Tere Ishk Mein movie review: রাঁঝানার আবহ ফিরিয়েও ব্যর্থ, কেমন হল ‘তেরে ইশক মে’ ?

ধনুশ ও কৃতি স্যানন অভিনীত ‘তেরে ইশক মে’ রিভিউ: রাঁঝানার আবহ ফিরিয়ে আনতে চাইলেও ছবিটি ডুবে গেছে বিষাক্ত প্রেম, অতিরিক্ত হিংসা এবং দুর্বল চিত্রনাট্যে।

ধনুশ ও কৃতি স্যানন অভিনীত ‘তেরে ইশক মে’ রিভিউ: রাঁঝানার আবহ ফিরিয়ে আনতে চাইলেও ছবিটি ডুবে গেছে বিষাক্ত প্রেম, অতিরিক্ত হিংসা এবং দুর্বল চিত্রনাট্যে।

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
dhanu

কেমন হল ছবি...

 ২০১৩ সালের রাঁঝানা–য় ধনুশ অভিনীত আন্তঃধর্মীয় প্রেমের গল্পটি দর্শক মনে দাগ কেটেছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে, আনন্দ এল রাই, হিমাংশু যাদব ও নীরজ যাদব সেই আবহকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও তেরে ইশক মে হয়ে উঠেছে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিভ্রান্তিকর অভিজ্ঞতা। এবার ধর্ম নয়, শ্রেণিগত ফারাক- ধনী মেয়ে, গরিব ছেলে- দ্বন্দ্বের মূল। তবে গল্প যত এগোয়, ততই স্পষ্ট হয় যে নির্মাতারা নানা উপাদান গাদাগাদি করে ঢুকিয়েছেন- কলেজ রোমান্স, পারিবারিক বাধা, দেশপ্রেম, রাজনৈতিক রেষারেষি, এমনকি যুদ্ধ- যার ফলে ছবি একসময়ে ভেঙে পড়ে অযৌক্তিক মেলোড্রামা ও অতি-গ্লিসারিনে ভেজা বিশৃঙ্খলায়।

Advertisment

ছবির কেন্দ্রে শঙ্কর চরিত্রে ধনুশ, যিনি এমন একজন প্রেমিকের ভূমিকায়- যে আজকের দিনে কোনও ভাবেই ‘নায়কোচিত’ নয়। সে এক অতি-হিংস্র কলেজ ছাত্র, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেটানোই যার প্রধান কাজ। অন্যদিকে, মুক্তি (কৃতি স্যানন)- প্রথমে যার প্রতি শুধুই একাডেমিক আগ্রহ দেখায়, তার উপর শঙ্করের জোরাজুরি ও স্টকিং বাড়তে বাড়তে একসময় নেশাতে পরিণত হয়। সংলাপ যেমন "আগর মেয়ে প্যার মে পড় গয়া, তো পুরি দিল্লি জালা দুঙ্গা"-তার চরিত্রের বিপজ্জনক স্বরূপ স্পষ্ট করে।

ভাল ছেলে চরিত্রে ক্লান্ত! নেতিবাচক ভূমিকায় ফিরতেই নতুন ইমেজ পেলে অভিনেতা?

Advertisment

২০১৩ সালের রাঁঝানাতেও নায়ক-চরিত্রের আবেগিক অস্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল, কিন্তু তেরে ইশক মে-তে সমস্যা বহুস্তরীয়। শঙ্করের হিংস্র আচরণকে তার মা-হারা শৈশব দিয়ে ব্যাখ্যা করা চলে না, কারণ তার পাশে রয়েছেন দায়িত্বশীল বাবা (প্রকাশ রাজ)। অথচ সে পেট্রোল ছিটিয়ে সম্ভাব্য প্রেমিককে আক্রমণ করা থেকে শুরু করে মুক্তির, আইএএস বাবার (টোটা রায় চৌধুরী) বাড়িতে আগুন বোমা- সবই করে অবলীলায়। এগুলো 'তীব্র প্রেম' নয়; সরাসরি বিষাক্ততা, যা নারী চরিত্রের স্বাধীন সিদ্ধান্তের ধারণাকেও ধ্বংস করে দেয়।

মুক্তির চরিত্রের ট্র্যাজেক্টরি আরও হতাশাজনক; যে মেয়েটি প্রথমে ভয় না পাওয়া বা আপস না করার প্রতীক, পরে তাকেই নেমে যেতে হয় মদ্যপ হতাশার পথে। ছবিতে মোহাম্মদ জিশান আইয়ুবের চরিত্রও সম্পূর্ণ অপচয়- কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না।

Ankush Hazra Exclusive: 'ইউনিভার্সাল প্রবলেম', মা কালী চড় মারলেন অঙ্কুশকে! জমে গেল গল্প..

ধনুশ নিঃসন্দেহে অসাধারণ অভিনেতা, এবং তার তীব্রতা দর্শককে টেনে নেয়। কিন্তু চরিত্রটি একগুচ্ছ 'রেড ফ্ল্যাগ'-এর ঝাঁপ।- বিষাক্ত পুরুষত্ব, অধিকারবোধ, ক্রোধ, হুমকি- যা ২০২৫ সালে এসে ‘নায়ক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক। শঙ্করকে ‘অসভ্য, আলফা, আক্রমণাত্মক’ বলে যেভাবে গৌরবান্বিত করা হয়েছে, তা সমসাময়িক দর্শন ও লিঙ্গ-রাজনীতির প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ বেমানান।

শেষ পর্যন্ত তেরে ইশক মে রাঁঝানার আবেগ নয়, বরং বিভ্রান্তিকর চিত্রনাট্য, বিষাক্ত প্রেমের রোম্যান্টিকাইজেশন এবং অতিরিক্ত মেলোড্রামার এক কোলাহল হয়ে দাঁড়ায়।

ছবির নাম- তেরে ইশক মে
অভিনয়ে- ধনুশ, কৃতি স্যানন, টোটা রায় চৌধুরী 
পরিচালনা- আনন্দ এল রাই 
রেটিং: ১.৫/৫
 

bengali films Bengali Cinema Entertainment News Today