/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/24/lata-rafi-2025-12-24-09-50-45.jpg)
কী হয়েছিল তাঁদের মধ্যে?
১৯৩০-এর দশকে, টকি চলচ্চিত্রের সূচনার পর থেকেই হিন্দি ছবির সঙ্গে সংগীত অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে যায়। ১৯৪০-এর দশকে সংগীত যখন ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করতে শুরু করে, তখনই সুরকার, গীতিকার ও গায়কেরা জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই সময়েই জন্ম নেন কিছু কিংবদন্তি, যারা পরবর্তী কয়েক দশক ধরে হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতকে শাসন করেন। গায়কদের মধ্যে বিশেষভাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন মহম্মদ রফি ও লতা মঙ্গেশকর। দু’জনের কণ্ঠই একসময় হিন্দি সংগীতের সমার্থক হয়ে দাঁড়ায়। যদিও আরও অনেক গুণী শিল্পী ছিলেন, রফি ও লতার জনপ্রিয়তা ছিল অতুলনীয়। তবে এই বিপুল খ্যাতিই শেষ পর্যন্ত তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
লতা মঙ্গেশকর ও মহম্মদ রফির প্রথম যৌথ রেকর্ডিং হয় ১৯৪৭ সালে, ‘শাদি সে পেহলে’ ছবির গান ‘চলো হো গয়ি তৈয়ার’-এ। গানটি আজ খুব বেশি পরিচিত না হলেও, এটিই হিন্দি সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম সেরা কোরাস জুটির সূচনা। এরপর ‘বাইজু বাওরা’, ‘মাদার ইন্ডিয়া’, ‘কোহিনুর’, ‘মেরে মেহবুব’-সহ বহু ছবিতে তাঁদের যুগল কণ্ঠ শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। ১৯৬০-এর দশকে তাঁরা ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জুটি হয়ে ওঠেন। কিন্তু ১৯৬৩ সাল তাঁদের সম্পর্কের ওপর কালো ছায়া ফেলে।
এই বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল রয়্যালটি। লতা মঙ্গেশকর বিশ্বাস করতেন, গায়কদের গান যতদিন বাজবে, ততদিন তাঁদের পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত- যেমনটি হলিউডে প্রচলিত। তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, সমস্ত গায়কের জন্য রয়্যালটির দাবি তোলেন। তাঁর মতে, এটি প্রবীণ শিল্পীদের জন্য এক ধরনের আর্থিক নিরাপত্তা হিসেবেও কাজ করতে পারত। তবে রফি এই ধারণার বিরোধিতা করেন। তিনি মনে করতেন, একবার গান গেয়ে পারিশ্রমিক নেওয়াই যথেষ্ট, প্রযোজকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া ঠিক নয়।
মিউজিশিয়ানস অ্যাসোসিয়েশনের এক বৈঠকে এই মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। লতা পরে জানান, সেই সভায় রফি মন্তব্য করেছিলেন- “আমরা যা পাই, সেটাই শেষ।” এমনকি তাঁকে ‘মহারাণী’ বলেও কটাক্ষ করা হয়, যার পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি লতা। এই ঘটনাই দু’জনের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয় এবং প্রায় তিন বছর তাঁরা একসঙ্গে রেকর্ড করেননি। এই রয়্যালটি বিতর্ক কখনও মিটে যায়নি। ২০১২ সালে কপিরাইট আইনের সংশোধনের আগ পর্যন্ত, গায়কদের রয়্যালটির অধিকার স্বীকৃতি পায়নি। এমনকি রফির পরিবারও তাঁর গানের মাধ্যমে কোনও রয়্যালটি পাননি।
আরও পড়ুন - ‘৯৯’-এর সেটে মাতাল বিনোদ খান্না? নেশার মধ্যেই কীভাবে অনবদ্য অভিনয় করেন বিনোদ?
রফির মৃত্যুর (১৯৮০) পর এই বিতর্ক নতুন মোড় নেয়। লতা দাবি করেন, তিনি রফির কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়ার একটি চিঠি পেয়েছিলেন। কিন্তু রফির ছেলে শাহিদ রফি সেই দাবি অস্বীকার করে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানান এবং লতার বক্তব্যকে “নিরাপত্তাহীনতা থেকে আসা” বলে মন্তব্য করেন। চিঠিটি কখনও প্রকাশ্যে আসেনি, আর বিতর্কও সেখানেই থেমে যায়। ফলে, দু’জন কিংবদন্তির সম্পর্ক থেকে যায় রহস্য আর আক্ষেপে মোড়া এক অধ্যায় হয়ে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us