় রবীন্দ্রসংগীতের ব্যবহার দর্শকের কাছে বাড়তি পাওনা...

তনুশ্রী চক্রবর্তী: অবশ্যই, বাংলা সিনেমায় রবীন্দ্র সংগীত দর্শকের কাছে বিরাট প্রাপ্তি। বাঙালি আর রবীন্দ্র সংগীত এক সুতোয় গাঁথা। সিনেমায় রবি ঠাকুরের গানের ব্যবহারটাও ভীষণ সুন্দর। সিক্যোয়েন্সের সঙ্গে মিলিয়েই গানের ব্যবহার হয়েছে। ডিপ ফ্রিজ এমন একটা গল্প যেখানে সমস্ত গান ভীষণ সিচুয়েশানল। 

ডিপ ফ্রিজ শব্দটা শুনলেই প্রথমে কী মনে হয়, মাছ-মাংস নাকি আইসক্রিম রাখার জায়গা?

তনুশ্রী চক্রবর্তী: প্রথমেই যেটা মনে হয় বরফাবৃত একটা শৈত্য জায়গা। তারপর মাছ-মাংস, আইসক্রিম খুব একটা বেশি রাখি না। কারণ রাখলেই খাওয়া হয়ে যায়। তবে বোন যখন কলকাতায় আসে তখন থাকে, ও খেতে ভালবাসে। 

মাকে লুকিয়ে ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম-চকোলেট খাওয়ার মজার কোনও ঘটনা মনে পড়ে?

তনুশ্রী চক্রবর্তী: প্রচুর চকোলেট খেতাম। আমি যখন একদম ছোট তখন আমাদের বাড়িতে ফ্রিজ ছিল না। বোনরা হওয়ার পর ফ্রিজ এল। তবে মামাবাড়িতে ফ্রিজ ছিল আর ওটায় অনেক কোল ড্রিঙ্ক থাকত। আমার মনে আছে আগেকারদিনে যেমন ফ্রিজ হত ঠিক সেইরকম ছিল। ট্রে-তে অনেক বরফ-ও থাকত। যখন ক্লাস ফাইভ-সিক্সে পড়ি তখন আমার বাড়িতে ফ্রিজ এল। সেই সময় রসনা খাওয়ার একটা প্রবণতা ছিল।

ডিপ ফ্রিজের মতো ঠান্ডা ওয়েদার নাকি গরম পছন্দ?

তনুশ্রী চক্রবর্তী: আমার ঠান্ডাই ভাল লাগে। গরম একদম পছন্দ নয়। 

জীবনে এমন কোনও পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন যখন পুরো ফ্রিজ হয়ে গিয়েছেন?

তনুশ্রী চক্রবর্তী: সদ্যই আমার সঙ্গে এইরকম ঘটনা ঘটেছে। যখন ডিপ ফ্রিজ জাতীয় পুরস্কার পেল। টিভিটা খুলে বসেছিলাম এটাই দেখতে যে শেষ পর্যন্ত কী হয়। যখন সিনেমার নাম ঘোষণা হল আমি সেই মুহূর্তে পুরো ফ্রিজ হয়ে গিয়েছিলাম। 

সবাই বলে বাংলা সিনেমার পাশে দাঁড়ান...এরপরও আর বলার প্রয়োজন আছে?

তনুশ্রী চক্রবর্তী: আসলে পরপর অনেকগুলো বাংলা সিনেমার বক্স অফিস কালেকশন ভাল হতে হবে। হল পেতে যাতে সমস্যা না হয় সেটা দেখতে হবে। বাংলা সিনেমা যেন পর্যাপ্ত হল পায়। বাণিজ্যিক ছবি যদি ভাল ব্যবসা না করে তাহলে ডিপ ফ্রিজের মতো ছবি তৈরি হওয়া খুব মুশকিল। হলে দর্শককে আসতে হবে অর্থাৎ সিনেমা চলতে হবে।  

সফল কেরিয়ার-জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবির অভিনেত্রী, এবার মিস টু মিসেস হওয়ার পরিকল্পনা?

তনুশ্রী চক্রবর্তী: না না এখন কোনও পরিকল্পনা নেই। বন্ধুবান্ধবদের বিয়ে আগে এনজয় করি (ফোনের ওপারে হাসি)। এখন শুধু মন দিয়ে কাজ করব।