বড় খবর

বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু- মামলায় মূল বিষয়গুলি কী কী

উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং, যিনি ১৩ জনের অন্যতম হলেও তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ পুনর্গঠন সম্ভব হয়নি, কারণ রাজস্থানের রাজ্যপাল হওয়ায় তিনি সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচ পেয়েছিলেন।

babri conspiracy
২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট আদবানি, জোশী ও উমা ভারতীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা ফিরিয়ে আনে এবং দুটি মামলাকে একত্র করার নির্দেশ দেয়
লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালতে বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় অভিযুক্তদের বয়ান নেওয়া শুরু হল। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বরিষ্ঠ বিজেপি নেতা এল কে আদবানি, কল্যাণ সিং, উমা ভারতী, ব্রিজ ভূষণ সরণ সিং, এবং সাক্ষী মহারাজ। বিজেপি নেতা বিনয় কাটিয়ার, প্রাক্তন সাংসদ রাম বিলাস বেদান্তী ও আরও চারজন বৃহস্পতিবার আদালতে হাজিরা দেন। সময় না থাকায় আদালত কেবলমাত্র বিজয় বাহাদুর সিংয়ের বয়ান লিপিবদ্ধ করে এবং অন্যদের শুক্রবার আদালতে হাজিরা দিতে বলে।

অভিযোগকারীর সাক্ষীদের পরীক্ষা সমাপ্ত হওয়ার পর আদালত ৪ জুন থেকে সমস্ত অভিযুক্তের বয়ান নেওয়ার কথা বলেছিল। এঁরা সকলেই ফৌজদারি কার্যবিধির ৩১৩ ধারায় অভিযুক্ত। ৩১৩ ধারার অধীনে বিচারপতি অভিযুক্তকে বিচার চলাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে আনা প্রমাণাদির ভিত্তিতে প্রশ্ন করেন, এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যপারে তৎকালীন পরিস্থিতির ব্যাখ্যার সুযোগ দেন। এই প্রক্রিয়া সমাপ্ত হলে অভিযুক্ত পক্ষ নিজেদের পক্ষে প্রমাণ দাখিল করতে পারে।

গত বছর নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলার রায় দিয়েছিল।

বাবরি মসজিদ ধ্বংস চক্রান্ত কী?

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। ১৯৭/৯২ নং এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল যেসব করসেবকরা মসজিদ ধ্বংস করেছে তাদের বিরুদ্ধে, এবং ১৯৮/৯২ নং এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল আদবানি, জোশী, উমা ভারতী, শরণ সিং, বিজেপি রাজ্যসভা সদস্য বিনয় কাটিয়ার, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা অশোক সিংঘল, গিরিরাজ কিশোর, বিষ্ণু হরি ডালমিয়া, সাধ্বী ঋতম্ভরা এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে। এঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল এঁরা উত্তেজক ভাষণ দিয়ে করসেবকদের খেপিয়ে দিয়েথিলেন। আরও ৪৭টি মামলা দায়ের হলেও, সেগুলি সবই একটি মামলার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। বাল ঠাকরের নামও ছিল, তবে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর নাম সরিয়ে দেওয়া হয়।

সিবিআইয়ের বক্তব্য ছিল প্রথম মামলা থেকেই যেহেতু দ্বিতীয় মামলার উৎপত্তি ফলে দুটি আলাদা এফআইআরে অভিযুক্তদের পৃথক করা যাচ্ছে না, ফলে প্রথম এফআইআরে উল্লিখিত সকল অভিযুক্তই ষড়যন্ত্র মামলায় যুক্ত বলে বিচার করা হোক।

 বিচার

দুটি আলাদা মামলার বিচার পৃথকভাবে হয়। লখনউ আদালতে মসজিদ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র মামলা হয়, রায়বেরিলি আদালতে হয় ধ্বংস করার জন্য লোক খেপানোর মামলার বিচার। দুটি ঘটনারই তদন্ত করেছিল সিবিআই।

 

