/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/dhar-2025-11-24-17-58-34.jpeg)
ধরমজির বাংলার প্রতি একটা অমোঘ আকর্ষণ ছিল: প্রভাত রায় (GFX-সন্দীপন দে)
প্রভাত রায়
অভিনেতা হওয়ার লক্ষ্যে কলকাতা ছেড়ে মুম্বই গিয়েছিলাম। সেটা অবশ্য এখন কম-বেশি প্রত্যেকেই জানে। আমার সিকিওরড লাইফ ছেড়ে অনিশ্চয়তার জীবনে ঝাঁপ দিয়েছিলাম। মহানগরী ছেড়ে পারি দিয়েছিলাম মায়ানগরী। কিন্তু, অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে অনেকটা সময় প্রয়োজন ছিল, এদিকে মুম্বইয়ের জীবনযাপন বেশ ব্যায়সাপেক্ষ। তাই তখন আমি শখকে সাইডলাইন করে সহকারী পরিচালকের কাজ করা শুরু করি। প্রমোদ ফিল্মসে যখন সহকারী পরিচালক হিসেবে 'জুগনু'-তে কাজ করছিলাম তখন আমার কাজ ছিল কাজ ছিল ক্ল্যাপস্টিক হ্যান্ডেল করা। সামনে ধরমজি আর আমার হাতে ক্ল্যাপস্টিক। প্রচণ্ড ভয় লাগছিল। এতটাই নার্ভাস ছিলাম যে হাত থেকে ক্ল্যাপস্টিক পরে গিয়েছিল।
/indian-express-bangla/media/post_attachments/9d0933c7-a18.jpg)
সেই সময় ধরমজি আমার কাছে এগিয়ে এসে বলেছিলেন, এত ভয় পাচ্ছ কেন? আমি তো বাঘ-ভাল্লুক তো নই। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করো, একদিন অনেক বড়মাপের পরিচালক হবে। এভাবেই প্রথমদিন আমাকে সাহস জুগিয়েছিলেন। এরপর অনেক ছবিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। অনেক পার্টিতে দেখা হয়েছে। আমাকে ভীষণ ভালবাসতেন। বলিউডের অনেকের সঙ্গেই খুব ভাল পরিচয় ছিল, তাঁরাও আমাকে স্নেহ করতেন।
আরও পড়ুন ধরমজির সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত, প্রত্যেকটি কথা সারাজীবন হৃদয়ে আগলে রাখব: একাবলী খান্না
ধরমজি নিজে জীবনে যে স্ট্রাগলটা করেছিলেন সেই গল্প আমাকে শোনাতেন যাতে আমি অনুপ্রাণিত হই। পকেটে তখন অত টাকা ছিল না তাই সান্টা ক্রুজ থেকে বান্দ্রা হেঁটে যেতেন। শুটিংয়ের ফাঁকে সেই গল্প আমাকে শুনিয়েছেন। অনেক মজার গল্পও করতেন। নতুন শহরে একটা অল্পবয়সী ছেলে যদি এমন কোনও মানুষের সান্নিধ্য পায় সেটা তাঁর মনোবল বৃদ্ধি করে। ভালভাবে কথা বললে নিজেকে অনেকটাই সিকিওরড মনে হয়। ধরমজি ছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন।
আরও পড়ুন 'বাবিও বিশ্বাস করেন কোনও এক জন্মে আমি হয়ত ওঁরই সন্তান ছিলাম', পিতৃদিবসে আবেগপ্রবণ প্রভাত কন্যা একতা
আজও ওঁর সুন্দর চেহারাটা চোখের সামনে ভাসে। উনি এত সুন্দর দেখতে...!! এরকম সুন্দর হিরো বোধহয় দ্বিতীয় কেউ নেই। গ্রীক গডের মতো একটা ব্যাপার ছিল ওঁর চেহারায়। ধরমজির বাংলার প্রতি একটা অমোঘ আকর্ষণ ছিল। উত্তম কুমার-সুচিত্রা সেনকে খুব সম্মান করতেন। আমি যখন শুটিং করতাম তখন শক্তি সামন্তের অফিসে এসে উত্তম কুমারকে প্রণাম করতেন। এই দুজনের সঙ্গে কাজ করারও প্রবল ইচ্ছে ছিল। যখনই দেখা হত জানতে চাইতেন কলকাতায় কী হচ্ছে। সত্যজিৎ রায়, তরুণ মজুমদারের প্রতিও গভীর ভালবাসা ছিল।
সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অনুলিখন
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us