/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/26/vikrant-massey-2026-01-26-22-41-57.jpeg)
খুব অল্প বয়সেই তাঁকে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়
‘টুয়েলভথ ফেল’-এর মতো ছবির মাধ্যমে বিক্রান্ত ম্যাসি আজ একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত অভিনেতা। কিন্তুতাঁর এই সাফল্যের পথ মোটেই সহজ ছিল না। তাঁর জীবনের গল্প শুধুই গ্ল্যামার বা তারকাখ্যাতির নয়, বরং কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও বাস্তব সংগ্রামের এক অনন্য দলিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্মরণ করেছেন ফেলে আসা দিনগুলোর কথা, যখন পড়াশোনার খরচ চালাতে এবং পরিবারের আর্থিক চাপ সামলাতে তাঁকে একসঙ্গে দু’টি চাকরি করতে হতো, এবং দিনে প্রায় ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হতো।
বিক্রান্ত জানান, খুব অল্প বয়সেই তাঁকে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল। ক্যামেরার সামনে আসার সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে তখন কোন স্বপ্নপূরণের বিষয় ছিল না, ছিল একান্ত প্রয়োজনের তাগিদ। পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ায় নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁকে রোজগার করতেই হতো। তাই মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, “আমি দুঃখের গল্প বানাতে চাই না বা সংগ্রামের কথা জোর করে তুলে ধরতে চাই না। আমি শুধু যা করেছি, সেটাই করেছি কারণ আমাকে করতেই হয়েছিল।”
তিনি স্মরণ করেন, সেই সময় তাঁর জীবন ছিল ভীষণ কষ্টকর। প্রতিদিন চারটি লোকাল ট্রেন বদল করে তাঁকে মুম্বই শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটতে হতো। সকালে এক কাজ, দুপুরে আরেক কাজ, তারপর আবার প্রশিক্ষণ, এইভাবেই কেটে যেত দিনের পর দিন।
খাবারের প্রসঙ্গ উঠলে বিক্রান্তের কথায় উঠে আসে জীবনের নির্মম বাস্তবতা। তিনি বলেন, “আমার বয়স যখন মাত্র ১৬, তখন বেঁচে থাকার জন্য প্রায়ই শুধু পার্লে-জি বিস্কুট আর জল খেয়ে থাকতাম। অনেক সময় চা খাওয়ারও সুযোগ পেতাম না।” তিনি আরও বলেন, “কেউ নিজের ইচ্ছায় এমন জীবন বেছে নেয় না, বিশেষ করে কোনো অল্পবয়সী ছেলে তো নয়ই। আমি করেছিলাম কারণ আমার আর কোনো উপায় ছিল না।”
আরও পড়ুন: বনগাঁয় হেনস্থার শিকার মিমি চক্রবর্তী! অপমানের অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ, পাল্টা তোপ আয়োজকদের
আজ ৩৮ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে তিনি যখন পেছনে ফিরে তাকান, তখন কৃতজ্ঞতার সঙ্গেই সবকিছু মনে করেন। তাঁর কথায়, “পেশাগত জীবনের ২১ বছর পরেও দর্শকরা যদি আমাকে এত ভালোবাসা দেন, তাহলে নিজেকে সত্যিই ভাগ্যবান মনে হয়। আমি টেলিভিশন দিয়ে শুরু করেছিলাম, প্রায় এক দশক সেখানে কাজ করেছি, তারপর সিনেমায় এসেছি। ভালোবাসা শুধু বাড়ছেই।”
আরও পড়ুন: সুরে সুরে ইতিহাস গড়লেন কলকাতার কন্যা অলকা ইয়াগনিক! পদ্মভূষণে সম্মানিত হয়ে ধন্যবাদ জানালেন শ্রোতাদের
‘টুয়েলভথ ফেল’ ছবিতে অভিনয়ের সময় নিজের বাস্তব জীবনের এই সংগ্রামের অভিজ্ঞতাই তিনি কাজে লাগান। ছবির চরিত্রের মানসিক চাপ, অনিশ্চয়তা আর টিকে থাকার লড়াই তিনি খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পেরেছিলেন, কারণ সেই পথ তিনি নিজেও একদিন হেঁটে এসেছেন। বিক্রান্ত ম্যাসির গল্প তাই শুধু একজন অভিনেতার উত্থানের কাহিনি নয়, বরং অদম্য ইচ্ছাশক্তি, দায়িত্ববোধ আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলার উদাহরণ।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us