/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/11/dhar1-2025-11-11-15-59-35.jpeg)
আদৌ কতটা চেনেন ধর্মেন্দ্রকে...?
প্রবীণ বলিউড অভিনেতা ধর্মেন্দ্র আর নেই। সোমবার সকালে মুম্বইয়ে ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি- এ খবরটি পুলিশ সূত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে নিশ্চিত করেছে। গত এক মাস ধরেই অসুস্থ ছিলেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। পবন হংস শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ৮ ডিসেম্বর ধর্মেন্দ্র ৯০ বছরে পদার্পণ করতেন।
অক্টোবরে শ্বাসকষ্টের সমস্যার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখেন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালেই কয়েকদিন অতিরিক্ত সময় রাখা হয়। এ বছরের শুরুতে তাঁর এক চোখে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন (গ্রাফট সার্জারি) করা হয়েছিল।
/indian-express-bangla/media/post_attachments/2024/10/dharmendra-3-838848.jpg?resize=600,443)
পাঞ্জাবের একটি ছোট গ্রামের ছেলে থেকে বলিউডের অন্যতম সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে ওঠা- ধর্মেন্দ্রর যাত্রা ছিল একেবারে চলচ্চিত্রের মতোই নাটকীয়। ৩০০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে ব্লকবাস্টার, ক্লাসিক, আর অবমূল্যায়িত অনেক রত্ন। রাজেশ খান্না কিংবা অমিতাভ বচ্চনের উত্থান- কোনো কিছুই তাঁর স্টারডমকে নাড়া দিতে পারেনি। প্রায়ই তিনি বলতেন, “পুরস্কার কম পেলেও দর্শকদের ভালোবাসাই আমার প্রকৃত স্বীকৃতি।” শোলে-র বীরু হোক, বা চুপকে চুপকে-র হাস্যরসাত্মক চরিত্র, অথবা সত্যকাম-এর গম্ভীর ভূমিকা- প্রতিটি যুগেই নিজের অবস্থান শক্ত রেখেছিলেন তিনি।
Dharmendra Passed Away: সিনে-জগতে নক্ষত্রপতন! ভারতীয় কিংবদন্তির জীবনাবসান
ধর্মেন্দ্রর জীবন ও চলচ্চিত্রযাত্রা
১৯৩৫ সালে পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার সাহনেওয়াল গ্রামে জন্ম। একটি চলচ্চিত্র পত্রিকার প্রতিভা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পর, অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ আরও গভীর হয়। ১৯৬০ সালে, দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে, দিয়ে অভিষেক ঘটে, যদিও সাফল্য আসে পরের বছর শোলা অর শবনম-এর মাধ্যমে। এরপর আনপধ, বন্দিনী-র মতো উল্লেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করেন। সুদর্শন নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি ফুল অউর পাথর-এ প্রথম অ্যাকশন হিরোর ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন, যা তাঁকে দেয় ‘হি-ম্যান অব বলিউড’ খেতাব।
/indian-express-bangla/media/post_attachments/2024/10/sholay-104950.jpg?resize=600,449)
১৯৭০-এর দশকে তিনি একের পর এক সফল চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করেন- জীবন মরন, গুড্ডি, ইয়াদোঁ কি বারাত, চুপকে চুপকে, শোলে, ড্রিম গার্ল, ধরম বীর, দ্য বার্নিং ট্রেন- যার মধ্যে শোলে-র বীরু তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় চরিত্র।
ব্যক্তিগত জীবন
ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর প্রেমগাথা ছিল ঠিক সিনেমার মতো। যদিও তিনি তখন প্রকাশ কৌরের সঙ্গে বিবাহিত এবং চার সন্তানের বাবা- সানি, ববি, অজিতা ও বিজয়তা- তবুও হেমার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও গভীর হয়। পরিবার ও সমাজের বিরোধিতা সত্ত্বেও দুজনেই বিয়ে করেন এবং পরে তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় দুই কন্যা- এশা ও অহনা।
/indian-express-bangla/media/post_attachments/2024/10/haqeeqat-622402.jpg?resize=600,440)
ধর্মেন্দ্র দুটি পরিবারকেই সমানভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। হেমা আলাদা বাড়িতে থাকলেও, পরিবারের সদস্যরা বেশিরভাগ সময়েই একে অপরের প্রতি সম্মান ও সৌহার্দ্য বজায় রেখেছেন।
শেষ জীবনে কাজ ও অবদান
ক্যারিয়ারের শেষদিকে লাইফ ইন এ মেট্রো, জনি গাদ্দার, আপনে, ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা, রকি অর রানি কি প্রেম কাহানি-র মতো ছবিতে তাঁকে দেখা গেছে। তাঁর শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি হবে ইক্কিস, যেখানে তিনি অভিনয় করেছেন অগস্ত্য নন্দার সঙ্গে।
/indian-express-bangla/media/post_attachments/2024/10/dharmendra-2-507223.jpg?resize=600,327)
প্রযোজক হিসেবেও ছিলেন সফল। ১৯৮৩ সালে বিজয়তা ফিল্মস প্রতিষ্ঠা করেন এবং বেতাব, ঘয়াল, বরসাত, সোচা না থা-সহ বহু ছবি প্রযোজনা করেন। তাঁর নাতি করণ দেওলের অভিষেকও হয় তাঁর ব্যানারেই—পাল পাল দিল কে পাস। ঘয়াল-এর জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কার পান। ২০১২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণে ভূষিত করে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us