/indian-express-bangla/media/media_files/2025/04/18/EYzQwgQZGibJAOhnbfUA.jpg)
ক্যানসারের মতো মারণরোগ নিয়ে লুকোচুরি
কিংবদন্তি অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ বিনোদ খান্না, ২০১৭ সালের এপ্রিলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে মূত্রাশয়ের ক্যান্সারের কথা জানা গেলেও, জীবনের এক পর্যায়ে তিনি ফুসফুসের ক্যান্সারের সঙ্গেও লড়াই করেছিলেন- এই তথ্যটি খুব কম মানুষেরই জানা। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী কবিতা খান্না নিজের ইউটিউব চ্যানেলের প্রথম ভিডিওতে এই অজানা অধ্যায় তুলে ধরেছেন এবং বিনোদের ক্যান্সার-যুদ্ধের বিস্তৃত বিবরণ দিয়েছেন।
কবিতার কথায়, ২০০১ সালে বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়ই প্রথম ধরা পড়ে বিনোদের ফুসফুসে দাগ। পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকেরা জানান, সেটি ফুসফুসের ক্যান্সার। সেই সময় বিনোদ দিনে ৪০ থেকে ৮০টি সিগারেট পর্যন্ত ধূমপান করতেন। মুম্বাইয়ের একাধিক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শের পর চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর ফুসফুসের একটি অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাদ দিতে হবে। যদিও তাঁরা আশ্বাস দেন, এরপরও স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব হবে।
Arijit Singh: প্লেব্যাক ছেড়ে শাস্ত্রীয় সুরে মন, অরিজিতের গানে মুগ্ধ রবি-কন্যা অনুস্কা, বললেন...'আমার মন আজ'
তবে এই কঠিন সময়ে বিনোদ ও কবিতা বিষয়টি গোপন রাখেন এবং অস্ত্রোপচারের আগে আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবি শঙ্করের পরামর্শ নেন। গুরুদেব তাঁদের বলেন, চাইলে এক-দু’মাস অপেক্ষা করে শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন ও ধ্যানের মাধ্যমে শরীরকে প্রস্তুত করা যেতে পারে। চিকিৎসকদের অনুমতি পাওয়ার পর বিনোদ ঋষিকেশের আশ্রমে যান এবং সেখানে নিয়মিত সুদর্শন ক্রিয়া শুরু করেন।
কবিতা জানান, পরে তাঁরা বিদেশে পরীক্ষা করাতে গেলে চিকিৎসকেরা অবাক হয়ে যান। একাধিক রিপোর্টে দেখা যায়, ক্যান্সারের কোনো চিহ্ন নেই। চিকিৎসকেরা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি যে এই রোগ সম্পূর্ণ সেরে যেতে পারে।
Ayesha Khan: ঋতুস্রাবের মধ্যেই ‘শরারত’ গানে নাচ, হিট আইটেম গানে নাচতে নাচতে কেঁদে ফেলেছিলেন আয়েশা!
তবে সুস্থতার সেই অধ্যায় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০১০ সালে তাঁর মূত্রাশয়ে নতুন করে ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানান, প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি নিলে তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। সেই সময় বিনোদ আবার গুরুদেবের পরামর্শ নেন এবং আশ্রমে থেকে পঞ্চকর্মের মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করেন। কিছুদিন পর পরীক্ষায় দেখা যায়, ক্যান্সারের চিহ্ন নেই।
কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। কবিতার কথায়, গুরুদেব তাঁকে মদ্যপান ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কারণ তিনি প্রতিদিন এক-দু’গ্লাস করে মদ্যপান করতেন। ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক শক্তি কমতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত মূত্রাশয়ের ক্যান্সারেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট, আধ্যাত্মিকতা ও ধ্যান বিনোদ খান্নার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, বিশেষ করে তাঁর শেষ কয়েকটি বছরে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us