The Academy of Fine Arts Review: লোভ-পাপ-মৃত্যুর গল্প, কেমন হল ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’?

লোভ, ষড়যন্ত্র, হিংসা ও রগরগে উত্তেজনায় ভরপুর ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’—রুদ্রনীল, সৌরভ ও পায়েলের দুর্দান্ত অভিনয়ে তৈরি আধুনিক ডার্ক থ্রিলার।

লোভ, ষড়যন্ত্র, হিংসা ও রগরগে উত্তেজনায় ভরপুর ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’—রুদ্রনীল, সৌরভ ও পায়েলের দুর্দান্ত অভিনয়ে তৈরি আধুনিক ডার্ক থ্রিলার।

author-image
Anurupa Chakraborty
New Update
noname

কেমন হল এই নতুন ছবি...

The Academy of Fine Arts Review: এই দুনিয়ায় সব কাজ-ই ফাইন আর্টিসট্রী সহকারে হয়। কিন্তু, কিছু অন্ধ লোভ সব সম্পর্কের সঙ্গে দাগাবাজি করতে বাধ্য করে সে কথা জয়ব্রত দাসের অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস প্রমাণ করে। এই ছবি নিয়ে নানা বিতর্ক-নানা বচসা হয়েছে। শোনা গিয়েছিল ছবিতে অনেকগুলো কাট রয়েছে এবং এই ছবি প্রাপ্ত- বয়স্কদের জন্য। তাতে যদিও কোনও সন্দেহ নেই। কেমন হল এই বহু আলোচিত ছবি?

Advertisment

মদের বোতল, কেবল একটা মদের বোতল, সব কিছু উল্টে-পাল্টে রেখে দিল। এ এমন এক বোতল-যাকে পাওয়ার ইচ্ছে সবার। যার বিলেতের বাজারে কোটি টাকা দাম। এবং সেই এক বোতল-ই যত সর্বনাশের গোড়া। এই ছবির সঙ্গে বোধহয় একটা বাংলা প্রবাদ খুব ভালভাবে যায়, লোভে পাপ-পাপে মৃত্যু। ছবির শুরুতেই দেখা যায়, এক গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন। ছবির মুল চরিত্রের তালিকায় রয়েছেন, দীনবন্ধু ( রুদ্রনীল ), রাখাল ( রাহুল ), সচীন ( রিশভ ), জীবন ( সৌরভ ) এবং বীরু ( অমিত সাহা )। তাঁরা সকলের মারতে বড্ড ওস্তাদ, লোকের প্রাণ তাঁদের কাছে মশা টিপে মেরে ফেলার মতো। 

তাঁদের সকলের একটাই উদ্দেশ্য, এক বহুমুল্য মদের বোতল বেচে কোটি টাকার মালিক হওয়া। তাঁদের যিনি অর্ডার করছেন তিনি কিমলিং অর্থাৎ সুদীপ। সুযোগের লোভে তাঁর সঙ্গে যার ওঠাবসা তিনি রিচা অর্থাৎ পায়েলের। প্ল্যানের মাস্টারমাইন্ড রুদ্র। হিসেব ছকে কষে নেন সৌরভ এবং ঋষভ। সব মিলিয়ে এক্কেবারে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। কিমলিং-র বহুমুল্য মদের বোতল পাওয়ার আকাঙ্খা সকলের। সকলেই আড়াল থেকে প্ল্যানিং প্লটিং-এ ব্যাস্ত। পজিটিভ চরিত্র এই ছবিতে নেই-ই। সকলেই যেন নানা স্তরের খলনায়ক। গল্প মোড় নেয় অন্যদিকে, যখন কিমলিং-এর সেই মদের বোতল গো-ওয়েন্ট-গন। এদিকে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস যে ব্যক্তিগত রহস্যে ঠাঁসা, সেকথা বলতেই হয়। পরিচয় গোপন করে অনেকেই নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছেন এই ছবিতে। 

Advertisment

ছবিতে গালিগালাজ কিংবা ডায়লগ আর পাঁচটা ছবির থেকে একেবারেই আলাদা। কাব্যিক তো দূরে থাক তবে, এই প্রজন্ম নিজেদের সঙ্গে একটু বেশিই রিলেট করতে পারবে। সাধারণত অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে যে আদলে কথোপকথন হয়ে থাকে ঠিক তাই। আসা যাক, অভিনেতাদের প্রসঙ্গে। রুদ্রনীল এবং সৌরভ- এই ছবির দুই স্তম্ভ। তাঁরা যে কতটা সাবলীল সেকথা না বললেই নয়। এত পরিণত অভিনয় চোখের চাহনি থেকে এক্সপ্রেশন- অভিনয় স্বত্বা যে এত ক্রনিক হতে পারে, তারাই প্রমাণ। ঋষভ বসু এবং পায়েল- দুজনেই যে ধরণের পরিণত অভিনয়, সৌরভ-রুদ্রনীলের গুগলির সামনে ডেলিভার করলেন, প্রশংসা করতেই হয়। সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের কথা না বললেই নয়, একদম ভিন্ন চরিত্রে তিনি। এক বড় ডন যে ছোট্ট কিছুর সামনে কাবু হতে পারেন তিনি এরই প্রমাণ। 

ছবির গল্প প্রসঙ্গে বলতে গেলে, এহেন রগরগে উত্তেজনায় ভর্তি ছবি বাংলা সিনেমায় খুব একটা হয়নি। বাস্তবের সঙ্গে এক্কেবারে মিশ খাওয়ানো একটি ছবি এই প্রজন্মের বেশ পছন্দ হবে। ভায়োলেন্স এই প্রজন্মের কাছে বেশ হিট কনটেন্ট, তাঁর অভাব নেই এই ছবিতে। গল্পের গরু পরিচালক একেবারেই গাছে তোলেননি। বরং এক ক্রনিক রসায়নের সৃষ্টি করেছেন সিনে। বাঙালি অন্যরকম সিনেমায় ছিটকে যেতে বাধ্য। 


ছবির নামঃ দ্যা অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস
পরিচালকঃ জয়ব্রত দাস
অভিনয়েঃ রুদ্রনীল ঘোষ, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌরভ দাস, ঋষভ বসু, পায়েল সরকার, সুদীপ মুখোপাধ্যায় ও অন্যান্য। 
রেটিংঃ ৩.৫/৫ 

Movie Review Bangla Movie Review Bengali Cinema