Saroj Khan: দেবদাস মুক্তির দিন হাসপাতালে প্রায় অচৈতন্য! কী ভাবে মাটিতে শুয়ে 'ডোলা রে'-এর কোরিওগ্রাফ করেছিলেন সরোজ?

Saroj Khan Birthday: শুটিং চলাকালীন তিনি প্রচণ্ড যন্ত্রণায় রীতিমতো কাতরাচ্ছিলেন এবং পরিস্থিতি এতটাই কঠিন ছিল যে মাটিতে শুয়েই কোরিওগ্রাফ করেছেন। সরোজ খানের জন্মদিনে রইল দেবদাস-এর ডোলা রে ডোলা গানের নেপথ্যে কোরিওগ্রাফারের কঠিন লড়াইয়ের কাহিনি।

Saroj Khan Birthday: শুটিং চলাকালীন তিনি প্রচণ্ড যন্ত্রণায় রীতিমতো কাতরাচ্ছিলেন এবং পরিস্থিতি এতটাই কঠিন ছিল যে মাটিতে শুয়েই কোরিওগ্রাফ করেছেন। সরোজ খানের জন্মদিনে রইল দেবদাস-এর ডোলা রে ডোলা গানের নেপথ্যে কোরিওগ্রাফারের কঠিন লড়াইয়ের কাহিনি।

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
cats

সরোজের লডা়ই

Saroj Khan-Devdas: প্রতিটি হিন্দি সিনেমার নিজস্ব গান-নাচের একটি ধারা আছে আর নয়ের দশকের ছেলেমেয়েদের সরোজ খানের কোরিওগ্রাফ করা গানগুলোর প্রতি ছিল অমোঘ আকর্ষণ। 'এক দো তিন', 'চোলি কে পিছে', 'নিম্বুডা নিম্বুডা'-র মতো জনপ্রিয় গানগুলো পপ কালচারের অংশ হয়ে উঠেছিল, কিন্তু তাঁর ক্যারিয়ারে প্রথম জাতীয় পুরস্কার এনে দেয় দেবদাস ছবির “ডোলা রে ডোলা”। ইসমাইল দরবারের সুরে, নুসরত বদরের কথায়, শ্রেয়া ঘোষাল ও কাবিতা কৃষ্ণমূর্তির কণ্ঠের জাদুতে তৈরি এই গান এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বর্য রায়ের পরা শাড়ি ও গয়না হয়ে উঠেছিল ফ্যাশনে দুনিযার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এমনকি ২১ বছর পরে করণ জোহর তাঁর রকি অউর রানি কি প্রেম কাহিনি-তে এই গানটির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন।

Advertisment

দেবদাস ছিল সঞ্জয়লীলা ভনসালি পরিচালিত যুগে যুগে সমাদৃত ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রায় ৫০ কোটি টাকা বাজেটের এই ছবির শুটিং ছিল অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য আর 'ডোলা রে ডোলা'-র শুটিং ছিল তার চেয়েও কঠিন। গানটিকে কেরিয়ারের সবচেয়ে কঠিন বলে উল্লেখ করেছিলেন সরোজ খান এবং বলেছিলেন এটি তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি।

 মাধুরী আর ঐশ্বর্যর নাচের দ্বৈরথ ছিল সবচেয়ে চিন্তার বিষয়। দু’জনেই শীর্ষ অভিনেত্রী এবং অত্যন্ত পারদর্শী নৃত্যশিল্পী। ফলে পুরো মিউজিক ভিডিওজুড়ে দর্শকের একটা তুলনা করার প্রবণতা ছিল,কে এগিয়ে থাকবেন? সরোজ খান এই ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন এবং তাঁকে নিশ্চিত করেছিলেন দু’জনেরই নাচের সুযোগ থাকবে যাতে না মনে হয় একজনকে অন্যজনের তুলনায় বেশি সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

Advertisment

আরও পড়ুন এবার ছোট পর্দায় টলিপাড়ার জ্যেষ্ঠপুত্রর ধামাকা, কার সঙ্গে দেখা যাবে মেগাস্টার প্রসেনিজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে?

ঐশ্বর্য না মাধুরী—কে পেলেন ভাল স্টেপ?

২০১২ সালে মুম্বাই মিরর-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন সরোজ বলেছিলেন, 'মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বর্য রাই দু’জনেই অসাধারণ নৃত্যশিল্পী এবং আমি কাউকেই এটা অনুভব করাতে পারি না তিনি ভাল স্টেপ পাননি। আমি ভয় পাচ্ছিলাম, কেউ একজন হয়তো নিজেকে বঞ্চিত মনে করবেন কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে কিছুই হয়নি। তিনি জানান, দু’জনের প্রস্তুতির ধরন ছিল একেবারে আলাদা। মাধুরী কয়েকদিন রিহার্সালের পর প্রস্তুত হয়ে সেটে পৌঁছাতেন আর ঐশ্বর্যা সেটেই রিহার্সাল করতেন।

অসুস্থ ছিলেন সরোজ

তবে শুটিংয়ের সময় সরোজ খান অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন। পরিচালক কুইন্ট-কে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, শুটিং চলাকালীন তিনি প্রচণ্ড যন্ত্রণায় রীতিমতো কাতরাচ্ছিলেন এবং পরিস্থিতি এতটাই কঠিন ছিল যে মাটিতে শুয়েই কোরিওগ্রাফ করেছেন। তাঁর কথায়, 'সরোজজি খুবই অসুস্থ ছিলেন। তিনি মাটিতে শুয়ে নির্দেশ দিতেন। টানা ১৫ দিন শুট করেছিলেন।' তবে পর্দায় কিন্তু এই যন্ত্রণার ছাপ পড়তে দেননি সরোজ খান এবং গানটি মুক্তি পাওয়ার পর ১৭টি পুরস্কার জিতেছিলেন।

আরও পড়ুন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারফেকশন খোঁজা খুব কঠিন, কোনও সম্পর্ককেই আমি জটিল করি না: তনুশ্রী

দেবদাস মুক্তির সময় সরোজের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। মুক্তির দিন সঞ্জয়লীলা বনসালি ও ঐশ্বর্য তাঁকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন। তখনও তিনি প্রায় অচেতন অবস্থায় জানতে চেয়েছিলেন,দর্শক গানের প্রশংসা করেছে কিনা। বনসালি সেই সাক্ষাৎকারের সঞ্চালককে বলেছিলেন, 'ভাবুন তো! এমন অবস্থাতেও তিনি জানতে চাইছিলেন তাঁর কাজ দর্শকের কেমন লাগল।'

সম্পর্কের অবনতি

বনসালি মনে করতেন কোরিওগ্রাফিতে সরোজ খানের অবদান ঠিক ততটাই যতটা চিত্রনাট্য লেখার ক্ষেত্রে সেলিম-জাভেদের অবদান ছিল। তবে পরবর্তীতে তাঁদের পেশাগত সম্পর্কের অবনতি ঘটে। টকিং সিনেমা-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরোজ অভিযোগ করেছিলেন রাম চাহে লীলা গানের জন্য তাঁর কোরিওগ্রাফি ব্যবহার করা হয় কিন্তু তাঁকে পারিশ্রমিক বা কৃতিত্ব কোনওটাই দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন ফারহানের মুখোমুখি রীতেশ-বিবেক-আফতাব, প্রথমদিনে বক্স অফিস আয়ের নিরিখে কে এগিয়ে? 'মস্তি ৪' নাকি '১২০ বাহাদুর'

saroj khan