/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/21/sabu-2026-02-21-19-04-45.png)
যা বলেছিলেন তিনি...
টালিগঞ্জের আকাশে তখন গুজবের মেঘ ঘনিয়ে উঠেছে। খবরের কাগজে ছাপা হয়েছে- উত্তম কুমার নাকি বালিগঞ্জের একটি ফ্ল্যাটে থাকছেন সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে। চারদিকে কানাঘুষো, আলোড়ন। সেই সময়েই এক বিকেলে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় খবর পেলেন- উত্তম বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সাবিত্রী এক মুহূর্ত দেরি করেননি। তিনি তাঁকে নিজের টালিগঞ্জের বাড়িতে ডেকে পাঠালেন। ঘরের ভেতর এক অদ্ভুত নীরবতা। অনেক না-বলা কথা যেন বাতাসে ভাসছে। কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর সাবিত্রী ধীরে বলেছিলেন, “তুমি তো আমাকেও ভালবেসেছিলে, তাহলে আজ কেন তোমার পরিবার ছেড়ে চলে যাচ্ছ? অন্যকে কাঁদিয়ে তুমি সুখী হতে পারবে না।” তাঁর কণ্ঠে অভিযোগের চেয়ে বেশি ছিল উদ্বেগ। টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমনটাই প্রকাশিত হয়েছিল।
রাগে-প্রেমে শেষ আশ্রয় হোক নিজের ভাষা: মাতৃভাষা দিবসে সোহিনীর আবেদন
সাবিত্রী পরে এক সাক্ষাৎকারে স্মরণ করেছিলেন, “আমার বাবা কখনও আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করেননি। তিনি তাঁর মেয়ের উপর ভরসা করতেন।” অথচ এই চলচ্চিত্র জগতে আসার বিরোধী ছিলেন তিনিই। দেশভাগের পর সংসারের টানাপোড়েনে উপার্জনের দায় এসে পড়েছিল সাবিত্রীর কাঁধে। ভালোবাসা, সম্পর্ক- এসব ভাবার অবকাশই ছিল না।
উত্তম ছিলেন তাঁর প্রথম প্রেম। “তার সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে প্রেম কী, জানতাম না,” বলেছিলেন তিনি। দু’জনের বয়সের ফারাক ছিল বেশ। উত্তম কখনও মজা করে বলতেন, “তুমি তো গৌতমের চেয়ে একটু বড়।” কিন্তু সেই রসিকতার আড়ালে ছিল এক গভীর টান।
Do Deewane Seher Mein movie review: রম-কম নাকি ক্লান্তিকর ড্রামা? হতাশ করল ‘দো দিওয়ানে সেহের মে’
উত্তম মাঝে মাঝে সাবিত্রীর বাড়িতে আসতেন। কালাইয়ের ডাল, পোস্ত খেতেন। বোন সোনাদির পাশে বসে, নিজের দুঃখের কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলতেন। সাবিত্রী বলতেন, “আমার জীবনও খুব দুঃখের ছিল। আমাদের সম্পর্কটা শব্দের স্বাভাবিক অর্থে প্রেম ছিল না; সহানুভূতি থেকে জন্ম নেওয়া ভালোবাসা।”
শেষবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় উত্তম নাকি বলেছিলেন, “আমি গৌরীকে ভালোবাসি। আর এই প্রসঙ্গে বলি, তোমাকেও ভালোবাসতাম।” সেই স্মৃতি আজও সাবিত্রীর কণ্ঠে রয়ে গেছে এক মৃদু ব্যথার মতো- নিঃশব্দ, কিন্তু গভীর।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us