Bollywood: প্রেমিকের কাছে চূড়ান্ত ঠকলেন, পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে বিয়ে করে সব শেষ! সন্তানকে নিয়ে অভিনেত্রীর..

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর রীনার পরিবার তীব্র আর্থিক সমস্যায় পড়ে। ছোটবেলাতেই অভিনয়ের ইচ্ছা পোষণ করা রীনার জীবনে মোড় আসে, যখন পরিচালক বি.আর. ইশারা তার প্রতি মুগ্ধ হয়ে তাকে, নয়ি দুনিয়া নয়ে লগ ছবিতে নায়িকার চরিত্রে নেন..

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর রীনার পরিবার তীব্র আর্থিক সমস্যায় পড়ে। ছোটবেলাতেই অভিনয়ের ইচ্ছা পোষণ করা রীনার জীবনে মোড় আসে, যখন পরিচালক বি.আর. ইশারা তার প্রতি মুগ্ধ হয়ে তাকে, নয়ি দুনিয়া নয়ে লগ ছবিতে নায়িকার চরিত্রে নেন..

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
reena

কে এই অভিনেত্রী...

১৯৭০ এবং ৮০-এর দশকে রীনা রায় ছিলেন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তবে সাফল্যের পথে পৌঁছানোর আগে তাকে পার করতে হয়েছে নানা উত্থান-পতন। বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ থেকে শুরু করে আর্থিক অনটন, এরপর ধীরে ধীরে পর্দায় নিজের জায়গা তৈরি—সবকিছুই তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

Advertisment

শুরুর জীবন

রীনার জন্ম সায়রা আলী নামে। তার মা শারদা রায় এবং বাবা সাদিক আলী। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর রীনা এবং তার ভাইবোনেরা মায়ের সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এই সময় মা সন্তানদের নাম পরিবর্তন করেন এবং সায়রা আলী হয়ে ওঠেন রূপা রায়।

আর্থিক সংকট ও সিনেমায় প্রবেশ

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর রীনার পরিবার তীব্র আর্থিক সমস্যায় পড়ে। ছোটবেলাতেই অভিনয়ের ইচ্ছা পোষণ করা রীনার জীবনে মোড় আসে, যখন পরিচালক বি.আর. ইশারা তার প্রতি মুগ্ধ হয়ে তাকে, নয়ি দুনিয়া নয়ে লগ ছবিতে নায়িকার চরিত্রে নেন। ছবিটি স্থগিত থাকলেও তিনি শিগগিরই জরুরত (১৯৭২)-এ অভিনয়ের সুযোগ পান। সাহসী দৃশ্য থাকা সত্ত্বেও রীনা চ্যালেঞ্জটি নিয়েই ফেলেন। এ ছবির সময়ই ইশারা তার নাম পরিবর্তন করে রাখেন রীনা রায়। যদিও ছবিটি ব্যর্থ হয়, তবুও রীনা সকলের নজরে আসেন।

এরপর তিনি অভিনয় করেন মিলাপ, জঙ্গল মে মঙ্গল, জৈসে কো তাইসা, মাধোষসহ আরও কয়েকটি ছবিতে। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে বলিউডের অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে, ১৯৭৬ সাল রীনার জন্য মাইলফলক হয়ে ওঠে। সে বছর মুক্তি পায় দুটি বড় হিট—নাগিন এবং সুভাষ ঘাই পরিচালিত প্রথম ছবি কালীচরণ। এই সাফল্য তাকে রাতারাতি তারকা করে তোলে এবং ইন্ডাস্ট্রিতে তার অবস্থান দৃঢ় করে।

শত্রুঘ্ন সিনহার সঙ্গে সম্পর্ক

কালীচরণ ছবির সময় থেকেই রীনা ও শত্রুঘ্ন সিনহার প্রেমের গুঞ্জন ভয়ঙ্করভাবে ছড়ায়। তারা একসঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজও করেন। প্রায় সাত বছর এই সম্পর্ক টিকে ছিল বলেও শোনা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত শত্রুঘ্ন বিয়ে করেন পুনম চন্দিরামানিকে। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকারও করেছিলেন যে, সেই সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন ছিল এবং ফল সবার জন্য সুখকর হয়নি।

মহসিন খানের সঙ্গে বিবাহ ও বিচ্ছেদ

ব্যক্তিগত জীবনের বড় পরিবর্তন আসে ১৯৮৩ সালে। রীনা পাকিস্তানি ক্রিকেটার মহসিন খানকে বিয়ে করেন। তাদের কন্যা সনম (জন্ম নাম জান্নাত) জন্ম নেয়। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই, সম্পর্কে দূরত্ব বাড়তে থাকে। মহসিন হিন্দি ছবিতে অভিনয়ের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন এবং লন্ডনে চলে যান। রীনা ভারতে থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে, এতেই দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন শুরু হয়।

এই সময় রীনা অনেক সমালোচনার মুখে পড়েন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, পাঞ্জাবে শুটিং চলাকালীন এক ব্যক্তি মাতাল অবস্থায় এসে তাকে প্রশ্ন করেছিলেন- “পুরো ভারতে কাউকে পেলেন না, বাইরে গিয়ে বিয়ে করতে হলো?”

অবশেষে তাদের বিবাহ ভেঙে যায়। প্রথমে কন্যার হেফাজত মহসিন পান। তবে তার পুনর্বিবাহের পর, রীনা দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে অবশেষে সন্তানের হেফাজত ফিরে পান। পরবর্তীতে তিনি জানান, এই কঠিন সময়ে তিনি বহু সাধু-সন্তের আশীর্বাদ ও পরামর্শ নিয়েছিলেন।

bollywood actress Entertainment News Today