২০১০ সালের মে মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে। নিম্ন আদালত আদবানিদের বিরুদ্ধে ওঠা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়। সিবিআই এর বিরুদ্ধে ৯ মাস পরে আবেদন করে, এবং আদবানি ও অন্যান্যরা দেরিতে আবেদন করার কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি চান। মামলা আটকে যায়, সিবিআইকে বলা হয় দেরির কারণ আদালতের পক্ষে সন্তোষজনক উপায়ে ব্যাখ্যা করতে।

২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট আদবানি, জোশী ও উমা ভারতীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা ফিরিয়ে আনে এবং দুটি মামলাকে একত্র করার নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্ট লখনউয়ে বিশেষ আদালত (অযোধ্যা প্রকরণ) গঠন করে দিয়ে সেখানে শুনানি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়। যাঁদের বিরুদ্ধে আগে হাইকোর্ট মামলা খারিজ করে দিয়েছিল, তেমন ১৩ জনের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালত চার্জ বহাল করে। একই সঙ্গে রায়বেরিলিতে যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা চলছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারা যুক্ত করতে বলে সুপ্রিম কোর্ট।

২০১৭ সালে লখনউ আদালত বিজেপির আদবানি, জোশী, ঊমা ভারতী এবং আরও ৯ জনের বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ ধ্বংস ষড়যন্ত্র মামলায় চার্জ গঠন করার নির্দেশ দেয়।

উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং, যিনি ১৩ জনের অন্যতম হলেও তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ পুনর্গঠন সম্ভব হয়নি, কারণ রাজস্থানের রাজ্যপাল হওয়ায় তিনি সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচ পেয়েছিলেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে তাঁর রাজ্যপালের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁর সে সুরক্ষাকবচ হারায় এবং তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠিত হয়। তিনি বর্তমানে জামিনে ছাড়া রয়েছেন।

গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট লখনউয়ের বিশেষ আদালতে এই মামলার রায় দেওয়ার তারিখ ৩১ অগাস্ট, ২০২০ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে।

চার্জ

আদবানি, জোশী, উমা ভারতী, কল্যাণসিং এবং অন্যদের বিরুদ্ধে বিশেষ সিবিআই আদালত চার্জ গঠন করে ২০১৭ সালে। তাদের চার্জ গঠনের ভিত্তি ছিল ১৯৯৩ সালের ৮ অক্টোবর সিবিআইয়ের দাখিল করা চার্জশিট। ওই চার্জশিটে অভিযোগ করা হয়েছিল, আদবানি বারংবার বলেছেন ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় যে করসেবা হবে, তা “কেবল ভজন কীর্তন নয়, তার মধ্য থাকবে শ্রীরামের মন্দির তৈরিও।”

চার্জশিটে মুরলী মনোহর জোশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল তদন্তে জানা গিয়েছে, জোশী ১৯৯২ সালের ১ ডিসেম্বর অযোধ্যা যাওয়ার পথে মথুরায় বলেছিলেন কোনও শক্তি রাম মন্দির নির্মাণ আটকাতে পারবে না এবং তিনি ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২-এ মঞ্চ থেকে করসেবকদের বিতর্কিত সৌধ ধ্বংস করতে উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং উত্তেজক স্লোগান দিয়েছিলেন।

চার্জশিটে উমা ভারতী সম্পর্কে বলা হয়েছে কিনি ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর চিৎকার করে বলেছিলেন, “এক ধাক্কা ঔর দো, বাবরি মসজিদ তোড় দো।”   এ ছাড়াও “মসজিদ গিরাও, মন্দির বানাও বাবর কি ঔলাদ কো পাকিস্তান ভাগাও”, “জিন্নাহ বোলে জয় শ্রীরাম”-এর মত স্লোগানও দিয়েছিলেন ঊমা ভারতী।

Get the latest Bengali news and Explained news here. You can also read all the Explained news by following us on Twitter, Facebook and Telegram.

Web Title: 228155babri masjid demolition case what is all in it

The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com